শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইতিহাসের খোঁজে ভরত ভায়নার দেউল: রোদ-বৃষ্টির আলোছায়ায় দেড় হাজার বছর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
ইতিহাসের খোঁজে ভরত ভায়নার দেউল: রোদ-বৃষ্টির আলোছায়ায় দেড় হাজার বছর

​এসএম শহীদুল ইসলাম

​জ্যৈষ্ঠের এক আলো ঝলমলে তপ্ত সকাল। ঈদুল আজহার আনন্দের রেশ তখনো কাটে নি। নাগরিক কোলাহল আর দৈনিকের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল নতুন কোনো ইতিহাসের খোঁজে। ছুটির অলস প্রহরে আশেপাশের চেনা-অচেনা সুন্দর আর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ছুঁয়ে দেখা আমার দীর্ঘদিনের এক মায়াবী শখ। সেই ভালোলাগার টানেই ঈদের পরের দিন, এক পবিত্র শুক্রবারের সকালে আমরা রওনা হলাম দক্ষিণবঙ্গের এক অনন্য ও রহস্যময় পুরাকীর্তি—’ভরত ভায়নার দেউল’ দর্শনে, যা স্থানীয় মানুষের হৃদয়ে ‘ভরত রাজার দেউল’ নামে অমর হয়ে আছে।

​আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সাতক্ষীরা থেকে। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পিচঢালা পথ ধরে, চুকনগর পেরিয়ে যখন আমাদের গাড়ি ভায়না বাজারে পৌঁছাল, তখন চারপাশের গ্রাম্য মসজিদে জুম্মার আজান ধ্বনিত হচ্ছে। তপ্ত রোদের ক্লান্তি মেখে যখন দেউল প্রাঙ্গণে পা রাখলাম, তখন সেখানে নামাজের পবিত্র প্রস্তুতি চলছিল। দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী আমাদের বিনীতভাবে অনুরোধ করলেন নামাজের পর আসতে।

​কিছু সময় অপেক্ষার পর, নামাজ শেষে মাত্র দশ টাকার টিকিট কেটে আমরা প্রবেশ করলাম ইতিহাসের এক প্রাচীন ও নিস্তব্ধ সাম্রাজ্যে। প্রবেশদ্বার গলে ভেতরে পা রাখতেই বাম পাশে চোখ জুড়িয়ে দিল এক বিশাল, প্রাচীন বটবৃক্ষ। তার সুশীতল ছায়ার নিচে সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি তথ্য বোর্ড। সেখান থেকে ইতিহাসের প্রথম পাঠটুকু চুকিয়ে, ক্যামেরার ফ্রেমে কিছু স্মৃতি বন্দি করে আমরা ধীরে ধীরে পুরো দেউল প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করতে লাগলাম। একসময় পা বাড়ালাম দেউলের শীর্ষের দিকে।

​আমাদের মতো সেখানে আরও অনেক উৎসুক মানুষের সমাগম ঘটেছিল। কেউ এসেছিলেন সপরিবারে আনন্দের ক্ষণ ভাগ করে নিতে, কেউবা বন্ধুদের সদলবলে আড্ডায় মুখর। বর্তমান যুগের ডিজিটাল হাওয়াও লেগেছিল সেখানে; কয়েকজন ভিডিও কনটেন্ট নির্মাতা ব্যস্ত ছিলেন ভিডিও ধারণে, কেউবা ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করছিলেন দেউলের প্রাচীন রূপ।

​কিন্তু প্রকৃতির মন বোঝা বড় দায়। হঠাৎ করেই দুপুরের সেই তপ্ত নীল আকাশ কালো মেঘে আঁধার হয়ে এলো। জ্যৈষ্ঠের চাদর ফুঁড়ে আচমকা ধেয়ে এলো কালবৈশাখী ঝড়, আর তার সাথে প্রবল বৃষ্টি। দেউলের শীর্ষ থেকে তড়িঘড়ি করে নেমে আমরা আশ্রয় নিলাম কাছের একটি দোকানে। ততক্ষণে আমরা একদম কাকভেজা হয়ে গিয়েছি। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ চলল দু’দফায়। মেঘের আড়ালে সূর্য কখন যে লুকিয়ে গেল টের পাইনি, মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি চারপাশ জুড়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। ঝড় থামলেও ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি তখনো থামেনি। অগত্যা সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়েই আমাদের ফেরার পথ ধরতে হলো। রোদ আর বৃষ্টির এই আলোছায়ার খেলা ভ্রমণটিতে এক অন্যরকম রোমাঞ্চ যোগ করেছিল।

​খুলনা ও যশোর সীমান্তের ঠিক কোল ঘেঁষে, যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ভদ্রা নদীর পশ্চিম তীরে শান্ত-স্নিগ্ধ এক লোকালয় এই ভরত ভায়না গ্রাম। কেশবপুর সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় আঠারো কিলোমিটার দূরে এই নিভৃত গ্রামেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আনুমানিক দেড় হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো এই পুরাকীর্তি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক টুকরো পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সবুজ কাননের বুকে জেগে আছে।

