শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের দেশে ফেরার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের দেশে ফেরার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন নীতির আওতায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন সম্পন্ন করতে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। ফলে দেশটিতে বৈধভাবে থাকা হাজারো শিক্ষার্থী, কর্মী, পর্যটক এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে বলা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হবে।

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে শুক্রবার (২২ মে)-এর এই নীতি পরিবর্তনটি সর্বশেষ।

ইউএসসিআইএস একটি নীতি স্মারকলিপিতে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন আছে কিনা তা নির্ধারণ করার সময় প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বিষয় এবং তথ্য বিবেচনা করতে হবে।

“যে বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে আছেন এবং গ্রিন কার্ড চান, তাকে আবেদন করার জন্য অবশ্যই তার নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে,” বলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, যা ইউএসসিআইএস-এর তত্ত্বাবধান করে।

এতে আরো বলা হয়, এই নীতিটি আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করবে, কোনো ফাঁকফোকরকে উৎসাহিত করবে না।

ইউএসসিআইএস বলেছে যে, নতুন নীতিটি সংস্থার সম্পদকে অন্যান্য মামলা প্রক্রিয়াকরণে মনোনিবেশ করার জন্য মুক্ত করবে।

শরণার্থীসহ অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীকে পরিষেবা প্রদানকারী একটি সাহায্য সংস্থা, এইচআইএএস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানকারী গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের আবেদন প্রক্রিয়া করার উদ্দেশ্যে ইউএসসিআইএস মানব পাচারের শিকার এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুদেরকে তাদের পালিয়ে আসা বিপজ্জনক দেশগুলিতে ফিরে যেতে বাধ্য করছে।

গত বছর, ট্রাম্প প্রশাসন ছাত্র, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিদর্শক এবং গণমাধ্যমের সদস্যদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল।

জানুয়ারিতে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে যে, ট্রাম্প আগের বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার গুয়াইয়েসা নামক জঙ্গি সংগঠনের নির্বাহী সভাপতির বোন আদিসলা এস্ত্রেলা মোরেইরাকে গ্রেপ্তার করেছে।

এতদিন অনেক অভিবাসী “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারতেন। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ছাত্র ভিসাধারী, অস্থায়ী কর্মী এবং মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা অভিবাসীদের ওপর। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য দেশ ছাড়ার পর অনেকেরই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ জটিল হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে অনেক ক্ষেত্রে ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।

সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেছেন, এই নীতি প্রতি বছর লাখো পরিবার ও নিয়োগদাতার পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, “যারা নিয়ম মেনে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন, তাদের জন্যও এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।”

বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএসে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তা ডগ র‍্যান্ড বলেন, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড পান। নতুন পরিবর্তনের ফলে এসব আবেদনকারীর বিশাল অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে এবং বিভিন্ন “ফাঁকফোকর” ব্যবহারের সুযোগ কমে আসবে।

ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কেউ যদি গ্রিন কার্ড চান, তবে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তাকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে।”

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাধারী, শরণার্থী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন আরও সীমিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

সংবাদদাতা: গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র কার্যকরের দাবিতে দেশব্যাপী ঘোষিত ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় কলারোয়া সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মো. জুবায়ের হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি মো. জিয়ারুল ইসলাম জিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো. নাজমুল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা অফিস সম্পাদক নাহিদ হাসান, জেলা অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, জেলা মাদ্রাসা সম্পাদক, জেলা বিজ্ঞান সম্পাদক ফয়সাল হোসেন, জেলা সহকারী অফিস সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ, কলারোয়া পৌর সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ, কলারোয়া পূর্ব সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক, কলারোয়া পশ্চিম সভাপতি আবু রায়হানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করে অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতা আবারও জুলাই অভ্যুত্থানের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। ছাত্র-জনতা পুনরায় মাঠে নামলে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তারা গণহত্যার বিচার, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়ে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলামের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি এবং মাসজিদে কুবার উদ্যোগে দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক, মাসজিদে কুবা ও সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জি এম নূর ইসলামের দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বাদ জুমা মাসজিদে কুবা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা তৈয়ব হাসান। সঞ্চালনা করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহমুদুর রহমান। দোয়া পরিচালনা করেন প্রবীণ আলেম ও মসজিদের উপদেষ্টা হযরত মাওলানা মো. রজব আলী।
এ সময় বক্তব্য দেন মাসজিদে কুবার সহ-সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান। বক্তারা বলেন, জি এম নূর ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা, সামাজিক উন্নয়ন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত সপ্তাহে জি এম নূর ইসলামকে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
দোয়া মাহফিল থেকে তাঁর দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়।

বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩১ অপরাহ্ণ
বুদ্ধির খেলা দাবা/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

দাবা খেলা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি ব্যায়াম। এটি মানুষের চিন্তাশক্তি, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়িয়ে মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং মনকে গভীরভাবে শাণিত করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

