বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩

রাগ থেকে কলহ : কলহে অশান্তি ও মানসিক ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
রাগ থেকে কলহ : কলহে অশান্তি ও মানসিক ক্ষতি

মানুষের রাগ একটা জটিল ও ক্ষতিকর বিষয়। কেননা রাগ থেকে সৃষ্টি হয় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি বা কলহ। আর কলহ থেকে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়। আবার অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তে প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। যা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষকরা গবেষণা করে দেখেছেন, সুখী দম্পতিদের চেয়ে অসুখী দম্পতিদের ক্ষত বা ঘা নিরাময় হতে দীর্ঘ সময় লাগে। এছাড়া এ ধরনের অসুখী দম্পতিদের বিষাদগ্রস্ততা, উচ্চ রক্তচাপসহ হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত রাগের সময় কর্টিসল হরমোন ক্ষরিত হয়, কর্টিসল (Cortisol) হল অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত একটি প্রধান স্টেরয়েড হরমোন, যা “স্ট্রেস হরমোন” নামে পরিচিত। এটি শরীরের বিপাক নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রক্তচাপ ও শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। মানসিক বা শারীরিক চাপের সময় এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শরীরকে সামাল দিতে সাহায্য করে।

দীর্ঘ সময় ধরে রেগে থাকলে এই হরমোন শরীরকে অবিরত ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় রাখে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সাময়িকভাবে অকার্যকর করে দেয়। সুতরাং রাগে কলহ আর কলহ থেকে শারিরীক ও মানসিক ক্ষতি অনিবার্য!

ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা রিপোর্টে জানা গেছে, অসুখী দম্পতিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, দাম্পত্য কলহ থেকে যে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয় তা রক্তে প্রোটিনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়িয়ে দেয়। অসুখী দম্পতিদের জন্য এটি দুঃসংবাদ বটে।

জেনে নিন রাগের সময় শরীরে কি ঘটে
আমরা যখনই রেগে যাই বা কোন মানসিক বা শারীরিক চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়, মস্তিষ্ক কিডনির ওপরে অবস্থিত অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিকে সঙ্কেত পাঠায় ফলে, গ্রন্থি থেকে দ্রুত কর্টিসল হরমোন রক্তে নিঃসৃত হয়।

কর্টিসল যকৃতে প্রোটিন এবং চর্বি ভেঙে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, এর ফলে শরীর তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস পায়।

আবার কর্টিসল ইনসুলিনের কার্যকারিতার বাধা দেয়, যাতে পেশি বা চর্বি গ্লুকোজ ব্যবহার না করে এবং মস্তিষ্ক তা পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারে। (কর্টিসল কোষের ইনসুলিন রিসেপ্টর এবং পরবর্তী সংকেত প্রদান ব্যবস্থা নষ্ট করে, ফলে ইনসুলিন থাকলেও কোশ গ্লুকোজ গ্রহণ করতে পারে না, সাময়িক ডায়াবেটিসের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়)

রাগ হজম প্রক্রিয়ার ওপরেও খারাপ প্রভাব ফেলে,যাকে বলে “অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেল্থ ব্যাহত হয় (Gut Health)”, এটা কেবল হজম প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত নয়, বরং এটি আমাদের মানসিক অবস্থা, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

কর্টিসলের উচ্চমাত্রা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুব খারাপ, কারণ অতিরিক্ত কর্টিসল অন্ত্রের কোশগুলোর মধ্যেকার সূক্ষ্ম সংযোগ বা ‘টাইট জাংশন’ গুলোকে দুর্বল করে দেয়, এরফলে অন্ত্রের প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়লে টক্সিন, ক্ষতিকর জীবাণু সরাসরি রক্তপ্রবাহে মিশে যায়, যা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন তৈরি করে।

অন্যদিকে আমাদের অন্ত্রে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া থাকে যা ‘মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত, দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস এবং রাগ এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, স্ট্রেসের কারণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়।

