শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রতি রাতে ঘুম একই সময় ভেঙে যায়, জেনে নিন কারণ

অনেক মানুষ লক্ষ্য করেন যে তারা প্রায় প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুম ভেঙে যায়। কখনো সেটি মাঝরাতে, কখনো ভোরের দিকে। বিষয়টি অদ্ভুত মনে হলেও এর পেছনে শরীরের ভেতরের জৈবিক ঘড়ি, ঘুমের অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং কিছু শারীরিক সমস্যাও কাজ করতে পারে।

ঘুমের এই পুনরাবৃত্তি সবসময়ই বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত নাও হতে পারে, তবে কারণগুলো বুঝতে পারলে ঘুমের মান উন্নত করা সহজ হয়।

শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের ছন্দ
মানুষের শরীরের একটি নিজস্ব সময়সূচি থাকে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এটি প্রায় ২৪ ঘণ্টার একটি চক্র, যা মস্তিষ্কের একটি অংশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

এই জৈবিক ঘড়ি ঠিক করে দেয় কখন ঘুম আসবে, কখন শরীর জেগে উঠবে, এমনকি শরীরের তাপমাত্রা এবং হরমোন নিঃসরণের সময়ও নিয়ন্ত্রণ করে।

যদি কেউ প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যায়, তাহলে শরীর সেই সময় অনুযায়ী একটি অভ্যাস তৈরি করে নেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কেউ প্রতিদিন রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়েন এবং শরীরের ঘুমের চক্র ছয় ঘণ্টার হয়, তাহলে ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে যাওয়া স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

অনেক সময় মানুষ এই জেগে ওঠা টেরও পান না, কারণ ঘুম এবং জাগরণের মাঝামাঝি একটি হালকা অবস্থায় তারা আবার ঘুমিয়ে পড়েন।

ঘুমের ধাপগুলো যেভাবে কাজ করে
ঘুম একটানা এক অবস্থায় থাকে না। এটি কয়েকটি ধাপে বিভক্ত থাকে।

প্রথমে থাকে হালকা ঘুম, এরপর গভীর ঘুম, এবং পরে আসে স্বপ্নের ধাপ। এই পুরো প্রক্রিয়াটি একটি চক্রের মতো চলতে থাকে।

প্রতি ৯০ থেকে ১২০ মিনিট পর ঘুমের একটি পূর্ণ চক্র শেষ হয়। তখন সামান্য সময়ের জন্য ঘুম ভেঙে যেতে পারে। অনেক সময় এটি এত দ্রুত ঘটে যে আমরা তা মনে রাখি না।

প্রতি রাতে একই সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণ-

পরিবেশগত কারণ
ঘুম ভাঙার পেছনে আশপাশের পরিবেশ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

রাতের শব্দ, যেমন যানবাহন, ট্রেন বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের শব্দ ঘুমের মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। ঘরের এসি বা হিটার চালু এবং বন্ধ হওয়াও ঘুম ভেঙে দিতে পারে।

তাপমাত্রার পরিবর্তনও একটি কারণ। শীতকালে রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে বা গরমে বেশি গরম লাগলে শরীর ঘুমের মধ্যে সাড়া দিতে পারে।

ডিজিটাল ডিভাইসের প্রভাব
মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট বা টেলিভিশনের মতো ডিভাইস ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব যন্ত্র থেকে আসা আলো বা শব্দ মস্তিষ্ককে সক্রিয় করে রাখতে পারে।

ঘুমের সময় হালকা শব্দ বা আলোও ঘুমের গভীরতা কমিয়ে দিতে পারে, ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
চাপ এবং দুশ্চিন্তা ঘুমের বড় শত্রু। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপ থাকলে শরীরের রক্তচাপ এবং হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে।

এর ফলে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা বা অস্থির অনুভূতি হতে পারে। উদ্বেগজনিত সমস্যায় এই পরিস্থিতি আরও বেশি দেখা যায়।

ঘুমের ব্যাধি
কিছু শারীরিক সমস্যাও নিয়মিত ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এতে শরীর অক্সিজেনের ঘাটতি অনুভব করে এবং হঠাৎ ঘুম ভেঙে যেতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো ঘুমের সময় শরীর চলতে না পারা, যা অনেককে ভয় পেয়ে জাগিয়ে তোলে।