দাবা মস্তিষ্কের উন্নতি সাধন করে, একাগ্রতা ও মনোযোগ বৃদ্ধি করে। দাবায় প্রতিপক্ষের পরবর্তী চাল অনুমান করতে ও নিজের কৌশল সাজাতে গভীর মনোযোগের প্রয়োজন হয়, যা দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য কাজেও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। বিভিন্ন চাল ও প্যাটার্ন মনে রাখার ফলে স্মৃতিশক্তি প্রখর হয় এবং আইকিউ বা বুদ্ধাঙ্ক বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। দাবা খেলা শেখায় ঘোড়া, হাতি, মন্ত্রী ইত্যাদি দিয়ে সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করতে হয়, যা বিশ্লেষণাত্মক ও যৌক্তিক চিন্তাশক্তি উন্নত করে।

প্রতি বছর ২০ জুলাই আন্তর্জাতিক দাবা দিবস পালিত হয়। ১৯২৪ সালের এই দিনে ফ্রান্সের প্যারিসে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে ইউনেস্কো এর প্রস্তাবে ১৯৬৬ সাল থেকে ফিডে-এর উদ্যোগে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে।

দাবা হলো প্রাচীন ও জনপ্রিয় একটি কৌশলগত বোর্ড গেম। ৬৪ খোপের একটি বোর্ডে দুজন খেলোয়াড় বিপরীত রঙের গুটি সাদা ও কালো গুটি দিয়ে খেলেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিজের রাজাকে সুরক্ষিত রেখে প্রতিপক্ষের রাজাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলা, যাতে পালানোর কোনো পথ না থাকে। দাবায় দুই খেলোয়াড়ের কাছে মোট ৩২টি ঘুঁটি থাকে। প্রতিটি গুটির চাল আলাদা। সৈন্য: সামনে সোজা এক ঘর যায়। প্রথম চালে দুই ঘরও যেতে পারে, কিন্তু অন্য গুটিকে কোণাকোণি মারে। নৌকা: সোজা বা পাশাপাশি যত ঘর খুশি যেতে পারে। ঘোড়া: এল আকারে আড়াই ঘর চলে এবং অন্য ঘুঁটির ওপর লাফিয়ে যেতে পারে। হাতি: কোণাকোণি যত ঘর খুশি চলতে পারে। মন্ত্রী: সোজা, পাশাপাশি ও কোণাকোণি যত ঘর খুশি যেতে পারে। রাজা: সব দিকে এক ঘর চলতে পারে।

দাবা খেলায় প্রতিটি চাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল চালের কারণে পুরো ম্যাচ হারতে হতে পারে। দাবায় কেবল নিজের চাল দিলেই চলে না, প্রতিপক্ষের পরবর্তী সম্ভাব্য চালগুলো কী হতে পারে তা আগে থেকেই অনুমান করতে হয়। তাই খেলোয়াড়কে দীর্ঘ সময় বোর্ডের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। মানুষের দূরদর্শিতা এবং চিন্তাভাবনার ক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দাবা বোর্ডের প্রতিটি পরিস্থিতি একেকটি জটিল সমস্যা। সীমিত সময়ের মধ্যে এবং মানসিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে সেরা সমাধানটি খুঁজে বের করতে হয়। এই অভ্যাস বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়।
একটি দাবা ম্যাচ দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে এবং এতে হার-জিত দুটোই থাকে। এটি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে এবং পরাজয় মেনে নিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এটি দৈনন্দিন জীবনেও কোনো কাজে গভীরভাবে মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বাড়ায়।
ধৈর্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণদাবা খেলা হুট করে জেতা যায় না, এর জন্য প্রচুর ধৈর্যের প্রয়োজন। অনেক সময় প্রতিপক্ষের ফাঁদে পড়েও মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে হয়। এটি মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল থাকার মানসিকতা তৈরি করে।

দাবা খেলাকে কেবল একটি ইনডোর গেম বা বিনোদন হিসেবে দেখলে ভুল হবে, এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি চমৎকার ব্যায়াম। নিয়মিত দাবা খেললে মানসিক ক্ষমতার বহুমুখী বিকাশ ঘটে এবং মন শাণিত হয়।

মস্তিষ্কের বাম অংশ যুক্তি ও গণিত নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডান অংশ সৃজনশীলতা ও প্যাটার্ন চেনার কাজ করে। দাবা খেলার সময় খেলোয়াড়কে যেমন হিসাব-নিকাশ করতে হয়, তেমনি নতুন চালের পরিকল্পনা ও বোর্ডের রূপরেখা কল্পনা করতে হয়। ফলে মস্তিষ্কের উভয় অংশের সমন্বয় ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারী স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং আলঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের মতো রোগ প্রতিরোধে এটি সাহায্য করে। নিয়মিত দাবা খেললে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। এটি মানুষের দূরদর্শিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট