আইনজীবী কামরুন নাহার ছবির মৃত্যুতে আইনাঙ্গনে শোক
বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য, অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার ছবির আকস্মিক মৃত্যুতে জেলার আইনাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে শহরের রাজার বাগানস্থ নিজ বাসভবনের পাশে বজ্রপাতে আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।
তার মৃত্যুতে মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জেলা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে এক ফুল কোর্ট রেফারেন্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মরহুমার কর্মজীবন, ব্যক্তিত্ব ও আইন পেশায় অবদানের কথা স্মরণ করে বিচারক ও সহকর্মী আইনজীবীরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বি.এম. মিজানুর রহমান পিন্টু।
জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা যায়, কামরুন নাহার ছবি ১৯৭৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার রাজারবাগান গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৯৩ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বিএ এবং ২০০৬ সালে প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করে সহকর্মীদের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেন। তিনি জেলা লিগ্যাল এইড প্যানেলের আইনজীবী ছিলেন এবং ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্বামী, এক পুত্র, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর স্বামী মোঃ ইকরামুল ইসলাম একজন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী। একমাত্র পুত্র রাফিদ আল আরিফ স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অনূর্ধ্ব-১৪ জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার ছবির অকাল মৃত্যুতে জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বি.এম. মিজানুর রহমান পিন্টু ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন গভীর শোক প্রকাশ করেন। তারা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
এছাড়া একই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে মরহুমার স্মরণে পৃথক এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইনজীবী সমাজের সদস্যরা তাঁর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেন।
এদিকে বেলা ২টার সময় শহরের রাজাবাগানে অবস্থিত মরহুমার বাড়ি সংলগ্ন মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়।









