বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার সমাধান কি ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার সমাধান কি ?

এম. এম হায়দার আলী

বাংলাদেশের কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি ধান। কৃষকের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের ফসল এই ধান। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বাজারে ধানের দাম কমে গেলেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না চালের বাজারে। বরং চালের দাম কমার পরিবর্তে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এতে একদিকে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্য। লাভবান হচ্ছে কেবল মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ।

বর্তমান বাজারে এক মণ ২৮ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকায় এবং এক মণ মোটা ধানের দাম ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। হিসাব করলে দেখা যায়, ধান সিদ্ধ, শুকানো, মিলিং ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়েও প্রতি কেজি চিকন চালের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৪১ টাকা এবং মোটা চালের ক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ টাকার কাছাকাছি দাঁড়ায়। অথচ একই চাল পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে চিকন চালের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মোটা চাল ৩৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এই বিশাল মূল্য ব্যবধানের যৌক্তিক ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের কাছে নেই। প্রশ্ন উঠছে, ধানের দাম কমলে চালের দাম কেন কমে না ? বাজার ব্যবস্থাপনার কোথায় এই অসামঞ্জস্য ? উৎপাদন খরচের তুলনায় অতিরিক্ত মুনাফা কারা করছে ? বাস্তবতা হলো, কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অপরদিকে ভোক্তারা বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে চাল কিনছেন। অর্থাৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উৎপাদক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই।

মাঝখানে লাভের বড় অংশ চলে যাচ্ছে কিছু মিল মালিক, মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীর হাতে। বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাব, অস্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার প্রবণতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শুধু কি চাল ? প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাজারো মানুষ ছুটে যান কাঁচা বাজারে। উদ্দেশ্য একটাই,পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কেনা। কিন্তু বাজারে ঢুকেই যেন তাদের মুখে নেমে আসে হতাশার ছাপ। গত সপ্তাহে যে দামে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ কিংবা সবজি কেনা গেছে, এক সপ্তাহ পরই সেই একই পণ্যের দাম আরও বেড়ে গেছে। যেন নিত্যপণ্যের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দামের কোনো শেষ নেই।

 

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অনেক পরিবার এখন প্রয়োজনীয় খাবারের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ মাছ-মাংস বাদ দিচ্ছেন, কেউ ডিম কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। অনেকের কাছে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না মানুষের আয়। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য।

 

তবে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন,এসব বাস্তব কারণের পাশাপাশি রয়েছে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট, মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং দুর্বল বাজার তদারকি। এসব কারণে অনেক সময় প্রকৃত চাহিদার তুলনায় অযৌক্তিক ভাবে দাম বেড়ে যায়। কৃষকরাও এই পরিস্থিতিতে স্বস্তিতে নেই।

 

ধান, সবজি কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে তাদের খরচ বাড়ছে। কিন্তু ফসল বিক্রির সময় তারা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য মূল্য পান না। অন্যদিকে সেই একই পণ্য একাধিক হাত ঘুরে শহরের বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। ফলে কৃষক যেমন বঞ্চিত হন, তেমনি ভোক্তাকেও অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা, মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করা ছাড়া এই সংকট থেকে সহজে উত্তরণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি সরকারের খাদ্য মজুত শক্তিশালী করা, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী সময় মতো আমদানি এবং ন্যায্য মূল্যের বিক্রয় কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা জরুরি।

 

একই সঙ্গে দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোও সময়ের দাবি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজার শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটি একটি সামাজিক ও মানবিক সংকটও। যখন একজন বাবা সন্তানের পছন্দের খাবার কিনে দিতে পারেন না, একজন মা সংসারের ব্যয় মেটাতে নিজের প্রয়োজন বিসর্জন দেন, তখন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকে না,তা ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি পরিবারের জীবনে।

 

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে বাজার করতে পারবেন, কৃষক তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং প্রতিটি পরিবার ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে। নিত্যপণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল রাখা তাই শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; ব্যবসায়ী, উৎপাদক, বাজার তদারকি সংস্থা এবং সচেতন ভোক্তা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। কারণ, একটি দেশের উন্নয়নের প্রকৃত মানদ- নির্ধারিত হয় সাধারণ মানুষের ভাতের থালা কতটা নিরাপদ ও পরিপূর্ণ, তার ওপরই…।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
গর্ত আর কাদা-পানিতে বেহাল শহরের তুফান মোড়-পিএন স্কুল সড়ক

