রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিযানও চলছে, মাদকও পাওয়া যাচ্ছে: গলদ কোথায়?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৩ অপরাহ্ণ
অভিযানও চলছে, মাদকও পাওয়া যাচ্ছে: গলদ কোথায়?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরায় মাদক চোরাচালান, মাদক কেনাবেচা এবং ‘কিশোর গ্যাং’-এর দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক বাড়ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোন কোন এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মাদক ও অপরাধ দমনে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান, মাদক উদ্ধার, মাদক ধ্বংস এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এসব অভিযানের পরও মাঠপর্যায়ে অপরাধ কমছে না কেন? মাদক চোরাচালান ও বিক্রির নতুন নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে অভিযানগুলো কি সত্যিই অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, নাকি কেবল ছোটখাটো অপরাধীদের ধরেই অভিযান শেষ করা হচ্ছে?

‎সাতক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তপথ দিয়ে ফেন্সিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি ‘আইস’ ও ‘কুশ’-এর মতো মাদক প্রবেশের অভিযোগ আছে। এসব মাদক শুধু তরুণদের জীবনই নষ্ট করছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের অপরাধ চক্র।

‎প্রশ্ন হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকায় এলাকায় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গঠন করামাদক বিরোধী কমিটির নিয়মিত নজরদারি ও অভিযানের পরও কীভাবে মাদক ঢুকছে এবং বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে? সাধারণের মনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, গাফিলতি কিংবা প্রভাবশালী কোনো মহলের মদদ কাজ করছে? শুধু নামে নিদিষ্ট এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান, তলে তলে মাদক সম্্রাটের সাথে আঁতাত না তো।

‎মাদকের এই বিস্তারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে তরুণ প্রজন্মের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহ সংস্কৃতি। সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে চলাফেরা, মারামারি, ভয় দেখানো এবং ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কখনো কখনো এসব বিরোধ ভয়াবহ সহিংসতায়ও রূপ নিচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অভিযানের লক্ষ্য কি শুধু ছোট অপরাধীদের আটক করা, নাকি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে থাকা মূল চক্রকে আইনের আওতায় আনা? অপরাধ দমনে লোকদেখানো অভিযান কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। প্রয়োজন নিয়মিত ও নিরপেক্ষ অভিযান, সীমান্তে কঠোর নজরদারি, মাদকের অর্থের উৎস অনুসন্ধান এবং অপরাধের পেছনে থাকা মূল ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় যেন অপরাধীদের রক্ষা করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

Ads small one

আশাশুনিতে রাস্তার ইট তুলে আত্মসাৎ ও কাবিটার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে রাস্তার ইট তুলে আত্মসাৎ ও কাবিটার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

oplus_2

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাঁসখালী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র হেরিংবন্ড রাস্তা থেকে বিপুল পরিমাণ ইট তুলে নেওয়া, আত্মসাৎ এবং অন্য একটি রাস্তার কাজে ওই ইট ব্যবহার করে কাবিটা প্রকল্পের বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইট তুলে নেওয়া রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কটি প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও একমাত্র মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি ইটের হেরিংবন্ড সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস আগে সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকার ওই রাস্তা থেকে আনুমানিক ৫০ হাজার ইট তুলে নিয়ে যান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা থেকে ইট তোলার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলে ইউপি সদস্যের লোকজন তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির মাটি ধুয়ে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও নিচু হয়ে যায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইটের একটি অংশ পাশের একটি কাবিটা প্রকল্পের রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া ইট দিয়ে কাজ করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগী বাবুরাম ম-ল বলেন, উত্তর গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়া প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার অধিকাংশ ইট ইউপি সদস্য তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। গ্রামবাসী বাধা দিলেও তিনি তা শোনেননি। তখন বলা হয়েছিল, ইট অন্যত্র কাজে ব্যবহার করা হবে এবং পরে এই রাস্তা সংস্কার করে দেওয়া হবে। কিন্তু ইট তুলে নেওয়ার পর রাস্তার সংস্কার করা হয়নি। বর্ষায় রাস্তার মাটি ধুয়ে গিয়ে রাস্তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি রাস্তা থেকে কার অনুমতিতে ইট তুলে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের দায়িত্ব কারÑএ প্রশ্ন তুলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ভক্ত কুমার বৈরাগী অভিযোগ করেন, হাঁসখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তারিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার জন্য কাবিটা প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ছিল। কিন্তু প্রকল্পের জন্য নতুন ইট ব্যবহার না করে অন্য রাস্তা থেকে ইট তুলে এনে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুলের মাঠ থেকে বালু ব্যবহার করে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় আরও কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ইউপি সদস্যের লোকজনের ভয়ভীতির কারণে তারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে সাহস পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, সরকারি রাস্তা থেকে ইট তুলে নেওয়া, সেই ইট অন্য প্রকল্পের কাজে ব্যবহার এবং সরকারি বরাদ্দের অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হোক।

তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাস্তার ইট আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কাবিটা প্রকল্পের কাজে অন্য রাস্তা থেকে ইট তুলে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য বিস্তারিতভাবে পাওয়া যায়নি।

দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা ও লুটের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা ও লুটের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আছাফুর রহমানকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কদমখালী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আছাফুর রহমান কদমখালী গ্রামের কফিল উদ্দীনের ছেলে। পুলিশ জানায়, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম মোল্ল্যার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে আছাফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দেবহাটা উপজেলার কদমখালী-শশাডাঙ্গা এলাকায় একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে খামার মালিকের স্বজনদের জিম্মি করে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, খাবারের বস্তা, ব্যাটারি ও নগদ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে এবং অভিযানের মাধ্যমে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, পোল্ট্রি খামারে লুটপাটের মামলায় আছাফুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি ইটের সড়কও নেই, মাটির পথেই যুগের পর যুগ পার করছেন চাউলখোলার মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
একটি ইটের সড়কও নেই, মাটির পথেই যুগের পর যুগ পার করছেন চাউলখোলার মানুষ

সংবাদদাতা: স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামে আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি কোনো ইটের সড়ক। গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা কাঁচা মাটির পথ। বর্ষায় কাদা আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির মধ্য দিয়েই যুগের পর যুগ যাতায়াত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামটি উন্নয়নবঞ্চিত। কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে অনেক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে, আবার দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণেও অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করলেও চলাচলের উপযোগী কোনো স্থায়ী সড়ক গড়ে ওঠেনি।

স্থানীয়রা জানান, বিদ্যমান কাঁচা রাস্তাগুলোর অবস্থাও নাজুক। বিভিন্ন স্থানে রাস্তার দুই পাশ ভেঙে সরু হয়ে গেছে। এর ওপর মাছের ঘেরে নদীর লবণপানি ওঠানো-নামানোর কারণে রাস্তার ক্ষয় আরও বাড়ছে। সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে ঘের মালিকদের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের মতো ন্যূনতম সুবিধাটুকুও তাঁরা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় চাউলখোলা গ্রামের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখে দ্রুত সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।