অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত ‘জলিল চাচা’
পাকিস্তান ক্রিকেটের গ্যালারিতে বহু দশক ধরে পরিচিত এক মুখ আব্দুল জলিল, যিনি সবার কাছে ‘জলিল চাচা’ নামেই বেশি পরিচিত। জাভেদ মিয়াদাদ, ওয়াসিম আকরাম থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম—প্রায় ৬০ বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পাশে থেকেছেন তিনি। তবে এবার সেই দীর্ঘ পথচলার ইতি টানতে যাচ্ছেন এই কিংবদন্তি সমর্থক।
গায়ে পাকিস্তানের পতাকার আদলে গাঢ় সবুজ কুর্তা, মাথায় বিশেষ টুপি—স্বতন্ত্র এই সাজে যুগের পর যুগ গ্যালারিতে বসে দলকে সমর্থন দিয়েছেন জলিল চাচা। পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে তার এই আবেগঘন সম্পর্ক এবার শেষ হতে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার (৩০ মে) শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচ দিয়ে দেশের মাঠে শেষবার গ্যালারিতে থাকবেন তিনি। এরপর আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজে শেষবারের মতো তাকে গ্যালারি থেকে পতাকা নাড়তে দেখা যাবে।
জলিল চাচার ক্রিকেট-ভালোবাসার শুরু ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে, ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফরের সময় লাহোরে একটি ম্যাচ দেখে। এরপর ক্রিকেটই হয়ে ওঠে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আশি ও নব্বইয়ের দশকে শারজাহতে পাকিস্তানের ম্যাচগুলোতে নিয়মিত উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে পরিচিত মুখে পরিণত হন।
তখন পর্যন্ত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি করতেন। পরে সেটি ছেড়ে পুরোপুরি পাকিস্তান দলের সমর্থক হয়ে যান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তায় বছরের পর বছর দেশ-বিদেশে ঘুরে দলকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে ৭৭ বছর বয়সী জলিল চাচা অবসরের পর নিজ শহর শিয়ালকোটের উপকণ্ঠে একটি রেস্তোরাঁ ও ক্রিকেট জাদুঘর গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে তিনি শুনিয়েছেন সেই স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করা সব স্মৃতিচিহ্ন জাদুঘরে প্রদর্শন করবো। আমার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের ৫০০ ম্যাচে সমর্থন দেওয়া, যা আমি অর্জন করেছি।”
তারকাদের জন্য গলা ফাটিয়ে জলিল চাচা নিজেই পাকিস্তানে হয়ে ওঠেন বড় তারকা। তার কথা, “খেলা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সব করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল দেশের একজন ভালো দূত হওয়া এবং সব দলের সমর্থকদের আনন্দ দেওয়া। এখন অবসরের পর কিছু জনকল্যাণমূলক কাজ করতে চাই।”
তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সে হতাশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ধারাবাহিক পরাজয় তাকে কষ্ট দিয়েছে। এ কারণেই এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখতে শ্রীলঙ্কায় যাননি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘ভারতের কাছে পাকিস্তানের টানা তিনটি পরাজয় দেখেছি আমি (গত এশিয়া কাপে)। আমরা এখন ভারতের কাছে টানা ৯টি ম্যাচ হেরেছি। আমি চাইনি এশিয়া কাপের পর তারা আর একটিও ম্যাচ হারুক।’’
স্মরণীয় ম্যাচের প্রসঙ্গে জলিল চাচা বলেন, “১৯৮৬ সালে শারজাহতে জাভেদ মিয়াঁদাদ যখন শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছক্কা মেরেছিলেন, আমি মাঠে ছিলাম। আর ২০১৭ সালে ওভালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিও আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।”












