শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বিভিন্নস্থানে কালবৈশাখী ঝড়, শ্যামনগরে গাছ ভেঙে শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিভিন্নস্থানে কালবৈশাখী ঝড়, শ্যামনগরে গাছ ভেঙে শিশুর মৃত্যু

পত্রদূত রিপোর্ট: হঠাৎ বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হওয়ায় তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শারমিন(৯) শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল শিশু শারমিন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে একটি তালগাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শারমিন এর মৃত্যু হয়।

এম এ হালিম উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) থেকে জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মে) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের তান্ডবে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় আশরাফুলের বসতঘরের ছয় থেকে সাতটি টিনের চালা উড়ে যায় ও ভেঙে পড়ে। একই এলাকায় মোকছেদ গাজীর ঘরের দুই পাটের মধ্যে এক পাটের চাল সম্পূর্ণ উড়প ছিড়ে চলে গেছে। এতে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল বলেন, “ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের টিন উড়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হবে। নিজের টাকায় ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই।”

মোকছেদ গাজী বলেন, “ঝড়ে ঘরের চাল ভেঙে গেছে। সামনে বৃষ্টি হলে থাকার মতো অবস্থা থাকবে না। দ্রুত সহায়তা দরকার।”

এলাকাবাসী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে এমন দুর্যোগ প্রায়ই দেখা দিলেও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সরকারি সহায়তা ও মানবিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

Ads small one

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

অনলাইন ডেস্ক: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে পোস্টারিং করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেট ও বিবিএ ভবন এলাকায় সংগঠনটির বিভিন্ন পোস্টার দেখা যায়।

পোস্টারে ‘শিক্ষার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে’, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে’ এবং ‘রাজবন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে’ এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।

 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশিক-ই-আতাহার মেসবাহ বলেন, ‘রাজনীতি করার কারণে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়।

মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভয় নয়, জ্ঞান ও যুক্তির চর্চা হোক।

প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদে পড়াশোনা করার সুযোগ পাক। একজন শিক্ষার্থী আগে শিক্ষার্থী, পরে রাজনৈতিক কর্মী। তাই শিক্ষার অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’
সাজবুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। অথচ আমার ছাত্রলীগের ভাইয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনকে নিজ দেশেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই অবৈধ রায় এ দেশের ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না। সব রাজবন্দির মুক্তি এবং শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার এই অবস্থান।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানার চেষ্টা করছি। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও কেউ প্রবেশ করতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে বোঝা যাবে কারা ক্যাম্পাসে এসে এ কার্যক্রম চালিয়েছে।’

 

​ঈদে ভিন্ন আমেজ: ধুলিহরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল, জয়ী আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
​ঈদে ভিন্ন আমেজ: ধুলিহরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা প্রীতি ফুটবল, জয়ী আর্জেন্টিনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ​পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দকে আরও একটু রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তুলতে সাতক্ষীরায় আয়োজন করা হলো এক ব্যতিক্রমী ফুটবল ম্যাচ। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল—ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।

​ শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের কোমরপুর ফুটবল মাঠে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সংগঠন ‘কোমরপুর যুব সংঘ’-এর আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে ম্যাচটি উপভোগ করেন শত শত দর্শক।

​আয়োজকেরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এবং তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। খেলায় অংশ নেওয়া দুই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়ে ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেই তাঁরা এই খেলায় মেতে ওঠেন।

​টানটান উত্তেজনাকর এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের নেতৃত্ব দেন কোমরপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও নিউরো সার্জন ডা. হাসানুজ্জামান। দলটির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজ আল আসাদ চঞ্চল। অন্যদিকে, ব্রাজিল সমর্থক দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন কোমরপুর যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এবং ম্যানেজার ছিলেন ইসলামী ব্যাংক নাভারন শাখার সিনিয়র অফিসার জিল্লুর রহমান।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর মাঠের চিরবৈরী দুই দলের লড়াই জমে ওঠে দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের শেষভাগে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের একপর্যায়ে ১-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা সমর্থক দল। মাঠে রেফারির দায়িত্ব পালন করেন আনিস ও ফরহাদ।

​খেলা শেষে কোমরপুর যুব সংঘের সভাপতি সাইফুল্লাহ সরদারের সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আদ-দুহা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম ফাহিম, শিক্ষক আব্দুস সালাম, জাহাঙ্গীর কবির, ধুলিহর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম এবং এসআই জাকির হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

​খেলার মাঠে প্রিয় দলের জার্সি গায়ে প্রিয় মানুষদের এমন লড়াই ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। স্থানীয় দর্শকেরা জানান, হার-জিত বড় কথা নয়, ঈদের পর এমন আয়োজন তাঁদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
কোরবানির বর্জ্য অপসারণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পর পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শুক্রবার (২৯ মে) প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি দেখেন।

 

তিনি বলেন, রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ভালোভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে বেরিয়েছেন তিনি। নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে বেরিয়ে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিঝিল, রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল দিয়ে তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবোর দিকে গেছে বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

এরপর কমলাপুর স্টেডিয়াম, সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড, যাত্রাবাড়ী মোড়, ধোলাই খাল হয়ে শহীদ ফারুক সড়ক, দয়াগঞ্জ সড়ক দিয়ে নারিন্দা হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় দিয়ে আদালত পাড়ায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে নয়াবাজার, বংশাল রোড হয়ে গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে তিনি নিউমার্কেট যান। এরপর সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে ডান দিকে কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার হয়ে জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড দিয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড, ২৭ নম্বর সড়ক দিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট, বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রী দেখবেন।

উপপ্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সিগন্যাল মেনে গাড়ি থামিয়েছেন।

 

দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর বর্জ্য অপসারণ ও পূর্বের জমে থাকা ময়লা রাস্তায় পড়ে থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (উপসচিব) তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।