সুলতানপুরে তেলের বাজারে সিন্ডিকেট: বিপাকে সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র সুলতানপুর বড় বাজারে ভোজ্য তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গুদামে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত রেখে প্রতিদিন বাড়ানো হচ্ছে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। গত বুধবার প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হলেও থামছে না এই অস্থিরতা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বুধবার সুলতানপুর বড় বাজারে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে মেসার্স হাজি ট্রেডার্স থেকে ৪২১ ব্যারেল (প্রতি ব্যারেল ১৮৫ কেজি) এবং সাধু স্টোর থেকে ২০৪ ব্যারেল অবৈধভাবে মজুত করা তেল উদ্ধার করা হয়। মজুতদারির অপরাধে হাজি ট্রেডার্সকে ২০ হাজার টাকা এবং সাধু স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ভোজ্য তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকার নতুন করে দাম না বাড়ালেও সুলতানপুর বাজারের সিন্ডিকেট প্রতিদিন কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাজারে আসা এক ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, “বাজারে কোনো তদারকি নেই। বুধবার যে দামে তেল কিনেছি, বৃহস্পতিবার সকালে এসে দেখি তার চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে এভাবে প্রতিদিন বাড়তি দামে তেল কেনা অসম্ভব।”
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বরাবরের মতোই দায় চাপাচ্ছেন ঢাকার ওপর। তাদের দাবি, ঢাকা থেকেই বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে এবং সরবরাহ কম। তবে সরবরাহ সংকটের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তারা। সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, এটি পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের কারসাজি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, বাজার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসনের এনডিসি জানিয়েছেন, অভিযানের পর তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শুধু নামমাত্র জরিমানা নয়, বরং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বাজারের এই ‘তেলবাজি’ বন্ধ করা হোক।







