আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে আকস্মিক আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে বেকারির দোকান দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে একটি বেকারি পাওয়া গেছে। দুটি ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে এই বেকারি চলে। কোনো ইঞ্জিনিয়ার নেই। এটা উচিত হয়নি। প্রচুর ময়লা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বেকারিতে খাবার তৈরি হতো। সেখান থেকে কোনো গ্যাস বের হয়েছে কি না যেটি শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে সেটা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে দুজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারাও বেশ কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিন পর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ৩ জুনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এখন মায়েদের সঙ্গে কথা বলা দরকার। আরো তিনজনকে তদন্ত কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের সবকটি প্রবেশমুখ বন্ধ করে ১ নম্বর গেটের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের। ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়। বাগবিতণ্ডায়ও জড়ান তারা।
আদ-দ্বীন হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, বেকারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব না।
দৃশ্যপটে হাজির হন হাসপাতালটির সিনিয়র ম্যানেজার। অপেশাদার আচরণের পাশাপাশি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
হাসপাতালে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা এলেও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর মারমুখী আচরণ শুরু করেন নিরাপত্তা কর্মীরা। এক পর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন শক্ত বস্তু ছুড়ে মারেন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত বুধবার সকালে আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার কারণ ও অব্যবস্থাপনার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তবে মারা যাওয়া শিশুদের মায়ের বক্তব্য নিতে না পারায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চfর দিন পিছিয়ে ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়। সেইসঙ্গে কমিটিতে আরও তিন সদস্যকে যুক্ত করা হয়।