চোখেই মিলতে পারে ফ্যাটি লিভারের ইঙ্গিত, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন
রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হলে ঘুম নিয়মিতভাবে ভেঙে যেতে পারে। এটি ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট সমস্যা, ব্লাডার সমস্যা বা অতিরিক্ত পানি পান করার কারণে হতে পারে।

কখনো কখনো ঘুমের শ্বাসকষ্টের সমস্যাও এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

হজমজনিত সমস্যা
অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে শোয়ার পর বুক জ্বালা বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষ করে সমতলভাবে শুয়ে থাকলে পেটের অ্যাসিড ওপরে উঠে এসে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যা ঘুম ভেঙে দেয়।

হরমোনের পরিবর্তন
নারীদের ক্ষেত্রে বয়স বা শারীরিক পরিবর্তনের কারণে হরমোনের ওঠানামা ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে রাতের ঘাম, হঠাৎ গরম লাগা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

গর্ভাবস্থায়ও শরীরের পরিবর্তনের কারণে ঘুম ভাঙা সাধারণ একটি বিষয়।

বয়স বাড়ার প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের মান পরিবর্তিত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে গভীর ঘুম কমে যায় এবং ঘুম ভাঙার প্রবণতা বেড়ে যায়।

এ ছাড়া বয়সজনিত নানা রোগ যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টও ঘুমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ ঘুমের স্বাভাবিক চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ওষুধ শরীরকে উত্তেজিত রাখে, আবার কিছু ওষুধ বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া ক্যাফেইন বা উদ্দীপক জাতীয় উপাদানও ঘুম ভাঙার কারণ হতে পারে।

প্রতি রাতে একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়া সবসময় গুরুতর সমস্যা নাও হতে পারে। অনেক সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক অভ্যাস বা জীবনযাত্রার ফল। তবে যদি এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে এবং ক্লান্তি বা অস্বস্তি বাড়ায়, তাহলে ঘুমের অভ্যাস, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সঠিক অভ্যাস এবং সচেতনতার মাধ্যমে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব এবং রাতে গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

সূত্র: ভেরি ওয়েল হেল্থ

Ads small one

শারদীয় দুর্গোৎসব: মহাসপ্তমীতে সাতক্ষীরার মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের আরাধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
শারদীয় দুর্গোৎসব: মহাসপ্তমীতে সাতক্ষীরার মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের আরাধনা

নিজস্ব প্রতিনিধি: ঢাকে কাঠি পড়ার পর মায়ের নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে আজ শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা। শুভ মহাসপ্তমীর ভোর থেকেই সাতক্ষীরার ৬১২টি পূজা মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটতে থাকে। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের পর থেকেই ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত রূপসী মণ্ডপগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বিশেষ করে বুড়িয়ার আকর্ষণীয় প্রতিমা দর্শনে ভক্তদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ দেখা গেছে।

 

সাতক্ষীরার কাটিয়া সরকারপাড়া শ্রী শ্রী সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে মহাসপ্তমীর প্রাতে ভক্তদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত মাধব দত্ত মহাসপ্তমীর বিশেষ মাহাত্ম্য তুলে ধরে বলেন, “আজকের এই তিথি ভক্তদের মাঝে এক নতুন ভক্তি ও চেতনার সঞ্চার করে।” মণ্ডপটির পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনাকারী পুরোহিত হরিদাস ব্যানার্জি সবাইকে শান্তিতে ও শৃঙ্খলায় বসবাসের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতার পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

 

মণ্ডপে আগত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাগরিকা সাহা নারীর নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন। একই সাথে সার্বিক নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে স্থানীয় দর্শনার্থী উৎপল সাহা বলেন, “পূজার শুরু থেকে যে সুন্দর শৃঙ্খলা গড়ে উঠেছে, তা যেন শেষ পর্যন্ত অটুট থাকে।”

 