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: বুধবার সকাল সাড়ে আটটা। শহরের দোকানপাট সবে খুলতে শুরু করেছে। কর্মজীবী মানুষ ছুটছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও রওনা হয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে। এমন সময় শুরু হলো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাতক্ষীরা শহরের তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত সড়কে জমে গেল পানি।
ব্যস্ততম এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ইজিবাইকের চাকা পানিভরা গর্তে পড়ে যায়। এতে নোংরা পানি ছিটকে গিয়ে ভিজে যায় পাশ দিয়ে যাওয়া একটি ভ্যানের যাত্রীদের পোশাক। তুফান মোড় থেকে পিএন স্কুল মোড় পর্যন্ত মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ মিটারের এই সড়কে এমন ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
শহরের অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে পুরোপুরি বেহাল দশা তৈরি হয়েছে। পুরো সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে ডোবার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই কাদা-পানি মাড়িয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। সড়কের দুপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনের অংশও কাদায় ঢেকে গেছে।
এ রাস্তায় যাতায়াতকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে। গর্তে চাকা পড়ে প্রতিনিয়ত রিকশা বা ইজিবাইক উল্টে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। নোংরা পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হওয়া এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টি হলে এই পথ দিয়ে হেঁটে যাওয়ারও কোনো উপায় থাকে না।
সড়কের পাশের ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তার এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। কাদা আর নোংরা পানির ছিটায় দোকানের মালামাল নষ্ট হয়। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির এই অবস্থা থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।
ব্যস্ততম এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে কাদা-পানির এই নাকাল হওয়া থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

সাতক্ষীরায় মোট পরীক্ষার্থী ১৫,৯০৬, এইচএসসি ১১৪০২, আলিম ১৮৪২, ভোকেশনাল ২৬৬২
নিজস্ব প্রতিনিধি: আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এবার সাতক্ষীরা জেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি (ভোকেশনাল) মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। জেলার মোট ৪০টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলা শিক্ষা অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার সাধারণ ধারায় এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার ২৩টি কেন্দ্রে মোট ১১ হাজার ৪০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫ হাজার ৯০৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৪৯৭ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৯টি কেন্দ্রে মোট অংশ নিচ্ছে ১ হাজার ৮৪২ জন পরীক্ষার্থী। যার মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ১৩৫ জন এবং ছাত্রী ৭০৭ জন। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় জেলার ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৮৩ জন ছাত্র এবং ৯৭৯ জন ছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় (লিখিত) পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর উক্ত তথ্য দিয়ে জানান, সবকটি কেন্দ্রে সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো নিয়মিত তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
পুনঃখননে প্রাণ ফিরল জাহাজমারী খালে, ৩ হাজার কৃষকের মুখে হাসি

সংবাদদাতা: দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে নাব্যতা হারানো সাতক্ষীরার কলারোয়ার ঐতিহাসিক জাহাজমারী খালটি পুনঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের কৃষিতে। খরা মৌসুমে তীব্র সেচ সংকট আর বর্ষায় জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন এই খালের সুবিধাভোগী ছয়টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার কৃষক।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে খনন করা এই খালটি নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও উত্তরণের যৌথ উদ্যোগে ‘সফল ফর আইডব্লিউআরএম’ প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি পুনঃখনন করা হয়। দলুইপুর থেকে গোছমারা লস্কার বড় খাল পর্যন্ত ২ দশমিক ৯৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২৩ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পুনঃখননের ফলে প্রায় ৬২৫ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শেখ আব্দুর রব ও খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল কাদের জানান, একসময় সেচের পানির অভাবে জমি অনাবাদি থাকত, আবার বর্ষায় ফসল তলিয়ে লোকসান গুনতে হতো। এখন পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও খালটি সচল রাখতে কৃষকেরা নিজেদের অর্থায়নে একটি তহবিল গঠন করেছেন, যা দিয়ে প্রতিবছর এটি পরিষ্কার করা হবে।
এদিকে, পুনঃখননকৃত খালের নাব্যতা ধরে রাখতে গত সোমবার দুপুরে যুগিখালী ইউনিয়নের আড়খালী মসজিদ-সংলগ্ন জাহাজমারী খালে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।