বেহাল সড়কই এখন সাতক্ষীরা শহরের মরণফাঁদ!
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সার্কিট হাউস মোড়। পাশেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসভবন। অথচ এই ‘ভিআইপি’ এলাকার প্রধান সড়কটিই এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির নাম। উন্নয়নের নামে রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা কর্দমাক্ত হয়ে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
গত কয়েক দিন শহর ঘুরে দেখা গেছে, কার্পেটিং করা রাস্তার আর কোনো চিহ্ন নেই। সড়কজুড়ে কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার মস্ত বড় গর্ত। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান। পথচারীদের অবস্থা আরও করুণ; কাদা মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নাজেহাল হতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, মোজাহিদুল ইসলাম, রেজাউল ইসলামসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শহরের ভেতরের রাস্তার যদি এই দশা হয়, তবে গ্রামগঞ্জের অবস্থা কী? প্রতিদিন কেউ না কেউ এই কাদার গর্তে পড়ে আহত হচ্ছে। আমরা চরম যন্ত্রণার মধ্যে আছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।”
ভোগান্তি কেবল সার্কিট হাউস মোড়েই সীমাবদ্ধ নয়। শহরের প্রাণকেন্দ্র তুফান কোম্পানির মোড় থেকে কেষ্ট ময়রার ব্রিজ হয়ে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কের কোথাও ‘আস্ত’ জায়গা নেই। একই চিত্র পিএন স্কুল মোড় থেকে ডে-নাইট কলেজ পেরিয়ে সুলতানপুর পিটিআই মোড় পর্যন্ত। গড়েরকান্দা গফুর সাহেবের ব্রিজ থেকে চালতেতলা বাজার সড়কের অবস্থাও অভিন্ন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড় থেকে মাছখোলাগামী সড়কের ব্যবহারকারীরা। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, এই সড়ক দিয়ে মাছখোলা, পারমাছখোলা, গাছা, খড়িয়াডাঙ্গা ও তালার খলিষখালি পর্যন্ত অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কটিতে কাদা গলে পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। তবে দ্রুতই সংস্কার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তাঁরা আর মৌখিক আশ্বাস চান না, বরং দৃশ্যমান কাজ চান। দীর্ঘ সময় ধরে ড্রেনেজ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ চলায় এবং সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র মাটি ও বালু স্তূপ করে রাখায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষের এই ‘নজরবন্দি’ দশা থেকে মুক্তি পেতে জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শহরবাসী।