শিক্ষিকা মানসী মজুমদার বিরাজমান অস্থিরতা দূর হওয়ার আকুতি জানিয়ে বলেন, “সর্বত্র যে অস্থিরতা চলছে, তা দূর হয়ে মানুষের মধ্যে স্থিরতা আসুক। প্রভুর প্রতি ভক্তের ভালোবাসার পাশাপাশি ভক্তদের জন্য জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি হোক।” অন্যদিকে, শিক্ষক উত্তম মণ্ডল শিক্ষা ও জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “জীবন আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। শান্তির সমাজ বিনির্মাণে সকলকে একত্রিত হয়ে মায়ের আশীর্বাদ ও করুণা প্রার্থনা করতে হবে।”

 

পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন মণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নানা লোকজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

অর্থনীতির তৃতীয় শক্তি হতে পারে পর্যটন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অর্থনীতির তৃতীয় শক্তি হতে পারে পর্যটন

মো: মামুন হাসান

একটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার আয়ের উৎসের বৈচিত্র্যের ওপর। বাংলাদেশের বহির্খাত দীর্ঘদিন দুটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আছে, তৈরি পোশাক রপ্তানি আর প্রবাসী আয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতা এখন দুটিকেই একসঙ্গে চাপে ফেলেছে। জ্বালানি ও জাহাজভাড়া বেড়েছে, পশ্চিমা ক্রেতারা ক্রয়াদেশ ধরে রাখছেন, আর শ্রমিকদের বিদেশযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটে একটি প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে: যে খাত আমাদের নদী, সমুদ্র, বন আর আতিথেয়তাকে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করতে পারে, সেই পর্যটন কি হতে পারে পরবর্তী অর্থনৈতিক শক্তি?

 

বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব এ প্রশ্নের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেয়। ডব্লিউটিটিসির তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে রেকর্ড ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করেছে, যা বৈশ্বিক জিডিপির ৯.৮ শতাংশ। খাতটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.১ শতাংশ, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছে ২.৮ শতাংশ হারে। এই খাত বিশ্বজুড়ে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে এবং নতুন সৃষ্ট প্রতি তিনটি চাকরির একটি এসেছে এখান থেকে। ইউএন ট্যুরিজমের হিসাবে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক ছিলেন প্রায় ১৫২ কোটি, পর্যটকদের খরচ ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিবহন যোগ করলে পর্যটনের মোট রপ্তানি আয় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। দৃষ্টান্ত হিসেবে স্পেনে পর্যটন জাতীয় জিডিপির ১৫.৩ শতাংশ, আর সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে খাতটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিশ্ববাজার শুধু বড় নয়, আমাদের অঞ্চলেই সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

 

এই বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো বিনয়ী। সরকারি ভাষ্যে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ, যা ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষিত হয়েছে। ডব্লিউটিটিসির হিসাবে ২০২৩ সালে খাতটির অর্থনৈতিক অবদান ছিল প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার এবং কর্মসংস্থান ছিল প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার, যা মোট কর্মসংস্থানের ৩ শতাংশ। অবদান জিডিপির ৬ শতাংশে পৌঁছালে, বর্তমান ভিত্তি ধরে মোটা দাগে বছরে আরও ৯ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়। এটি একটি সরল প্রক্ষেপণ মাত্র, পূর্বাভাস নয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিকটি আরও লক্ষণীয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় ছিল মাত্র ৩৯১ মিলিয়ন ডলার, আর ২০২০ সালে তা নেমে আসে ২১৮ মিলিয়নে। এর বিপরীতে ২০২৫ সালে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার। পর্যটনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক আয় এখনো প্রবাসী আয়ের ২ শতাংশেরও কম। এই ব্যবধানই সম্ভাবনার পরিমাপ। একটি সহজ হিসাব ধরা যাক: বছরে যদি আরও ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক এসে গড়ে হাজার ডলার করে খরচ করেন, তবে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আসে, যা ২০১৯ সালের মোট পর্যটন আয়ের আড়াই গুণেরও বেশি।

 

