সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম: সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম: সততা, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

আমানউল্লা আল হাদী

প্রফেসর মো. খায়রুল ইসলাম স্যার ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও কর্তব্যপরায়ণ একজন অধ্যক্ষ। ১৯৯৩ সালে তাঁর হাত ধরেই আমার চাকরি জীবনের সূচনা। প্রায় সাত বছর তাঁর সান্নিধ্যে থেকে কাজের ধরণ, সততা, দায়িত্ববোধ ও চাকরির নিয়মকানুন শেখার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। স্যার ছিলেন সময়নিষ্ঠার প্রতীক-সকলে তাঁকে “সকাল ৮:৩০-এর গাড়ি” বলেই চিনতেন। তাঁর শৃঙ্খলাবোধ আমাদের জন্য ছিল এক অনুকরণীয় উদাহরণ।

আমার জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা-কলারোয়া কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি বহিঃপরীক্ষক ছিলেন। আমাকে দেওয়া একটি লবণ (কেমিস্ট্রি নমুনা) আমি পরীক্ষা না করেই দেখে শনাক্ত করতে সক্ষম হই। স্যার আমাকে আন্তরিকভাবে প্রশংসা করেছিলেন। এমনকি কোনো প্রশ্নেও তিনি আমাকে থামাতে পারেননি। তবুও তাঁর কঠোর মূল্যায়নের কারণে আমি ২০-এর বেশি নম্বর পাইনি-যা তাঁর ন্যায়পরায়ণতারই প্রমাণ।

কর্মজীবনে তিনি আমাদের শুধু শিক্ষা দেননি, দেখিয়েছেন কিভাবে সৎ থাকতে হয়। অবসর জীবনে সাতক্ষীরা জেলায় তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে “আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্থ সংগ্রহ ও আজীবন সদস্য সংগ্রহ করেছেন। তাঁর উদ্যোগে শহরে জমিসহ একটি বড় স্থায়ী ভবন নির্মিত হয়েছে-যা অনেক জেলার জন্যই এখনো স্বপ্ন।

কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর আন্তরিক সম্পর্ক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে আজও যে বড় বড় গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে-তার বেশিরভাগই তিনি নিজ বাড়িতে চারা উৎপাদন করে রোপণ করেছিলেন। এ কাজে মালি মেছের আলী ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহচর। ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রফেসর রফিউদ্দীন স্যার তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে তিনি কলেজ তহবিলে ১৩ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা জমা রেখে বিদায় নিয়েছিলেন-যা তাঁর সততা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য নজির।

নিঃসন্তান এই মহৎ মানুষটি আজ সকাল ৯টায় আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে যা শিখেছি, অবসর জীবনেও তা অনুসরণ করার চেষ্টা করি।

আল্লাহ রব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রফেসর আমানউল্লা আল হাদী, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।

 

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মোঃ সাকিব গাজীকে (২১) গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আটক সাকিব গাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সফিকুল গাজীর ছেলে।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ মে সোমবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার শিবসা ঘাট সংলগ্ন একটি বাড়িতে উপজেলা প্রশাসন ও খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সাকিবকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে গাঁজা বিক্রির নগদ ৬ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফজলে রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারা অনুযায়ী সাকিব গাজীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানকালে খুলনা বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মোঃ সফিয়ার রহমানসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#

কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী পূর্ব কৈখালী গ্রামের মোঃ জয়নাল সরদারের কন্যা মোছাঃ সাহানারা পারভীনের বসত বাড়িতে দূর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে তার ভুক্তভোগী পরিবারের বহু টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহানারার বসত বাড়ীর প্রাচীরের সাথে বিচুলী রাখার ঘর আছে। গত ১১ই মে (সোমবার) গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা কৌশলে সাহানারার বসত বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাইরের লাইট ভেঙ্গে ফেলে এবং বিচুলী ঘরে আগুন দেয়। রাত্র ২ টার দিকে শাহানারার বড় বোন হোসনেয়ারা বাইরে এসে দেখে বিচুলী ঘরে আগুন জ্বলছে।

 

তখন সে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন ছুটে আসে এবং বালতিতে করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আগুনে বিচুলীসহ ঘর ভস্মীভুত হয়। এ বিষয়ে সাহানারা বলেন, আমি কৈখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ভোট করি। যার কারনে আমার বাড়ীর আশে পাশে অনেক শত্রু। পূর্ব শত্রুতা ও আমার ক্ষতি সাধনের জন্য আমার অনুপস্থিতিতে আমার বসত বাড়ীতে গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, ভুক্তিভোগী আমার এখানে আসছিল। লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্ট

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন।
সোমবার (১১ মে) রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও লঙ্ঘন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিল। শুধু একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরিচালিত অনাগত শিশুর ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ থাকা প্রয়োজন।

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ৬ মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদালত আরও উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম আইন দ্বারা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।

রায়ে আদালত এ নির্দেশনাকে “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেন, যাতে ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন আদালত তদারকি করতে পারেন।

২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান গর্ভের শিশুর পরিচয় প্রকাশ বন্ধে এ রিট আবেদন দায়ের করেন।আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।