​স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে ভরত রাজার নাম জড়িয়ে থাকলেও, প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা এখানকার প্রাচীন ইট ও প্রাপ্ত বিভিন্ন পোড়ামাটির মূর্তি গবেষণা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এটি মূলত খ্রিষ্টীয় ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ শতকের তথা আদি ঐতিহাসিক যুগের একটি প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির। খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে আদি ঐতিহাসিক যুগের এমন স্থাপনা সত্যিই বিরল। তাঁর জানামতে, ভরত ভায়না মন্দিরই হচ্ছে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের একমাত্র আদি ঐতিহাসিক যুগের প্রাচীন নিদর্শন।

​ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা যায়, ১৯২২ সালে তৎকালীন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ এই রহস্যময় ঢিবিটি সংরক্ষণের আওতাভুক্ত করে। এর পরের বছর, ১৯২৩ সালে প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক কাশিনাথ দীক্ষিত এই ঢিবিতে সূক্ষ্ম জরিপ পরিচালনা করেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এই মাটির ঢিবির নিচে লুকিয়ে আছে পঞ্চম শতকের এক প্রাচীন বৌদ্ধমন্দির, যা হয়তো চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং বর্ণিত সমতটের সেই বিখ্যাত ত্রিশটি সংঘারামেরই একটি। সে সময় তিনি এর সুরক্ষায় কিছু সীমানা পিলারও স্থাপন করেছিলেন, যদিও পরবর্তী সময়ে সুযোগসন্ধানী মানুষের লোভের গ্রাসে সেই সব মূল্যবান প্রাচীন সম্পদ লুণ্ঠিত হয়ে যায়।

​অনুমিত এই মূল মন্দিরটি ১ একর ২৯ শতক জমির ওপর বিস্তৃত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮৫ সালে প্রথম এই ঢিবিতে খননকাজ শুরু করে। এর এক দশক পর, ১৯৯৫-৯৬ সালে পুনরায় এখানে ইতিহাসের গভীর অনুসন্ধান চালানো হয়। তখন থেকে শুরু করে, ১৯৯৬-৯৭ সালের বিরতি বাদে ২০০০-০১ সাল পর্যন্ত প্রতি মৌসুমে এখানে খননকাজ অব্যাহত থাকে, যা আজ অব্দি সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। দীর্ঘদিনের এই খননকাজের ফলে একটি প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষের অংশবিশেষ উন্মোচিত হয়েছে। তা দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায় যে, স্থাপনাটির মূল উপরি-কাঠামোটি কালের আবর্তে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে যে দৃশ্যমান কাঠামোটি পর্যটকদের মুগ্ধ করে, তা মূলত বিনষ্ট হওয়া সেই প্রাচীন অট্টালিকার এক বিশাল ভিত্তি বা উঁচু मंच।

​প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের করা নকশা ও স্কেচ থেকে এই মন্দিরের এক বিস্ময়কর স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় মেলে। এর পুরো অবয়ব জুড়ে মোট ৮২টি বদ্ধ প্রকোষ্ঠ ধাপে ধাপে ওপরের দিকে উঠে গেছে। ঢিবির ঠিক শীর্ষর দেয়াল প্রায় নয় ফুট প্রশস্ত, যার ভেতরে রয়েছে চারপাশের বর্গাকৃতির চারটি প্রকোষ্ঠ। ধারণা করা হয়, মূল অট্টালিকার প্রধান কক্ষটি এই প্রকোষ্ঠগুলোর ওপরই নির্মাণ করা হয়েছিল। এর ঠিক নিচের অর্থাৎ দ্বিতীয় ধাপের দেয়ালটি তিন ফুট চওড়া এবং এখানে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির ১৯টি প্রকোষ্ঠ। আবার পরবর্তী ধাপে রয়েছে ১৮টি প্রকোষ্ঠ। সাড়ে তিন ফুট চওড়া দেয়ালের চতুর্থ ধাপটিতে আবার ১৯টি বদ্ধ প্রকোষ্ঠের দেখা মেলে। আর একদম শেষ ধাপে ১০ থেকে ১৩ ফুট চওড়া দেয়ালের ভেতর লুকিয়ে আছে ২২টি বদ্ধ প্রকোষ্ঠ। এই প্রকোষ্ঠগুলোর ঠিক নিচেই রয়েছে ভক্ত ও পরিব্রাজকদের জন্য তৈরি প্রায় দশ ফুট চওড়া একটি সুদীর্ঘ প্রদক্ষিণ পথ। মূল মন্দিরের চারদিকে চারটি প্রবেশপথ রয়েছে, যার অবয়বে এখন পর্যন্ত সাতটি প্রকোষ্ঠ উন্মোচিত হয়েছে। তবে এর অনন্য গঠনশৈলী বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, পূর্ব দিকটাই ছিল এই মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার।