পর্যটনকে “অদৃশ্য রপ্তানি” বলা হয়, কারণ এখানে ভোক্তা পণ্যের কাছে যান না, পণ্যই ভোক্তার কাছে আসে। এতে বন্দরজট, জাহাজভাড়া বা সামুদ্রিক পথের ঝুঁকি নেই। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে এই বৈশিষ্ট্য মূল্যবান। দেশের রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর, আর সেই খাতই এখন চাপে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫.৫১ শতাংশ, মার্চে মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের মার্চের চেয়ে কমেছে ১৮.০৭ শতাংশ। বিজিএমইএর হিসাবে জুলাই থেকে মে পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৪১ শতাংশ কম। পোশাক শিল্পের মুনাফার হারও ৪ শতাংশের নিচে, ফলে খরচ বাড়লে তা শোষণের সক্ষমতা সীমিত। প্রবাসী আয়েও ঝুঁকি আছে। ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫.৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এডিবি সতর্ক করেছে, সংঘাতে অঞ্চলটির শ্রমবাজার দুর্বল হলে এই আয় চাপে পড়তে পারে। তুলনায় পর্যটনে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের প্রয়োজন কম, ফলে আয়ের বড় অংশ দেশের ভেতরেই থাকে। হোটেলের খাবার, পরিবহন, হস্তশিল্প, নৌযান, গাইড ও স্থানীয় বাজারে এই অর্থ ঘুরে গুণক প্রভাব তৈরি করে। এভাবে এক ডলারের বৈদেশিক ব্যয় অর্থনীতিতে একাধিকবার হাত বদলায় এবং কারখানাহীন উপকূল, হাওর ও পাহাড়ি জনপদে আয় ও কর্মসংস্থান ছড়িয়ে দেয়।

 

তবে বিপুল সম্ভাবনাকে আয়ে রূপ দিতে হলে কয়েকটি কাঠামোগত বাধা সরাতে হবে। পর্যটনের প্রথম শর্ত আস্থা, আর বিদেশি পর্যটকের কাছে নিরাপত্তার অর্থ শুধু অপরাধ না থাকা নয়। হয়রানি, প্রতারণা, অস্বচ্ছ ভাড়া, ভাষাগত বাধা ও জরুরি সহায়তার নিশ্চয়তাও এর অংশ। এর সঙ্গে আছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, জটিল ভিসা প্রক্রিয়া, উচ্চ বিমানভাড়া ও কর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব। সবচেয়ে অবহেলিত সমস্যা দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি। ভালো হোটেল গড়া সহজ, ভালো আতিথেয়তা গড়া কঠিন। শিক্ষক হিসেবে দেখি, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসূত্র এখনো দুর্বল।

 

এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন প্রচলিত পথের বাইরের ভাবনা। প্রথমত, নিরাপত্তাকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে একটি ডিজিটাল ট্যুরিস্ট পাস চালু করা যায়। এক কিউআর কোডে নিবন্ধন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা, বহুভাষিক সহায়তা এবং জরুরি নাম্বারের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। এতে পর্যটকের ঝুঁকিবোধ কমবে, আর সরকার পাবে রিয়েল টাইম পর্যটন তথ্য, যা পর্যটন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির ভিত্তি হবে। দ্বিতীয়ত, বিপণনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজে লাগানো যায়। বিদেশে থাকা পরিবারগুলো ইতিমধ্যে দেশের সঙ্গে আবেগে যুক্ত, তাই তাঁদের জন্য “দেশে ছুটি” প্যাকেজ এবং বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আসার প্রণোদনা কম খরচে বড় বাজার তৈরি করতে পারে। প্রবাসী আয়ের একটি অংশ পর্যটন অবকাঠামোয় টানতে একটি ডায়াসপোরা ট্যুরিজম বন্ডও ভাবা যায়। তৃতীয়ত, ঋতুভিত্তিক চাহিদার ঢেউ সামলাতে গতিশীল মূল্যনির্ধারণ ও অফ সিজন প্রণোদনা দরকার। কক্সবাজারে বর্ষায় ও হাওরে শুষ্ক মৌসুমে আবাসন ফাঁকা থাকে। সম্মেলন পর্যটন ও ইভেন্ট আয়োজনে সারা বছরের আয়ের ধারা তৈরি করা যায়, যা বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত প্রতিদান বাড়ায়।

 

