মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার; বাস্তুসংস্থান রক্ষার চ্যালেঞ্জ

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বড়বস্থা খাল এলাকায় বনরক্ষীদের অভিযানে বিষের বোতল ও মাছ শিকারের সরঞ্জাম জব্দ হওয়ার ঘটনাটি আমাদের গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই অভিযান আবারও প্রমাণ করল যে, বিশ্বের এই বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনের অভ্যন্তরে অবৈধ ও বিধ্বংসী কর্মকা- এখনো থামেনি। বরং এক শ্রেণির অসাধু মানুষ বনের অমূল্য সম্পদ ধ্বংস করে নিজেদের পকেট ভারী করতে মরিয়া।
বিষ দিয়ে মাছ শিকার কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক ধরনের ‘রাসায়নিক সন্ত্রাস’। শিকারিরা যখন খালের পানিতে বিষ ঢালে, তখন কেবল বড় মাছই মারা যায় না; বরং ওই পানির সংস্পর্শে থাকা সমস্ত জলজ প্রাণীÑঅসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা, কাঁকড়া, কচ্ছপ এবং অণুজীব নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যায়। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে। বনের হরিণ বা বাঘ যখন ওই দূষিত পানি পান করে, তখন তাদের জীবনও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের মতো একটি স্পর্শকাতর বনভূমিতে এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পলাতক শিকারিদের শনাক্ত করে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। আমরা মনে করি, কেবল মামলা বা নথিপত্র ভারি করাই যথেষ্ট নয়। অতীতে দেখা গেছে, মামলার পর যথাযথ তদারকির অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হয়। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকলে এই অসাধু চক্র কখনোই পিছু হটবে না।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়Ñমাছ মারার এই বিষ আসছে কোথা থেকে? স্থানীয় বাজারগুলোতে কি খুব সহজেই এসব রাসায়নিক বা বিষ পাওয়া যাচ্ছে? বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত বিষের সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সোর্স’ চিহ্নিত করা। যদি বিষের সহজলভ্যতা বন্ধ করা না যায়, তবে বনের গহীনে অভিযান চালিয়ে এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হবে।
বন বিভাগ টহল জোরদার ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা তার দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। একই সাথে সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকেও সচেতন করে তুলতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে, সুন্দরবনের জলজ সম্পদ ও বনভূমি ধ্বংস হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বেন তারাই। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অহংকার এবং প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ; একে বিষমুক্ত রাখা এবং এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা কোনো একক দপ্তরের নয়, বরং রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

Ads small one

জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’: সংসদ সদস্য মুহা. আব্দুল খালেক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, অন্যায়ের কাছে সাতক্ষীরার মানুষ কখনো মাথা নত করেনি এবং ভয় দেখিয়েও তাঁদের দমানো যাবে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা মোড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল্লাহ মোনার সভাপতিত্বে ও ওয়ার্ড জামায়াতের আমির মো. জিয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম ও পৌর জামায়াতের আমির মো. জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। সম্প্রতি সংসদে সাতক্ষীরায় রেললাইন স্থাপন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, পৌরসভার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক কাঠামোর উন্নয়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ‘জুলাই সনদ’ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভারি বৃষ্টিতে ভাঙা রাস্তা মেরামত ও পানি নিষ্কাশনে আনসার-ভিডিপি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দত্তনগর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে যায়। বিষয়টি গত শুক্রবার উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মো. মিয়াজান আলীকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে অবহিত করেন। জেলা কমান্ড্যান্টের পরামর্শে আনসার সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই লক্ষ্যে সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের দলনেতা তালিব হোসাইন ও ২ নম্বর সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের দলনেতা আলী হোসেন প্লাটুনভুক্ত ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাস্তা মেরামত ও পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে সাধুবাদ জানান সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা। আনসার-ভিডিপির এই স্বেচ্ছাশ্রম ও সামাজিক কাজের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মিয়াজান আলী জানান, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে তাঁর দল ও সদস্যরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
প্রান্তিক যুব সংঘের সভায় জলাবদ্ধতা নিরসনে মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘প্রান্তিক যুব সংঘ’-এর জুলাই মাসের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাতক্ষীরার প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হৃদয় ম-লের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সাতক্ষীরা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. আতিকুজ্জামান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া আফরিন, বোর্ড সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা।
সভার শুরুতে সংগঠনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে তরুণদের সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় সাতক্ষীরা জেলার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা স্থানীয় জনজীবন, কৃষি, শিক্ষা ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে শিগগিরই একটি মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবির পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং অনলাইন নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।