আবার রাগের সঙ্গে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ মানসিক উত্তেজনা বা রাগ মস্তিষ্কের মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে সংকেত পাঠিয়ে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে এবং খাদ্যনালীর পেশী শিথিল করে রিফ্লাক্স বা অম্বল বাড়িয়ে দেয়। রাগের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপ (Stress) শরীরের সংবেদনশীলতা বাড়ায়, ফলে সামান্য অ্যাসিডেও তীব্র বুকজ্বালা অনুভূত হয় এবং খাবার হজমে দেরি হয়, যা রিফ্লাক্সের ঝুঁকি বাড়ায়।

(সায়েন্স ম্যাগাজিন)

Ads small one

মনিরামপুর হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
মনিরামপুর হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনা

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের শয্যা সংকট ও রোগীদের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে। মনিরামপুরের সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা যায়, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা, জনবল সংকট এবং শয্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলেই হাসপাতালটি ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে।

আশাশুনির বড়দলে যাত্রীবাহী বাসে হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনির বড়দলে যাত্রীবাহী বাসে হামলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারে রাস্তার পাশে রাখা ভ্যান ও ইজিবাইক সরানোকে কেন্দ্র করে যাত্রীবাহী বাসে হামলা, ভাংচুর, নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনতাইঢের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় বাসের সুপারভাইজার ও চালক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রো-জ-১১-১০৭১ নং যাত্রীবাহী মিনি বাস সাতক্ষীরা বাসস্ট্যান্ড থেকে বড়দলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপুর ১২টার দিকে বাসটি গোয়ালডাঙ্গা বাজারে তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে রাস্তার দুই পাশে রাখা ভ্যান ও ইজিবাইকের কারণে যান জটের সৃষ্টি হয়। হর্ন বাজিয়েও রাস্তা ফাঁকা না হওয়ায় বাসের সুপারভাইজার রবিউল ইসলাম কয়েকটি ভ্যান সরিয়ে রাস্তার পাশে রাখেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে সুপারভাইজারের ওপর হামলা চালিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয় ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা যাত্রী ভাড়ার ৩ হাজার ৭০০ টাকা, বাস মালিকের ৭ হাজার টাকা এবং প্রায় ১৭ হাজার ৯৯৯ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাকে রক্ষা করতে বাসচালক মোজাম্মেল হোসেন এগিয়ে গেলে ইটের আঘাতে আহত করা ও ১ হাজার ২০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বাসের গ্লাস ভাঙচুর করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। আহত চালক ও সুপারভাইজারকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৮-২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান বলেন, এজাহার পেয়েছি, প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

পাইকগাছায় বৃষ্টিতে বিপাকে নি¤œ আয়ের মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বৃষ্টিতে বিপাকে নি¤œ আয়ের মানুষ

পলাশ কর্মকার, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় টানা তিন দিনের অবিরাম বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকা এবং একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নি¤œ আয়ের মানুষ।
টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা ও কাঁচা রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পৌর সদরসহ বিভিন্ন বাজারের সড়কগুলোতে লোকজনের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক কম। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে চিরচেনা ব্যস্ত রাস্তাঘাট ও বাজারগুলো এখন অনেকটাই জনশূন্য।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিক ও মৎস্যজীবীসহ দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা। বৃষ্টির কারণে বাইরে কোনো কাজ না থাকায় টানা তিন দিন ধরে পুরোপুরি বেকার বসে আছেন দিনমজুররা।
ক্ষেতে কাজ করা শ্রমিক ইসলাম সরদার বলেন, ‘একদিন কাজ না করলে ঘরে উনুন জ্বলে না, সেখানে টানা তিন দিন ধরে কোনো কাজ নেই। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’
পৌর সদরের ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম জানান, রাস্তায় যাত্রী না থাকায় দিনভর ভিজেও কাঙ্ক্ষিত উপার্জন হচ্ছে না। বাজারে অন্য দিনের মতো লোকজন না আসায় আয় কমে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, হঠাৎ এই টানা বৃষ্টিতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। উপজেলার কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতার সমাগম নেই বললেই চলে। বেচাকেনা বন্ধ থাকায় লোকসানের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া বৃষ্টির কারণে উপজেলার কিছু কিছু এলাকার আমন চাষী ও বীজতলার সামান্য ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আরও কয়েকদিন স্থায়ী হলে নি¤œ আয়ের মানুষের কষ্ট আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।