বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আশাশুনিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আশাশুনিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা মোড় এলাকায় মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়াড়িদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে চারটায় কুল্যা ও বুধহাটা সচেতন গ্রামবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর ফলে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এই ভয়ংকর ব্যাধি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে মাদকসেবী, ব্যবসায়ী এবং জুয়াড়িদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তাঁরা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

হাফেজ আছাফুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা ইউসুফ আলী, আশাশুনি প্রেসক্লাব সভাপতি এস কে হাসান, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব মেহেদী হাসান, জাহাঙ্গীর হোসেন, এস কে রাজা, রুবেল হোসেন, মুফতি বেলাল হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করেন, “মাদক ও জুয়া আমাদের শান্ত এলাকাকে অশান্ত করে তুলছে। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান না চালালে এলাকাবাসী আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।”

মানববন্ধনে কুল্যা ও বুধহাটা গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। তাঁরা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পাটকেলঘাটায় বিষ দিয়ে ঘেরের মাছ লুট, বাধা দেওয়ায় মালিককে কুপিয়ে জখম
পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় গভীর রাতে মৎস্য ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে চোরচক্রের হামলায় শিমুল ইসলাম নামের এক ঘের মালিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে থানার দক্ষিণ অঞ্চলের চোমরখালী বিলে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চোমরখালী গ্রামের রুবেল মোড়ল, আব্দুল্লাহ মোড়ল, সোবান সরদার ও শিমুল সরদারসহ আটজন অংশীদার মিলে ওই বিলে মাছের চাষ করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে একদল দুষ্কৃতকারী তাঁদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ মরে ভেসে ওঠে। বিষক্রিয়ায় মাছগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়লে দুষ্কৃতকারীরা তা জাল দিয়ে ধরতে শুরু করে।

মাছ ধরার শব্দ পেয়ে ঘের মালিক শিমুল ইসলাম অন্ধকারে এগিয়ে যান এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুষ্কৃতকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত ক্লিনিকে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী চাষিরা জানান, “আমাদের তিলে তিলে গড়ে তোলা স্বপ্ন এক রাতেই শেষ করে দিল বিষপ্রয়োগকারীরা। মাছ লুটের পাশাপাশি বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। আমরা এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।”

এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

উপকূলীয় এই অঞ্চলে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে। মাছ চাষিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।