ইতিহাস গড়া হলো না আর্সেনালের, চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুট ফের পিএসজির ঘরে
এক দশক পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল আবারও উত্তেজনাকর ৯০ মিনিট পার হতে দেখলো ফুটবল প্রেমীরা। বুদাপেস্টে পিএসজি–আর্সেনালের এই লড়াই নিস্পত্তি হলো টাইব্রেকার পরীক্ষাতেই। তাতে শেষ পর্যন্ত ৪–৩ গোলে জিতেছে পিএসজি। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ সেরার ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছে ফরাসি ক্লাবটি। তাতে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে ইংলিশ ক্লাবটির।
এর আগে দুই দলের ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত আধা ঘণ্টার খেলা ১–১ এ সমতায় শেষ হয়। কাই হাভার্টজ আর্সেনালকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টিতে সমতা আনেন উসমান দেম্বেলে।
রবিবার (৩০ মে) রাতে প্রথমার্ধে রক্ষণ জমাট রেখে খেলেছে আর্সেনাল। প্রায় ৭৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও সুবিধা আদায় করতে পারেনি পিএসজি। বিপরীতে ২৩ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলমুখে একটি শট থেকেই সুবিধা আদায় করে গানাররা। পিএসজি চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে চেলসির হয়ে জয়সূচক গোল করা কাই হাভার্টজই আজও আর্সেনালের হয়ে প্রথম গোলের খাতা উন্মুক্ত করেন। ৬ মিনিটের দেওয়া গোলে অবশ্য কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়াও আছে। মার্কিনিউস একটি ক্লিয়ারেন্স ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে বিপরীত দিকে সরাসরি চলে আসে হাভার্টজের পায়ে।
বল নিয়ে বাঁ দিক দিয়ে দারুণ গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। সামনে তখন কেবল ছিলেন গোলকিপার সাফোনভ। বেশ কঠিন একটা কোণ থেকে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে বল জালে জড়ান হাভার্টজ। বল গিয়ে আশ্রয় নেয় নেট’র ওপরের ডান কোণায়।
২৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বুকোয়া সাকার ক্রস থেকে দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো আবারও। তবে সাফোনভ দেখান পারফরম্যান্স। একপ্রকার লাফ দিয়ে হাত দিয়ে বিপদমুক্ত করেন। এ সময় ট্রোসার্ডের পয়ের সঙ্গে লেগে আঘাতও পান রাশিয়ান গোলকিপার। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও গোলপোস্টের নিচে দাঁড়ান সাফোনভ।
৩৬ মিনিটে বুকোয়া সাকাকে বাঁধা দিতে গিয়ে ফ্রি-কিক দেন মেন্দেস। ডিক্লান রাইসের দারুণভাবে ভাসিয়ে দেওয়া ফ্রি-কিকটিতে মাথা ছুঁইয়েছিলেন হাভার্টজ। তবে তার নেওয়া হেডারটি পোস্টের অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়।
শেষ দিকে আর্সেনালের ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই তখন নিজেদের রক্ষণভাগে নেমে আসে। তবে, অবশেষে পিএসজি আক্রমণের একটি ফাঁক খুঁজে পায়। মসকেরাকে ফাঁকি দিয়ে বল কাটিয়ে বক্সে বাড়ান মেন্দেস। হিনকাপিয়ের ক্লিয়ারেন্সটি বক্সের বাইরে থাকা ফ্যাবিয়ানের কাছে চলে যায়। বল পেয়ে দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে গোলের উদ্দেশে হেড করেন তিনি। তবে শটটি লক্ষ্যে থাকেনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে খুবই কম, যার মূল কারণ আর্সেনালের জমাট রক্ষণভাগ। তারা নিজেদের নেওয়া একমাত্র শটটি থেকেই গোল আদায় করে নিয়েছে। অন্যদিকে, পিএসজি তাদের নেওয়া চারটি শটের একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, যার সবশেষ প্রমাণ দেম্বেলের আরেকটি শট বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাওয়া।
প্রথমার্ধে আর্সেনালের লিডের পর দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে পিএসজি। ৬৪ মিনিটে পেনাল্টিতে সমতা আনেন উসমান দেম্বেলে। এরপর যোগ করা ৩০ মিনিটে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। তবুও ফয়সালা না হওয়াতে ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। শ্বারুদ্ধকর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বারের শিরোপা উৎসবে মাতে ফরাসি চাম্পিয়ন পিএসজি।









