নলতা ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকতে চান মাসুম
বিপুল চন্দ্র রায়
হে বিধাতা!
একি ঘোর তিমিরে নিমজ্জিত আজ ধরা?
সর্বত্র ভেজাল আজি, বিষাক্ততায় বিশ্ব ভরা।
হায় রে মানুষ! চেনা বড় দায় স্বার্থের নেশায়,
নৈতিকতা বিসর্জিয়া ওড়ে অহমিকার ফানুস।
মগজে কুটিল ফন্দি তাদের মনে ঘোরে অবিরাম,
লুপ্ত আজ অকৃত্রিম মায়া, স্নেহের মেলেনি দাম।
অন্নে বিষ, রক্তে ভেজাল, কলুষিত প্রাণের ছায়া,
অর্থের লোভে বিবেক বিকায় জীর্ণ এ কোন মায়া!
আচ্ছন্ন নিখিল ভুবন আজ মর্ত্যভীতিতে,
কপটতাই কি স্থান পেল তবে শ্রেষ্ঠ নীতিতে?
সত্যের টুঁটি চেপে ধরে আজ ভ- অমানুষ,
স্বার্থের টানে চেনা দায় কে প্রকৃত মানুষ!
ধিক্ এই ভ- সমাজ! ধিক্ এই দানবীয় উল্লাস!
যূপকাষ্ঠে বলী আজ মানবতার শেষ নিশ্বাস।
হে বিধাতা, এই দুর্ভেদ্য পাপে হানো বজ্রাঘাত,
ছিঁড়ে যাক নরপশুদের ওই লোলুপ-রক্তিম হাত।
দয়া নয় প্রভু, আজ নেমে আসুক মহা দ-,
চূর্ণ হোক মিথ্যে মুখোশধারী ওই ভ-!
দিকে দিকে বেজে উঠুক সাম্যের শুভ শঙ্খধ্বনি,
কলুষতামুক্ত হোক আবার আমাদের এই ধরণী।
মোঃ রহমত আলী
গল্প শেষ, তবু স্বল্প রয়ে গেছে,
সমাধির উপরে অযথাই ফুল,
জীবদ্দশায় মূল্যহীন যা,
মৃত্যুর পরে তুল্য কি তা,
বেলা অবেলায় হারিয়ে যেতে বাধ্য
সময়ের সাথে জীবনের মূল্য।
কাহিনী যখন শুরু হয়েছিল,
তখন তো স্মৃতিশক্তি হীন,
আর এখন শেষ বেলাতেও
স্মৃতির স্মরণে বুদ্ধি লোপপ্রাপ্ত।
জীবন থেকে চিরতরে হারিয়ে
যে সময়ের স্রোত বয়ে গেছে
তা ধরা না ধরার আফসোস হায়।
বেলা অবেলা শেষে, বিদায় বেলা!
সাথী যা আমল তা কি কাজের?
হিসাব শুরু শেষের পর, শুরু থেকে।
কাজী গুলশান আরা
চোখ যায় যদ্দুর
তোমার অখ- বিস্তৃত ক্যানভাস
চাইলেই আঁকতে পারো নীল সিঁড়ি
অরণ্যের গহীন শ্যামল
হতে পারো
সৃষ্টির উন্মাদনায় নেশাতুর
চোখের তারায় বাঁধতে পারো সুনীল আকাশ
বুক ভর্তি বারুদ
পেরিয়ে যাও জোনাক জ্বলা মাঠ
ছুঁয়ে দাও মায়ের হাসি
বাগানের ফুল
অমরত্ব পাক বাবার শার্ট
মুছে ফেল অপ্রাপ্তির অমানিশা—
এসো—
সব ভুলে বলি-ভালোবাসি…
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে
দুর্গন্ধ নাকে আসছে
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে
সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে
এ পাড়া ও পাড়া যাচ্ছে
ফিসফিসিয়ে বলছে,
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্ সুখ যেন ওদের হাতে
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?