রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ও জাপান সরকারের আর্থিক সহায়তায় এবং সুশীলনের বাস্তবায়নে ডিআরআর (দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস) কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আজিজ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল ও ডব্লিউএফপি সাব-অফিস প্রধান আল মামুন আজাদ ও প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মোঃ গিয়াস উদ্দিন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন।

 

কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা, মোঃ আমিরুল ইসলাম এবং উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, আশাশুনি উপজেলার কর্মকর্তা, প্রতাপনগর, শ্রীউলা ও আনুলিয়া ইউনিয়নের ইউডিএমসি সদস্য, মাঠ পর্যায়ের ঠিকাদার, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীলনের কর্মীরা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রকল্প কার্যক্রম উপস্থাপন করেন জি এম মনিরুজ্জামান, উপ পরিচালক, সুশীলন।

অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন জোরদার করতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তাঁরা কার্যক্রমে আরও বেশি জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, মৎস্য চাষিদের আরও সতর্ক করার জন্য তারা যেন মাছের ঘের নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং নবনির্মিত রাস্তা ভালো রাখেন।

পাশাপাশি স্থানীয় প্রেক্ষাপট পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউডিএমসিগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ, ডিআরআর কার্যক্রমের মাধ্যমে সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে সুশীলন। মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি (ইউডিএমসি) এবং কারিগরি সকল সহায়তা প্রদান করেছে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই খুলনার পাইকগাছার হাট-বাজারে ঐতিহ্যবাহী মসলা চুই ঝালের চাহিদা বেড়েছে। মাংসের স্বাদ ও সুবাস বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকার মানুষের কাছে চুইঝালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চুই ঝাল যেন এক অপরিহার্য উপাদান। চুইঝাল ছাড় মাংস বা বিরিয়ানী রান্না যেন পূর্ণতা পায় না। তাই চুইঝাল লাগবেই লাগবে।

ঈদে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু মসলা চুইঝালের চাহিদা ও দাম দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে। গরুর মাংস ও খাসির মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে চুইঝাল দারুণ কার্যকরী। ঈদের সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই মাংসের নানা পদ বিরিয়ানি, ভুনা মাংস রান্নায় চুইঝালের কদর থাকে তুঙ্গে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আকারের চিকন বা মোটা ওপর নির্ভর করে চুইঝাল কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকায় বিখ্যাত মসলা এই চুইঝাল। চুইঝালের শিকড়, পাতা ও ফুল, ফলে ঔষধি গুণ আছে। চুইঝাল মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এ সব এলাকায় চুইঝাল মসলা খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের কান্ড, শিকড় বা লতাকে ছোট ছোট টুকরো করে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেকোনো ধরনের মাংস, গরুর বা খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুইঝালের রান্না মাংস এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এবং খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে চুই এর শিকড়ের মধ্যে কান্ডের তুলনায় কড়া সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝালো স্বাদ বেশি থাকার কারণে এটি কান্ডের তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয়। চুইঝাল দিয়ে রান্না করলে মাংসে একধরনের কড়া সুঘ্রাণ এবং ঝাল প্রকৃতির, ঝাঁঝালো ও টক স্বাদ যুক্ত হয় যা মাংসের মধ্যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের স্বাদ এনে দেয়।

সারাবছরই চাহিদা ও দামের দিক থেকে উপরে থাকে মশলাটি। তবে ঈদ আসলেই চুইঝালের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পকেট কাটেন ভোক্তাদের। কুরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসছে পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুইঝালের দোকান নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে ভীড়ও বাড়ছে ক্রেতাদের। সাধারণ সময়ে চুইঝাল কেজি প্রতি ৪০০ থেকে হাজার টাকা থাকালেও বর্তমানে আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে এক হাজার ও খুর ভালো মানের চুইঝাল কেজি ১৫শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নতুন বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা মীর কাজল বলেন, মাংস বা বিরিয়ানী রান্নার সব রকম মশলা পাওয়া যায়। আর আদা-চুইঝাল তো আছেই। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে চুইঝালের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। আর এক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে চুইঝাল চিকন (আকারে ছোট) ৪ শত থেকে ৬শ টাকায় ও কিছুটা বড় চুইঝাল ৮শত টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম।

 

কোরবানি উপলক্ষে বাজারে চাহিদা বাড়ায় পাইকারী দরে কিনতেই বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। তাই চুইঝালের সাইজ অনুযায়ী কেজি প্রতি ৮শত থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চুইঝাল কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর মাঝে মধ্যে চুইঝাল খাওয়া মাংসের সাথে। কিন্তু কুরবানির সময় গরুর মাংসের সাথে চুইঝাল না হলে চলে না।

