শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বড়বস্থা খাল এলাকায় বনরক্ষীদের অভিযানে বিষের বোতল ও মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দ হওয়ার ঘটনাটি আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই অভিযান আবারও প্রমাণ করল যে, বিশ্বের এই বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের অভ্যন্তরে অবৈধ ও বিধ্বংসী কর্মকা- এখনো থামেনি। বরং এক শ্রেণির অসাধু মানুষ বনের অমূল্য সম্পদ ধ্বংস করে নিজেদের পকেট ভারী করতে মরিয়া।
বিষ দিয়ে মাছ শিকার কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক ধরনের ‘রাসায়নিক সন্ত্রাস’। শিকারিরা যখন খালের পানিতে বিষ ঢালে, তখন কেবল বড় মাছই মারা যায় না; বরং ওই পানির সংস্পর্শে থাকা সমস্ত জলজ প্রাণীÑঅসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা, কাঁকড়া, কচ্ছপ এবং অণুজীব নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে। বনের হরিণ বা বাঘ যখন ওই দূষিত পানি পান করে, তখন তাদের জীবনও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের মতো একটি স্পর্শকাতর বনভূমিতে এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক শিকারিদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আমরা মনে করি, কেবল মামলা বা নথিপত্র ভারি করাই যথেষ্ট নয়। অতীতে দেখা গেছে, মামলার পর যথাযথ তদারকির অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হয়। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকলে এই অসাধু চক্র কখনোই পিছু হটবে না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাছ মারার এই বিষ আসছে কোথা থেকে? স্থানীয় বাজারগুলোতে কি খুব সহজেই এসব রাসায়নিক বা বিষ পাওয়া যাচ্ছে? বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত বিষের সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সোর্স’ চিহ্নিত করা। যদি বিষের সহজলভ্যতা বন্ধ করা না যায়, তবে বনের গহীনে অভিযান চালিয়ে এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হবে।
বন বিভাগ টহল জোরদার ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা তার দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। একই সাথে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকেও সচেতন করে তুলতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে, সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও বনভূমি ধ্বংস হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বেন তারাই। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অহংকার এবং প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ; একে বিষমুক্ত রাখা এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কোনো একক দপ্তরের নয়, বরং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Ads small one

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত, নতুন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেস ক্লাবের কার্যালয়ে সভাপতি শেখ আব্দুল মমিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন সরদারের সঞ্চালনায় এ সভা হয়।

সভায় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জোরুল হক, সহসভাপতি নাজমুল হক খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জামান মনি, মো. মুজিবুর রহমান, প্রভাষক ফিরোজ আহমেদ, আতাউর রহমান বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রেস ক্লাবের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ক্লাব পরিচালনায় নতুন নির্বাচন আয়োজনের উদ্দেশ্যে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের বাঁচার লড়াই: প্রতিশ্রুতি ও সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলা এখন এক চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। বারবার আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততার আগ্রাসন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকাকে প্রতিদিন বিপন্ন করছে। সম্প্রতি কপোতাক্ষ নদের তীরে ৫ হাজার ম্যানগ্রোভ ও ৮০০ নিম গাছের চারা রোপণ, ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের সমাপনী সভা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু সপ্তাহকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে তরুণদের ‘ক্লাইমেট স্ট্রাইক’-এর খবরগুলো উপকূলের একই অখ- বাস্তবতার চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরে।

প্রতাপনগরের রুইয়ারবিলে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কেবল পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, বরং তা নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রাকৃতিক ও শক্ত প্রাচীর হিসেবে কাজ করে। বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর এ পদক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে যে, টেকসই সুরক্ষার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।

তবে কেবল চারা রোপণই শেষ কথা নয়; সেই চারাগুলোকে টিকিয়ে রেখে পূর্ণাঙ্গ বনে রূপান্তর করাই আসল চ্যালেঞ্জ। প্রায়শই দেখা যায়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভেস্তে যায়। ঠিক এই জায়গাতেই আলোকপাত করা হয়েছে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু ন্যায়বিচার সংক্রান্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে। বক্তারা যথার্থই বলেছেনÑপ্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জলবায়ুঝুঁকি মোকাবিলা ও স্থানীয়দের সুরক্ষার কাজ থেমে থাকা চলবে না। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং তরুণ সমাজকে একযোগে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।

শ্যামনগরের পদ্মপুকুরে তরুণদের ক্লাইমেট স্ট্রাইক আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই দুর্বিষহ পরিবেশগত সংকটের পেছনে তাদের নিজেদের দায় সামান্যই। জলবায়ু অর্থায়ন, ন্যায্য রূপান্তর এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের দাবি আজ আর কেবল বৈশ্বিক মঞ্চের আলোচনার বিষয় নয়, তা উপকূলের তৃণমূল যুবসমাজের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে। এই তরুণরা স্থানীয় সুরক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা এক আশাব্যঞ্জক দিক।

জলবায়ু সংকটের হাত থেকে উপকূলকে বাঁচাতে হলে টুকরো টুকরো উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা। ম্যানগ্রোভ সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, নদীর বাঁধ টেকসই করা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের স্থানীয় ও বৈশ্বিক দাবিগুলোকে জোরদার করার ক্ষেত্রে সরকার, এনজিও এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কার্যকর অংশীদারিত্বই হতে পারে একমাত্র পথ। দুর্যোগের অপেক্ষা না করে উপকূল রক্ষায় এখন থেকেই ধারাবাহিক ও টেকসই পদক্ষেপে জোর দেওয়ার সময় এসেছে।

 

সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন শাখা কার্যালয় উদ্বোধন ও কমিটি

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কার্যালয় উদ্বোধন ও ৩ বছর মেয়াদি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সার্কিট হাউস সংলগ্ন স্থানে নতুন কার্যালয় উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের জেলা সভাপতি আব্দুল বারী।

সার্কিট হাউস মোড় শাখার সভাপতি মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সিকদার। অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা মো. জিল্লুর রহমান, মো. আতিকুর রহমান খান, আলমগীর হোসেন, জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আসাদুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে মো. মাজহারুল ইসলামকে সভাপতি ও সফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট সার্কিট হাউস মোড় শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটির অন্যান্য পদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সালাম গাজী, সহসভাপতি মো. হাফিজুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মো. হারুন বিশ্বাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তাজেল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলু সরদার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু গাজী, অর্থ সম্পাদক নাজমুল ও দফতর সম্পাদক শিমুল মনোনীত হয়েছেন।