​এই মন্দিরের আরেকটি সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে এর ইটের মাঝে। এর নির্মাণে যে বিশাল আকৃতির ইট ব্যবহার করা হয়েছে, তার পরিমাপ দৈর্ঘ্যে ৩৬ সেন্টিমিটার, প্রস্থে ২৬ সেন্টিমিটার এবং পুরুত্বে ৬ সেন্টিমিটার। এত বড় ও ভারী ইট এই অঞ্চলের আর কোনো প্রাচীন পুরাকীর্তিতে বা ঐতিহাসিক নিদর্শনে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়নি।

​কেবল এই বিশাল স্থাপত্যিক ধ্বংসাবশেষই নয়, এই ঢিবির বুক চিরে উদ্ধার করা হয়েছে ইতিহাসের আরও অনেক অমূল্য স্মারক। যার মধ্যে রয়েছে গুপ্তযুগের একটি সুনিপুণ পোড়ামাটির মাথা, পোড়ামাটির মানুষের হাত ও পায়ের কয়েকটি ভগ্ন টুকরো, কয়েকটি মাটির প্রাচীন প্রদীপ, অলংকৃত ইটের টুকরো, প্রাচীন মানুষের পদচিহ্ন-সংবলিত দুটি অনন্য ইটের টুকরো এবং একটি মাটির ক্ষুদ্র পাত্র। কালের ধুলোবালি মেখে টিকে থাকা এই ঐতিহাসিক সম্পদগুলো বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে পরম যত্নে সংরক্ষিত রয়েছে।

​যাঁরা যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে ইতিহাসের এই প্রাচীন আঙিনায় হারিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য ভরত ভায়না যাওয়ার পথটি বেশ সহজ ও মনোরম। খুলনা নগরের দৌলতপুর থেকে ডুমুরিয়ার শাহপুর বাজার হয়ে সামনে মিকশিমিল সড়ক ধরে এগিয়ে, ভদ্রা নদীর সেতু পার হয়ে কিছুদূর গেলেই চোখে পড়বে ছায়া-সুনিবিড় ভরত ভায়না গ্রাম। অসংখ্য গাছগাছালি, বাঁশবাগান আর পাখির কলরবে মুখরিত মেঠো রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকলেই একসময় দূর থেকে নজরে পড়ে দেউলের চূড়া। আবার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খর্ণিয়া বা চুকনগর বাসস্ট্যান্ড হয়েও খুব সহজে লোকাল বাহনে চড়ে এখানে পৌঁছানো যায়।

​সময়ের বিবর্তনে আর মানুষের অবহেলায় ভরত ভায়না দেউল আজ হয়তো তার পূর্বের জৌলুস হারিয়েছে, কিন্তু এর প্রতিটি প্রাচীন ইটের ভাঁজে, বটবৃক্ষের পাতার মর্মরে আজও ফিসফিস করে কথা বলে ওঠে দেড় হাজার বছরের পুরোনো এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা। রোদ-ঝড়-বৃষ্টির সেই দিনে ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়ানোর এই অনুভূতি আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে চিরকাল।

​এসএম শহীদুল ইসলাম: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত, সাতক্ষীরা

Ads small one

সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে গেছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, উড়ছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা

পত্রদূত ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১২ দিন বাকি। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে সাতক্ষীরার শহর থেকে গ্রামাঞ্চল। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বের দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। প্রিয় দলের শক্তি-সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন সমর্থকরা। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সমর্থকরাও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

 

গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার, বাড়িঘর, ঘরের দেয়াল এমনকি বাড়ির সামনে গাছের ডালেও শোভা পাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। কোথাও কোথাও দেখা মিলছে অন্যান্য দেশের পতাকাও। বিশ্বকাপকে ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

আশাশুনি উপজেলার কাপসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, তিনি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি এলাকার ঈদগাহ মাঠের গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে তৈরি কাপড় দিয়ে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক। তাই এবার ঈদগাহর গেট ক্রোয়েশিয়ার পতাকার আদলে সাজিয়েছি। আশা করছি, এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ভালো করবে।

 

বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে শিশু-কিশোরদের মাঝেও। সাতক্ষীরা শহরের কালেক্টরেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সোয়াইব হক আর্জেন্টিনার খুদে সমর্থক। আর্জেন্টাইন তারকা ফুটবলার মেসির ভক্ত সে। কয়েকদিন আগে দাদার কাছ থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি সংগ্রহ করেছে সোয়াইব। তবে স্কুল খোলা থাকা এবং বাড়ির টেলিভিশনের ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবার সরাসরি খেলা দেখতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে তার। তাই দাদাকে অনুরোধ করেছে আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ মোবাইলে রেকর্ড করে রাখতে।