গদাইপুর বাজারে চুইঝালের ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, চুইঝালের দাম ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে। তাই ভিড় এড়াতে আগে ভাগেই চুইঝাল কিনতে এসেছি। তবে কুরবানি উপলক্ষে দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের সময় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস অতিথিদের খুবই পছন্দের। দাম একটু বৃদ্ধি পেলেও, মাংস খেতে চুইঝাল লাগবেই। চুইঝালের মাংস রান্নার স্বাদই অন্যরকম উপলব্ধি হয়।

 

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল ও জনস্্েরাত বাংলাদেশের অন্যতম বড় উৎসবের অংশ। প্রতি বছরই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই চাপে ঢাকা ও এর আশেপাশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের তীব্র চাপ ও যানজট তৈরি হয়।

উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ফাঁকা হতে থাকে, আর মহাসড়কগুলো পরিণত হয় মানুষের স্্েরাতে। লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পথে ছুটে যায়। ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাস এবং নাড়ির টানে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।

কিন্তু প্রতি বছর উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। আনন্দের এই যাত্রা রূপ নেয় শোকের মিছিলে। অতিরিক্ত গতি, বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল, ক্লান্ত চালকের ঘুম, অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নেয়।

নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ থাকে। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপে কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতি ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সদরঘাটের মতো টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ ও ফেরিগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কমলাপুর স্টেশনসহ অন্যান্য স্টেশনে যাত্রীদের প্রচন্ড জনস্্েরাত লক্ষ্য করা যায়।

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হলো অতিরিক্ত যাত্রীচাপ। ঈদের আগে কয়েক দিন শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামের বাড়িতে রওনা দেয়। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, নসিমন-করিমনসহ সব ধরনের যানবাহন একসঙ্গে সড়কে নেমে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও চলাচল করে। পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় যাত্রী পরিবহনে মালবাহী ট্রাক পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সড়ক, যানবাহন ও চালকের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ এবং লাইসেন্সহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। ওভারস্পিডিং বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে স্পিড গান ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা। চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বন্ধ করে বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং রোধে মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিং করা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

 

মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি করা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
চালকদের বেপরোয়া মনোভাবও দুর্ঘটনার বড় কারণ। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং প্রবণতা, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ঈদযাত্রায় ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া কিংবা মহাসড়কে হাঁটার প্রবণতাও দুর্ঘটনা ঘটায়। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘুমঘুম অবস্থায় চালানো যানবাহন বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।

ঈদযাত্রাকে আনন্দময় করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এড়িয়ে চলা। যানজট এড়াতে ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা হওয়া উচিত। চরম ভিড়ের মাঝে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত তদারকি বৃদ্ধি করা। টোল প্লাজায় বুথ বাড়িয়ে দ্রুত গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা, যাতে দীর্ঘ যানজট ও চালকদের ক্লান্তি না বাড়ে। মহাসড়কের মোড় বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও স্ট্যান্ড দ্রুত অপসারণ করা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ চত্বর ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পার্কটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি সাতক্ষীরার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী।

প্রতিদিনই শহরের হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সকাল এবং বিকেলে সব বয়সী মানুষের জন্য এটি এক অন্যতম মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস ও নামকরণ: মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই পার্কের নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মার্চের গণআন্দোলনের সময় ৩ মার্চ নিহত দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যা আগত দর্শনার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে।

নাগরিক জীবনের ফুসফুস: যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে ক্লান্তি দূর করতে এই পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক বড় আশ্রয়স্থল।

প্রাতঃভ্রমণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রতিদিন ভোরে শহরের শত শত সচেতন নাগরিক এখানে আসেন প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়াম করতে। পার্কের বিশাল গাছপালার ছায়া ঘেরা পরিবেশ ভোরের বাতাসকে রাখে সতেজ।

বিকেলের আড্ডা ও শিশু বিনোদন: বিকেলে পার্কটি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আড্ডায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু: সাতক্ষীরার যেকোনো বড় উৎসব, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। বিজয় মেলা, বইমেলা কিংবা স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই মাঠ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রত্যাশা: স্থানীয় দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্কের পরিবেশ রক্ষায় এবং সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পার্কের ভেতর বসার পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা করা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) আরও উন্নত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের অভিমত: “শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কটি আমাদের সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন যদি পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনে এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও একটু নজর দেয়, তবে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের স্পন্দন হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে এই পার্কের যতœ নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। সংবাদদাতা জুলফিকার আলী