শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: লবণ ও চামড়া খাতের সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: লবণ ও চামড়া খাতের সংকট

সম্পাদকীয়
প্রসঙ্গ: লবণ ও চামড়া খাতের সংকট

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুদান হিসেবে লবণ চেয়ে আবেদন করেছেন সাতক্ষীরার চামড়া ব্যবসায়ীরা। এই আবেদনটি দেশের চামড়া ও লবণ—উভয় খাতের এক গভীর সংকটের চিত্রকে সামনে এনেছে। একদিকে লবণের চড়া দামের কারণে পুঁজিসংকটে পড়ে চামড়া ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছেন; অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে লবণচাষিরা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে লবণ বিক্রি করতে গিয়ে ঋণের বোঝায় জর্জরিত হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে যেখানে খরচ হচ্ছে প্রায় ৩৫০ টাকা, সেখানে চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। অথচ খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। উৎপাদক যেখানে কেজিতে পাচ্ছেন মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকা, সেখানে ভোক্তা পর্যায়ে সেই লবণের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া কোনো স্বাভাবিক বাজার অর্থনীতির লক্ষণ হতে পারে না। মূলত কার্গো বোটের মালিক ও বড় ব্যবসায়ী চক্রের সিন্ডিকেটের কারণেই উপকূলের প্রান্তিক চাষিরা যেমন পিষ্ট হচ্ছেন, তেমনি সাতক্ষীরার মতো অঞ্চলের চামড়া ব্যবসায়ীদের সেই লবণ কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

চামড়া খাতের মতো একটি জাতীয় সম্পদ, যা কোরবানির মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল, তা কেবল লবণের কৃত্রিম চড়া মূল্যের কারণে হুমকির মুখে পড়তে পারে না। সঠিক সময়ে ও ন্যায্যমূল্যে লবণ না পাওয়ায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ চামড়া পচে নষ্ট হয়, যা অর্থনীতির জন্য বড় অপচয়।

চামড়া ব্যবসায়ীদের সাময়িক লবণের অনুদান দেওয়া হয়তো একটি সাময়িক সমাধান, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির জন্য প্রয়োজন মূল সমস্যার শিকড়ে হাত দেওয়া। উপকূলীয় লবণচাষিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমে। একই সঙ্গে অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে পরিবহন ও বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। প্রকৃত উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন।

 

 

Ads small one

না-এ কোনও ইতিহাস নয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ
না-এ কোনও ইতিহাস নয়

মারিয়া নূর
কয়েক মিলিয়ন কষ্টের বরাদ্দ নেওয়া ছিলো
আগেই, অনেক আগেই।
এখন আর বাড়তি দেনার দায় নেই ভাগ্যলিপিতে।
সুখেরা তো বরাবরই মুখচোরা
তাই আর ঘাঁটাতে চাইনি ওদের নতুন করে।

ফিরে যাওয়া বসন্তের আক্ষেপ পত্রে
অভিযোগ ছিলো – অপয়া মুখদর্শনের।
এখন দফায় দফায় হাজিরা চলে
জজকোর্ট থেকে হাইকোর্টের বারান্দায়।

সানগ্লাসটা ছোট হতে হতে
এখন মোটা ফ্রেমের চশমায় পরিনত।
চোখের নিচে বয়সের পাটিগণিত।
নামতা ভুলে গেছি সেই কবে;
উপপাদ্য বা সম্পাদ্য যাই বলো
সকল সুত্রের কারসাজিতে এখন
চোখ রাঙানি দেখি ভীষণ রকম।

যারা একসময় স্বপ্নের পরিচয়ে
চোখের সমুদ্রে খেলতো গোল্লাছুট;
বৃদ্ধ বটের নুয়ে পড়া তর্জনী আঁকড়ে
ওরাও ঝুলে থাকে অলস দুপুরে।

এখন আর দিবাকরের হৃদপি-ে কামড় দিয়ে
রোদ চুরি করে না কেউ।

না – এ কোনও ইতিহাস নয়;
রবীঠাকুরের ছোট গল্প? না তাও না।
এ হলো সেই চমকপ্রদ উপন্যাস
যার বিশেষ ক’টা পৃষ্ঠা অলক্ষেই অন্তর্ধান।

নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
নবান্ন ও চন্দ্রাহত একজন

বাবুল চৌধুরী
খোলা চুলে বাইরে এসো না এই ঘোর পূর্ণিমা-রাতে
সনাতন চাঁদ আকাশে সওয়ার চাঁদের জোয়ার, তাই
জোছনায় আহত হতে পারো আমিও চন্দ্রগ্রস্থ বলে
এক শ’ বছর পেছনে তাকাই অথবা তারও বেশি
সময়ের উল্টো স্রোতে, তোমার মুখে দেখি দীঘল
ফসলের মাঠ, চুলে খরতর নদী, ও শাড়ির জমিনে
জড়ানো স্থির অথবা অনেক উড়ন্ত ফিঙের ডানা,
আঁচলে আদরে আগলে রেখেছ নাকি ধান স্বর্ণালী!
আরেক মানবীর মতো তখন তুমি, যে মুখ বহু বছর
আগে দেখেছি – সে ছন্দে নাচে, উঠোনে হেসে যায়

এখনি ঢেঁকির শব্দ উঠবে, ঢেঁকিতে পড়ছে তার পা
স্বপ্নের ভেতর তার ছন্দিত পা দেখি, ধান ভাঙা হলে
এখনই দেবে সে নবান্নের ডাক, এখন চাঁদের মতো
সব থালা ভরবে নতুন খাদ্য-কণায়, নিরন্ন লোকালয়

নবান্নের সাড়া পেয়ে যায়, আকাশে চাঁদের জোয়ার –
এ নবান্নে নিমগ্ন আমি – খোলাচুলে বাইরে এসো না

সুখের দিনে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:১১ পূর্বাহ্ণ
সুখের দিনে

ফাহিম শাহরিয়ার রুমি
সুখের দিনে কেন এ হৃদয়
নিভৃতে কাঁদিতে চায়?
হাসির আড়ালে কার যেন বেদনা
নীরবে ভাসিয়া যায়।

রৌদ্রঝলমল প্রভাত-আকাশে
স্বর্ণরেখা খেলে যায়,
তবু মোর চিত্তে অকারণ ছায়া
নিভৃত ব্যথা বুনে যায়।

সবাই যখন গাহে আনন্দগান,
মিলন-সুরে মাতে প্রাণ,
আমি কেন শুনি বিরহের বীণা
অশ্রুর মৃদু তান?

ফুলে ভরা এ জীবনের বাগান,
গন্ধে ভরে চারিধার,
তবু কেন যেন মলিন হইয়া
ঝরে পড়ে অন্তর-হার।

হায়, সুখের মাঝে লুকায়ে থাকে
দুঃখের অচেনা রূপ,
মানব-হৃদয় তাই চিরদিন
বিরোধে গাঁথা এক সুরূপ।