চতুর্থত, পর্যটককে ভোক্তা থেকে স্থানীয় শিল্পের ক্রেতায় রূপান্তর করা জরুরি। জামদানি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চা ও মৎস্যজাত পণ্যকে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের অধীনে আনলে পর্যটকের ব্যয়ের বড় অংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনে যাবে। বিদেশি পর্যটকদের কেনাকাটায় আগমনকালীন কর ফেরত চালু করলে হস্তশিল্পের বিক্রি বাড়বে। হোটেল ও রিসোর্টে স্থানীয় কৃষিপণ্য কেনা বাধ্যতামূলক বা প্রণোদনার আওতায় আনলে কৃষির সঙ্গে পর্যটনের পশ্চাৎ সংযোগ শক্ত হবে। পঞ্চমত, সুন্দরবন, হাওর ও পাহাড়ের মতো পরিবেশগতভাবে মূল্যবান এলাকায় কমিউনিটি মালিকানাধীন হোমস্টে ও ইকো লজ গড়া যায়, যেখানে আয়ের একটি অংশ স্থানীয় সমবায়ের হাতে যাবে। পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সবুজ উপকর বসিয়ে তার পুরো অর্থ ওই এলাকার সংরক্ষণেই ব্যয় করলে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে টেকসই ভারসাম্য থাকবে। ম্যানগ্রোভ ও বনভিত্তিক কার্বন ক্রেডিটের আয় এই তহবিলের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

 

ষষ্ঠত, আকাশপথ ও ভিসা নীতি বিনিয়োগের নিয়ামক। নির্বাচিত বাজারের জন্য অনলাইন ও আগমনকালীন ভিসা, মৌসুমি চার্টার ফ্লাইটে প্রণোদনা এবং বিমান জ্বালানির ওপর করের যৌক্তিকীকরণ আনলে আসনপ্রতি খরচ কমবে। ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার মতো দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ দিলে অবস্থানকালভিত্তিক মাথাপিছু আয় বাড়বে, কারণ পর্যটন অর্থনীতিতে পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে মাথাপিছু ব্যয় ও থাকার মেয়াদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তমত, বিনিয়োগে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও আমদানি শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা যায়। সবশেষে মানবসম্পদে বিনিয়োগ, অর্থাৎ পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আতিথেয়তা শিক্ষা সম্প্রসারণ, হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সরাসরি শিক্ষানবিশি চুক্তি এবং ভাষাশিক্ষার ওপর জোর। মানসম্মত সেবা দিতে পারলে একই গন্তব্য থেকে বেশি মূল্য আদায় করা যায়, যা সরাসরি লাভজনকতা বাড়ায়।

 

সরকার জাতীয় পর্যটন পরিষদ গঠন করেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে। কাঠামো তৈরি হয়েছে, এখন চাই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। পর্যটন রাতারাতি পোশাক খাতের বিকল্প হবে না, হওয়ার প্রয়োজনও নেই। কিন্তু আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে অর্থনীতির শক্তি নিহিত তার বৈচিত্র্যে। যে দেশ শুধু কারখানা আর প্রবাসী শ্রমের ওপর নির্ভর করে, সে প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংকটে কাঁপে। সুপরিকল্পিত পর্যটন নীতি, নিরাপদ পরিবেশ ও স্থানীয় মূল্য সংযোজনের সমন্বয়ে পর্যটন হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য অদৃশ্য রপ্তানি খাত।

 

লেখক: মো: মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ।

অন্ধ উন্মাদনা : গণপিটুনির আড়ালে আমরা কোথায় যাচ্ছি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অন্ধ উন্মাদনা : গণপিটুনির আড়ালে আমরা কোথায় যাচ্ছি?

‎তারিক ইসলাম

‎

‎সম্প্রতি সাতক্ষীরায় পর পর দুটি নৃশংস ঘটনা দেশের সচেতন বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাড়ি ঘেরাউ করে গণপিটুনিদিয়ে ১ম দফায় আহত করারপর হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এক যুবককে দুই দফায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ও জাতীয় প্র‍ত্র‍িকার খবর—তিনি কিছুটা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

অপরদিকে, সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির সন্দেহে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে, নির্দয়ভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও অন্তর্দাহ ও পরিণতি একই—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং মানুষ হিসেবে মৌলিক মানবিক অনুভূতির চরম অবক্ষয়।

