বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরে প্রবাসীর পথ বন্ধ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রবাসীর পথ বন্ধ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ

সংবাদদাতা: শ্যামনগরে এক আমেরিকা প্রবাসীর দীর্ঘ ২০ বছরের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহা. জিল্লুর রহমানের জমিতে প্রবেশের একমাত্র পথটি রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি ও তার পরিবার।

ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমান জানান, গত ২০ বছর ধরে তারা যে পথে যাতায়াত করছেন, সেই পথের সামনের সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) খাস জমিতে সম্প্রতি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন স্থানীয় মো. শফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আয়েশা খাতুন। এতে প্রবাসীর প্রাচীরবেষ্টিত নিজস্ব জমিতে প্রবেশের পথটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বাধা দিতে গেলে শফিকুল ইসলাম ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা থানায় অভিযোগ করলে বিবাদী শফিকুল ইসলাম গভীর রাতে নিজের ঘরে নিজে আগুন দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। তবে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করে জানান, অগ্নিকা-ের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো ছিল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে একাধিকবার বসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শফিকুল ইসলাম সালিসে বড় অঙ্কের অর্থের দাবি করায় এবং বিচারকদের সিদ্ধান্ত না মানায় কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সালিসেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা চেয়ে গত ৯ এপ্রিল শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা প্রবাসে থাকি, কিন্তু দেশে এসে আমাদের নিজের জমিতে প্রবেশ করতে পারছি না। উল্টো আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি।”

শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।