বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: শ্রমিকের অধিকার ও আগামীর বাংলাদেশ: মহান মে দিবস ২০২৬

১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকদের বুকের রক্তে ভেজা সেই অধিকার আদায়ের লড়াই আজ এক বৈশ্বিক চেতনার নাম। ২০২৬ সালের এই মে দিবসে দাঁড়িয়ে আমরা যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন দেখি শ্রমিকের অধিকার আর মর্যাদা রক্ষার লড়াইটি কেবল আট ঘণ্টা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা এখন উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই যুগে শ্রমিকের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক নতুন চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে।
বিগত দশকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তরণের এই যাত্রায় প্রধান কারিগর হলেন আমাদের মেহনতি মানুষ। পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণÑসবখানেই শ্রমিকের ঘামের গন্ধ মিশে আছে।
তবে মুদ্রাস্ফীতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে প্রশ্ন জাগে, শ্রমিক কি তার ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে? বাজারের ঊর্ধ্বগতির সাথে পাল্লা দিয়ে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি আজও অনেক ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর অনেক উন্নতি হলেও, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিশাল এক অংশ আজও রয়ে গেছে সব ধরনের সুরক্ষার বাইরে।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। প্রযুক্তির দ্রুত উত্থান বা অটোমেশন অনেক ক্ষেত্রে কায়িক শ্রমের জায়গা দখল করে নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার লড়াই। প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হলে সাধারণ শ্রমিকদের আধুনিক যন্ত্রপাতির সাথে পরিচিত করা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। চাকরির নিরাপত্তায় যন্ত্র যেন মানুষের বিকল্প না হয়ে পরিপূরক হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মে দিবস মানে কেবল বর্ণিল র‌্যালি বা বক্তৃতার মঞ্চ নয়। মে দিবসের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে শ্রমিকের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মধ্যে। আমাদের মনে রাখতে হবেÑশ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দেওয়া ইসলামের শিক্ষা এবং আধুনিক শ্রম আইনের মূল ভিত্তি। অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা বার্ধক্যে শ্রমিকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাষ্ট্রীয় বীমা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। কাগজে-কলমে থাকা আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগ মাঠ পর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবেÑ”শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্কই হলো টেকসই উন্নয়নের চাবিকাঠি।”
পরিশেষে, ২০২৬ সালের এই মে দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোকÑএমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে কোনো শ্রমিক শোষিত হবে না। শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা কোনো দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। মে দিবসের লাল সালাম পৌঁছে যাক বাংলার প্রতিটি কলকারখানা আর মেহনতি মানুষের ঘরে ঘরে। জয় হোক মেহনতি মানুষের।

Ads small one

তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: জমে উঠেছে নির্বাচনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি: জমে উঠেছে নির্বাচনের লড়াই

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন। আগামী ১৬ মে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং শুরু হয়েছে জোর প্রচার-প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে লড়াই হচ্ছে দ্বিমুখী। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষÑপ্রতিটি পদেই দুজনে করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্রার্থীরা হলেনÑ সভাপতি পদে সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল ইসলাম এবং কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ কুমার হালদার।
সাধারণ সম্পাদক পদে কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সজীবুদ্দৌলা এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। কোষাধ্যক্ষ পদে খলিশখালী মাগুরা কে এম এস সি কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অজয় কুমার দাশ ও ফলেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজ কবির।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তালিকায় রয়েছেন উপজেলার ৮০০ জন শিক্ষক প্রতিনিধি। আগামী ১৬ মে তালা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণ করা হবে। সেদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট চলবে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। জয়ের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে ভোট ও দোয়া চাইছেন প্রার্থীরা। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষকদের অধিকার রক্ষা এবং পেশাগত মানোন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার শোনা যাচ্ছে তাঁদের মুখে।
সাধারণ শিক্ষকদের মাঝেও নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৬ মে শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কার হাতে নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেন ভোটাররা।

ধুলিহরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ধুলিহরে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম ২

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ধুলিহর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুইজন গুরুতর জখম হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ধুলিহর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ধুলিহর গ্রামের শংকর অধিকারী (৫৫) ও তার ছেলে রতন অধিকারী (৩৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের জেরে এদিন সকালে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পলাশ চৌধুরী, সজিবসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে বাবা-ছেলে গুরুতর জখম হন।
আহত রতন অধিকারীর অভিযোগ, “আমাদের জমির বাঁশ জোর করে কাটতে আসে তারা। বাধা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
শংকর অধিকারী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তারা আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করছে। আজকে সুযোগ পেয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে সদর থানার একটি সূত্র জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ
বাম্পার ফলনেও হাসি নেই সাতক্ষীরার কৃষকের মুখে

 

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: মাঠজুড়ে সোনালি ধানের সমারোহ। সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদে বোরোর বাম্পার ফলন দেখে প্রথম নজরে মনে হতে পারে কৃষকের সুদিন ফিরেছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি উল্টো। তীব্র তাপপ্রবাহ, শ্রমিক সংকট আর হঠাৎ বৃষ্টির আশঙ্কায় সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকার ধান চাষিদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের কষ্টের ফসল এখন তাঁদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৮০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৮২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ফলন আশাতীত ভালো হলেও তা ঘরে তোলা নিয়ে শুরু হয়েছে চরম ভোগান্তি।
বৈশাখী খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমে কাহিল জনজীবন। এর প্রভাব পড়েছে ধান কাটার মাঠেও। সদর ও তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, তীব্র রোদের কারণে শ্রমিকেরা দীর্ঘক্ষণ মাঠে কাজ করতে পারছেন না। স্থানীয় শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে শ্রমিক আনতে হচ্ছে।
তালা উপজেলার বাইগুলি গ্রামের কৃষক সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, “১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি, ফলনও ভালো। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে বাইরে থেকে বেশি দামে মানুষ আনতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের দামের পর এখন মজুরি দিতে গিয়ে পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়।” ফটিক দাশ নামে আরেক কৃষক জানান, মজুরি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় তিনি নিজেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন।
কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে ধান কাটতে গিয়েও বিপাকে পড়ছেন চাষিরা। অনেক জায়গায় নিচু জমির ধান বাতাসে মাটিতে নুয়ে পড়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে অনেক চাষির কাটা ধান ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষক কুতুব উদ্দিন মোড়ল বলেন, “আকাশের অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি নামলেই গতবারের মতো ধান নষ্ট হবে। তাই খরচের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত ধান বাড়ি নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
কৃষকদের বড় অভিযোগ ধানের বাজারদর নিয়ে। তাঁরা জানান, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মজুরি উঠছে না। তার ওপর জ্বালানি সংকটে পরিবহনের জন্য ট্রলি বা ভ্যান পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।
বাইরে থেকে আসা শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর আমরা এ সময় বাড়তি আয়ের আশায় এখানে আসি। কিন্তু এবার যে রোদ আর গরম, তাতে আগের মতো কাজ করা যাচ্ছে না। মালিকের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “জেলায় ধানের খুব ভালো ফলন হয়েছে। শ্রমিকের কারণে কিছুটা দেরি হলেও ইতিমধ্যে ৪৪ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় পরিবহন সমস্যা কিছুটা আছে। আশা করছি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে মাঠের বাকি ধান কৃষকের ঘরে উঠে যাবে।”