‎

‎এই নৃশংসতা কেবল দুটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্ব, অনুভূতির অন্ধ চরমপন্থা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার একটি করুণ প্রতিফলন।

‎

‎১. সামাজিক মনস্তত্ত্ব : গুজবের জয় ও মানবিক অবক্ষয়

‎

‎বর্তমানে আমাদের সমাজে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই ‘জনতা’ হিংস্র হয়ে ওঠার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও, ভিডিও বা গুজব মুহূর্তেই গণ-উন্মাদনায় রূপ নিচ্ছে। যুক্তি, সহমর্মিতা ও আইনি বিচারকে পাশ কাটিয়ে একশ্রেণির মানুষ নিজেদের বিচারক ও জল্লাদ হিসেবে ঘোষণা করছে। ক্ষোভ উসকে দিয়ে দলবদ্ধ হিংসার সুযোগ নেওয়া—যাকে আমরা ‘মব কালচার’ বলছি—তা সমাজকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যের প্রাণ কেড়ে নিয়ে বিচারিক তৃপ্তি খোঁজার এই মনস্তত্ত্ব একটি অসুস্থ সমাজব্যবস্থার লক্ষণ।

‎

‎২. ধর্মীয় চেতনা: বিশ্বাসের অবক্ষয় নাকি অপব্যবহার?

‎

‎ধর্ম প্রতিটি মানুষকে ক্ষমা, সহনশীলতা, শান্তি ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়। যেকোনো ধর্মে অন্যায় বা অপপ্রচারের বিচারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচার কাঠামোর ওপর। কিন্তু যখন ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বা হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও মুমূর্ষু মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, তখন কি সত্যিই ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়? উগ্রতার আড়ালে হিংসা চরিতার্থ করা ধর্মীয় অনুভূতির মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কোনো গুজবের ভিত্তিতে একজন মানুষকে বিচার ছাড়া হত্যা করা কোনো সুস্থ বিশ্বাস বা ধর্মের নির্দেশ হতে পারে না।

‎

‎৩. আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

‎

‎আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এই ঘটনাগুলোতে অত্যন্ত করুণভাবে উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ প্রথম দফায় দেবহাটায় যুবকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও তাণ্ডবকারীরা হাসপাতাল থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর ও নিরাপদ স্থানে গিয়ে তাণ্ডব চালানোর সাহস গণ-উত্তেজিত জনতা কীভাবে পায়, সেই প্রশ্ন আজ এড়ানো অসম্ভব। আইনের প্রতি ভয় ও শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার ফলেই বারবার এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। কোনো দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হলে ও অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বলতে আর কিছু থাকে না।

‎

‎উত্তরণের পথ কি?

‎

‎এই পরিস্থিতির থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের তিনটি প্রধান বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

‎

‎আইনের কঠোর প্রয়োগ: দেবহাটা ও তালার প্রতিটি অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল ‘উদ্ধারকারী’ নয়, বরং প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রস্তুত ও সক্ষম হতে হবে।

‎

‎গুজব প্রতিরোধ ও সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য না যাচাই করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যে মারাত্মক অপরাধ হতে পারে, সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

‎

‎সামাজিক ও সামাজিক-ধর্মীয় সচেতনতা: আলেম-ওলামা, শিক্ষক, এবং সমাজনেতাদের এগিয়ে এসে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ধর্ম ও সমাজ—উভয়ের দৃষ্টিতেই মারাত্মক অপরাধ।

‎

‎একটি সভ্য সমাজে অপরাধীর বিচার করার একমাত্র অধিকার দেশের আদালতের। যদি চুরির সন্দেহ বা কোনো মন্তব্যের জেরে মানুষ নিজেই আইন ও বিচারব্যবস্থার স্থান দখল করে নেয়, তবে রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাতক্ষীরার এই দুটি রক্তক্ষরণী ঘটনা আমাদের জন্য শেষ সতর্কবার্তা। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই এবং আইনি শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করি, তবে এই অন্ধ উন্মাদনার আগুন কাল আমাদের প্রত্যেকের দরজায় এসে পৌঁছাবে।

‎

‎লেখক : তারিক ইসলাম

‎সভাপতি,সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

‎