অভিযানও চলছে, মাদকও পাওয়া যাচ্ছে: গলদ কোথায়?
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় মাদক চোরাচালান, মাদক কেনাবেচা এবং ‘কিশোর গ্যাং’-এর দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক বাড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোন কোন এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার, মাদক ধ্বংস এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব অভিযানের পরও মাঠপর্যায়ে অপরাধ কমছে না কেন? মাদক চোরাচালান ও বিক্রির নতুন নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে অভিযানগুলো কি সত্যিই অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, নাকি কেবল ছোটখাটো অপরাধীদের ধরেই অভিযান শেষ করা হচ্ছে?
সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথ দিয়ে ফেন্সিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি ‘আইস’ ও ‘কুশ’-এর মতো মাদক প্রবেশের অভিযোগ আছে। এসব মাদক শুধু তরুণদের জীবনই নষ্ট করছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের অপরাধ চক্র।
প্রশ্ন হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকায় এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গঠন করামাদক বিরোধী কমিটির নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের পরও কীভাবে মাদক ঢুকছে এবং বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে? সাধারণের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, গাফিলতি কিংবা প্রভাবশালী কোনো মহলের মদদ কাজ করছে? শুধু নামে নিদিষ্ট এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান, তলে তলে মাদক সম্্রাটের সাথে আঁতাত না তো।
মাদকের এই বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ সংস্কৃতি। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, মারামারি, ভয় দেখানো এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কখনো কখনো এসব বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায়ও রূপ নিচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অভিযানের লক্ষ্য কি শুধু ছোট অপরাধীদের আটক করা, নাকি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা? অপরাধ দমনে লোকদেখানো অভিযান কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ অভিযান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি, মাদকের অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং অপরাধের পেছনে থাকা মূল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন অপরাধীদের রক্ষা করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ












