প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম: সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
আমানউল্লা আল হাদী
প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম স্যার ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্তব্যপরায়ণ একজন অধ্যক্ষ। ১৯৯৩ সালে তাঁর হাত ধরেই আমার চাকরি জীবনের সূচনা। প্রায় সাত বছর তাঁর সান্নিধ্যে থেকে কাজের ধরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও চাকরির নিয়মকানুন শেখার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। স্যার ছিলেন সময়নিষ্ঠার প্রতীক-সকলে তাঁকে “সকাল ৮:৩০-এর গাড়ি” বলেই চিনতেন। তাঁর শৃঙ্খলাবোধ আমাদের জন্য ছিল এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা-কলারোয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি বহিঃপরীক্ষক ছিলেন। আমাকে দেওয়া একটি লবণ (কেমিস্ট্রি নমুনা) আমি পরীক্ষা না করেই দেখে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। স্যার আমাকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি কোনো প্রশ্নেও তিনি আমাকে থামাতে পারেননি। তবুও তাঁর কঠোর মূল্যায়নের কারণে আমি ২০-এর বেশি নম্বর পাইনি-যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতারই প্রমাণ।
কর্মজীবনে তিনি আমাদের শুধু শিক্ষা দেননি, দেখিয়েছেন কিভাবে সৎ থাকতে হয়। অবসর জীবনে সাতক্ষীরা জেলায় তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে “আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ ও আজীবন সদস্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে শহরে জমিসহ একটি বড় স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে-যা অনেক জেলার জন্যই এখনো স্বপ্ন।
কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর আন্তরিক সম্পর্ক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আজও যে বড় বড় গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে-তার বেশিরভাগই তিনি নিজ বাড়িতে চারা উৎপাদন করে রোপণ করেছিলেন। এ কাজে মালি মেছের আলী ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর। ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রফেসর রফিউদ্দীন স্যার তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি কলেজ তহবিলে ১৩ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা জমা রেখে বিদায় নিয়েছিলেন-যা তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য নজির।
নিঃসন্তান এই মহৎ মানুষটি আজ সকাল ৯টায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছি, অবসর জীবনেও তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি।
আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
লেখক: প্রফেসর আমানউল্লা আল হাদী, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।












