সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৌয়াল আহত
এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে বাবলু গাজী (৪৮) নামে এক মৌয়াল গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক গাজীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ফিরে আসা মৌয়ালদের কাছ থেকে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকাল ৮টার দিকে মাঝি ইউসুফ গাজীর নেতৃত্বে একদল মৌয়াল সুন্দরবনের পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধু ভাঙতে যান। হঠাৎ একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ঝোপের আড়াল থেকে এসে তার ওপর আক্রমণ চালায়।
সঙ্গে থাকা অন্য মৌয়ালরা চিৎকার ও লাঠিসোটা নিয়ে এগিয়ে এলে বাঘটি সরে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবলু গাজীকে উদ্ধার করে প্রথমে বনসংলগ্ন এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আহতের পিতা মালেক গাজী বলেন, “আমরা একসাথে মধু ভাঙতে উঠেছিলাম। হঠাৎ বাঘ এসে আমার ছেলেকে আক্রমণ করে। আল্লাহর রহমতে সে এখনো জীবিত আছে।”
আক্রান্ত বাবলু গাজীর স্বজনরা জানান, তার শরীরের কয়েকটা স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফিরে আসা মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। বাঘের আতঙ্ক নিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন তারা।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাঘের আক্রমণের মতো দুর্ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে। আহত মৌয়ালের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।

Ads small one

পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মোঃ সাকিব গাজীকে (২১) গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আটক সাকিব গাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সফিকুল গাজীর ছেলে।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ মে সোমবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার শিবসা ঘাট সংলগ্ন একটি বাড়িতে উপজেলা প্রশাসন ও খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সাকিবকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে গাঁজা বিক্রির নগদ ৬ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফজলে রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারা অনুযায়ী সাকিব গাজীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানকালে খুলনা বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মোঃ সফিয়ার রহমানসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#

কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী পূর্ব কৈখালী গ্রামের মোঃ জয়নাল সরদারের কন্যা মোছাঃ সাহানারা পারভীনের বসত বাড়িতে দূর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে তার ভুক্তভোগী পরিবারের বহু টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহানারার বসত বাড়ীর প্রাচীরের সাথে বিচুলী রাখার ঘর আছে। গত ১১ই মে (সোমবার) গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা কৌশলে সাহানারার বসত বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাইরের লাইট ভেঙ্গে ফেলে এবং বিচুলী ঘরে আগুন দেয়। রাত্র ২ টার দিকে শাহানারার বড় বোন হোসনেয়ারা বাইরে এসে দেখে বিচুলী ঘরে আগুন জ্বলছে।

 

তখন সে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন ছুটে আসে এবং বালতিতে করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আগুনে বিচুলীসহ ঘর ভস্মীভুত হয়। এ বিষয়ে সাহানারা বলেন, আমি কৈখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ভোট করি। যার কারনে আমার বাড়ীর আশে পাশে অনেক শত্রু। পূর্ব শত্রুতা ও আমার ক্ষতি সাধনের জন্য আমার অনুপস্থিতিতে আমার বসত বাড়ীতে গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, ভুক্তিভোগী আমার এখানে আসছিল। লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।
সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন দায়ের করেন।আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।