 

বিশিষ্ট সাংবাদিক জি, এম মনিরুল ইসলাম মিনি রাত জেগে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি খেলা দেখেন। গত বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সাপোর্টার থাকলেও এবার তিনি ব্রাজিলের সাপোর্টার। ছেলে সেনা অফিসার আল ইমরান আদনান এর কোথায় তিনি আগের দলে ভিড়েছেন। তবে ছেলে আদনানের ধারণা এবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ান হবে ফ্রান্স।

এদিকে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেড়েছে ক্রীড়া সামগ্রীর বিক্রিও। সাতক্ষীরা শহরের বিউটি খেলাঘর প্লাসের মালিক সেলিম জানান, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

 

তিনি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হতে আর কয়েকদিন বাকি। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকেই দুই দলের জার্সি কিনছেন। এছাড়া দু-একজন ক্রোয়েশিয়াসহ অন্যান্য দলের জার্সিও খুঁজছেন। তবে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিই বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 

বিশ্বকাপের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সমর্থকদের উন্মাদনা। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি ও নানা সাজসজ্জায় ফুটে উঠছে বিশ্বকাপের রঙিন আবহ। শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে জিতবে এবারের বিশ্বকাপ।

দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৩০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় মানিকমিয়া এভিনিউয়ে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ১৬টি স্থানে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ২:০১ অপরাহ্ণ
গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়

গরমকালে অনেকেই চুলকানি, র‌্যাশ বা ঘামাচির সমস্যায় ভোগেন। এই সময়ে আরো একটি সমস্যা দেখা দেয় তা হলো ‘নিকেল অ্যালার্জি’। আংটি, চুড়ি বা ঘড়ি অথবা ধাতব কিছু থেকে এক রকম চর্মরোগ হতে দেখা যায়। এতে ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বাড়ে। কারো ত্বকে বড় বড় ফোস্কা পড়ে। ত্বকের রংও বদলে যায়।
ত্বক চিকিৎসকেরা বলেন, গরমের সময়ে হিট র‌্যাশ ও কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসের সমস্যা বাড়ে। এর থেকে রেহাই পেতে ঘরোয়া কিছু টোটকাই কাজে আসতে পারে।

গরমে র‍্যাশ-চুলকানি এড়াতে করণীয়-

> গরমে গোসলের বিকল্প নেই। দুই থেকে তিনবার গোসল করুন। এতে ত্বক ঠান্ডা থাকবে। গোসলের সময় খুব বেশি সুগন্ধযুক্ত সাবান ব্যবহার করবেন না। হালকা বডিওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে পিএইচ ব্যালান্স বজায় থাকবে। প্রতিবার গোসলের পর অন্তর্বাসসহ পোশাক বদলে ফেলুন।

> গরমের সময় টাইট বা ফিটিং পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন। শরীরে যেন বাতাস প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। টাইট পোশাক পরলেই ত্বকে সংক্রমণ দেখা দেবে। মনে রাখবেন, ত্বকের যেসব স্থানে বেশি ঘাম হয়; সেসব স্থানগুলো যাতে পরিষ্কার ও খোলামেলা থাকে। তাহলেই র্যাশ বা ফুসকুড়ি উঠবে না।

> গোসলের আগে প্রতিবার ত্বকের আক্রান্ত স্থানে বরফের সেঁক নিতে পারেন। এতে জ্বালা-পোড়াভাব ও চুলকানি কমবে। একটি তোয়ালের মধ্যে কিছু বরফ নিয়ে পুরো শরীরে কিছু সময়ের জন্য সেঁক নিতে পারেন।

> চন্দন ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, চন্দন কাঠের গুঁড়োয় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যানালজেসিক আছে। যা ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করে। পাশাপাশি আক্রান্ত স্থানের জ্বালা-পোড়াভাব কমায়। চন্দনের গুঁড়ো সঙ্গে পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখ, গলাসহ আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে পারেন।

> বেকিং সোডা ব্যবহারে ত্বকের চুলকানি বা প্রদাহ মুহূর্তেই কমে। এটি ত্বকের সংক্রমণ রোধে দুর্দান্ত একটি ঘরোয়া প্রতিষেধক। পানির সঙ্গে কয়েক টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে গোসল করুন। এভাবে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে তারপর শরীরে পরিষ্কার পানি ঢেলে গোসল সম্পন্ন করুন।

> অ্যালোভেরার নির্যাস ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-সেপটিক উপাদান আছে। যা ত্বক ঠান্ডা করে সংক্রমণ কমায়। ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে আক্রান্ত স্থানে অ্যালোভেরার রস ব্যবহার করতে পারেন।

সূত্র: আনন্দবাজার