শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কাদার নিচে সোনা-রুপা খোঁজা একজন নাজিমের গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
কাদার নিচে সোনা-রুপা খোঁজা একজন নাজিমের গল্প

রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): সকাল হলেই কাঁধে চেপে বসে এক টুকরো অনিশ্চয়তা আর আশা। মেঠো পথ, আধা পাকা রাস্তা কিংবা পিচ ঢালা পথ ধরে হেঁটে চলেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অলিতে-গলিতে ঘুরে চড়া গলায় জানান দেন নিজের উপস্থিতির কথাÑপুকুর বা জলাশয়ে হারিয়ে যাওয়া সোনা-রুপার গহনা খুঁজে দেওয়াই তাঁর কাজ।

এই মানুষের নাম নাজিম মাহমুদ (৪০)। মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালিমান্দ্রা গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে তিনি। তবে এখন তাঁর ঠিকানা সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার সংযোগস্থল মৌতলা এলাকায়। সেখানে একটি ছোট ঘর তৈরি করে বাস করছেন। পরিচয় দেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে।

বাপদাদার চৌদ্দ পুরুষের এই আদি পেশাকেই নিজের জীবিকা বানিয়েছেন নাজিম। অথচ ইচ্ছে ছিল অন্য রকম। পড়াশোনা শিখে কোনো ভদ্রস্থ চাকরি করবেন। সেই লক্ষ্যে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অর্থাভাবে পড়ালেখা আর এগোয়নি। অগত্যা ২০০৬ সাল থেকে বাবার হাত ধরে নেমে পড়েন এই হারানো গহনা খোঁজার পেশায়।

নাজিম জানান, কাজ শুরু করার আগে রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম গুরু ছিলেন তাঁর ভগ্নিপতি মো. রাহিন। এরপর থেকে একা একাই দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, মোংলা, বরগুনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে কাজ করেছেন। আয়ের সুবিধার জন্য বেদে সম্প্রদায়ের মানুষেরা সাধারণত এলাকা ভাগ করে নেন।

কাজের ধরনটা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। একটি শক্ত লাঠির মাথায় চিরুনির মতো লোহার আঁচড়া আর একটি টিনের হুঁচাÑএই হলো নাজিমের অস্ত্র। পুকুর বা জলাশয়ে কোনো গহনা হারিয়ে গেলে, ভুক্তভোগী মানুষের দেওয়া বর্ণনামতে পানিতে নেমে পড়েন তিনি। লোহার আঁচড়া দিয়ে নরম কাদা-মাটি আর আবর্জনা টেনে তোলেন টিনের হুঁচায়। তারপর তা ধুয়ে-মুছে নিখুঁতভাবে খুঁজতে থাকেন। এভাবেই কাদার নিচ থেকে বেরিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই সোনা বা রুপার গহনা।

পারিশ্রমিক কেমন মেলে? নাজিম জানান, উদ্ধার হওয়া গহনার ওজনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি ঠিক করা হয়। সাধারণত হারানো জিনিসের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতকরা অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একটি সোনার কানের দুল খুঁজে পেলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার কম মজুরি হয় না। অনেকে খুশি হয়ে বেশি টাকাও বকশিশ দেন। এভাবে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয় তাঁর। বিভিন্ন দেওয়ালে বা দর্শনীয় স্থানে নিজের মোবাইল নম্বরটিও লিখে রাখেন তিনি, যাতে দরকারে মানুষ সহজে খুঁজে পায়। এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের হারিয়ে যাওয়া গহনা উদ্ধার করেছেন তিনি।

তবে এই কাজে ঝুঁকিও কম নয়। পানিতে জোঁকের কামড় তো আছেই, পুরানো ভাঙা ঘাটের নিচে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা কেটে যায় প্রায়ই। গভীর পানিতে বারবার ডুব দেওয়ার কারণে চোখ ও কানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দিনভর হেঁটে চলার ক্লান্তি তো বোনাস।

নাজিম আক্ষেপ করে বলেন, এখন আর এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন। দিন দিন পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাথরুমের চল বাড়ায় এখন মানুষ আর পুকুরে গোসল করতে গিয়ে গহনা হারায় না। সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের এর ব্যবহারও কমেছে। ফলে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই পেশা ও বেদে সম্প্রদায়কে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

 

 

Ads small one

কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

oplus_0

 

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী ও হত্যা মামলার আসামি মহিদুল গাজীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে কাশিমনগর বাজারের প্রধান সড়কে মানববন্ধন, পথসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাজসেবক এম বুলবুল আহমেদের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন পাইকগাছা উপজেলা মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শেখ সেকেন্দার আলী, সাবেক ইউপি সদস্য মাজেদা পারভীন, মাওলানা আবু মুসা, গোলাম মোস্তফা গাজী ও তাসমিরা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদক ব্যবসায়ী ও নিজের ভাবিকে হত্যাকারী মহিদুল গাজীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিহতের মেয়ে তাসমিরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার চাচা মহিদুল গাজী আমার মাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু গত ২১ এপ্রিল জামিনে বেরিয়ে আসার পর থেকে সে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা উল্টো তাদের ও মামলার সাক্ষীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন।

২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
২৩ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ঘরচালা মাঠপাড়া গ্রামে প্রায় ২৩ শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই নিজেদের জমির বৈধ মালিক দাবি করে আসায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালত ও ভূমি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বল্লী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মৌজার সাবেক ২৪৮, ২৮৪, ২৮৭ সহ কয়েকটি দাগের অন্তর্ভুক্ত ২৩ শতক জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদীপক্ষের মাসুরা খাতুন ও উজির আলী ফকির বিএস খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধনের আবেদনসহ সায়েদ আলী মোড়লের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে বিবাদী সায়েদ আলী মোড়ল দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমির নামজারি (মিউটেশন) তার নামে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করছেন। আবেশ আলী সরদারের কাছ থেকে তিনি জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ তাকে জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তবে অন্য অংশীদার আবু তালেব ফকির এই দাবি অস্বীকার করে বলেন, সায়েদ আলীর কাগজপত্র জাল। জমিটি বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে এবং এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে তারা সহকারী জজ ভূমি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বি.ডি.এফ প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা ও নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৬ জুন অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের বিদায়ী সভাপতি শাহাদাত হোসেন বাবু এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আরশাদ আলী।
সভায় বিগত দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আর্থিক হিসাব বিবরণী পেশ করার পর সর্বসম্মতিক্রমে বিদায়ী কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে সংগঠনকে গতিশীল রাখার লক্ষ্যে উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে এসএম ইসমাইল হোসেনকে আহ্বায়ক, মুকুল হোসেনকে সদস্য সচিব এবং মেহেদী হাসান শিমুলকে সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্লাবের মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন। সভা শেষে এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।