মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আগুনের পরশমণি ছোঁয়া সাতক্ষীরা: ওষ্ঠাগত প্রাণ, বাতাসেও বিষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
আগুনের পরশমণি ছোঁয়া সাতক্ষীরা: ওষ্ঠাগত প্রাণ, বাতাসেও বিষ

​নিজস্ব প্রতিনিধি: ​চৈত্র শেষ হয়ে এল। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বৈশাখ। চারদিকে যখন নতুন বছরকে বরণের আনন্দ আয়োজন চলার কথা, তখন সাতক্ষীরার আকাশ যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। নীল আকাশ জুড়ে মেঘের লেশমাত্র নেই; বরং খাঁ খাঁ রোদ আর উত্তপ্ত বাতাস জানান দিচ্ছে—প্রকৃতি এখন এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

​দিগন্তজোড়া মাঠের দিকে তাকালে মনে হয়, ধরিত্রীর বুকের সবটুকু সুধা শুষে নিচ্ছে ওপরের ওই আগুনের গোলকটি। মাটির ফাটল দিয়ে বের হওয়া তপ্ত হাওয়া চোখের সামনে মরীচিকার মতো কাঁপছে।

​আজ রোববার দুপুরের সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, তখন সাতক্ষীরার পারদ ছুঁয়েছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস বলছে, বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই উত্তাপ ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়। ভোরের স্নিগ্ধতাটুকু ২৬ ডিগ্রিতে আটকে থাকলেও সূর্য ওঠার পর থেকেই প্রকৃতি যেন রণমূর্তি ধারণ করে। আগামী কয়েক দিনও এই দহন থেকে নিস্তার নেই; পারদ ৩৫-৩৬ ডিগ্রির ঘরেই ওঠানামা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​কেবল তপ্ত রোদ নয়, সাতক্ষীরার মানুষের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপদের বাতাস। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, আজ এই শহরের বায়ু মানের সূচক (একিউআই) ছিল ১৪০। সাহিত্যের ভাষায় যাকে বলা যায় ‘মলিন বাতাস’। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’।

​যাঁদের ফুসফুসে পুরনো অসুখ কিংবা যাঁদের বয়স হয়েছে, এই বিষাক্ত বাতাস তাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলছে। ধুলিকণা আর দূষণের এই মেঘমুক্ত আকাশ যেন এক মায়াবী মরণফাঁদ। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়ে ঘরের কোণটুকুই নিরাপদ; একান্ত প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা ছাড়া গতি নেই।

​তীব্র এই গরমে জীবন বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হিটস্ট্রোক আর পানিশূন্যতার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো যেন এখন বাঁচার মন্ত্র:

​তৃষ্ণা না পেলেও বারবার বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার গ্রহণ।

​দুপুরের কড়া রোদ থেকে নিজেকে আড়াল রাখা এবং প্রয়োজনে ছাতার ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া।

​কৃত্রিম তন্তু ছেড়ে পাতলা সুতির ঢিলেঢালা পোশাকে শরীরকে শান্ত রাখা।

​আবহাওয়া অফিস খুব একটা আশার বাণী শোনাতে পারছে না। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘের আনাগোনা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু তৃষিত চাতকের মতো বৃষ্টির যে অপেক্ষা, তা মেটার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। সাতক্ষীরার রুক্ষ প্রকৃতি এখন কেবল এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় দিন গুনছে।

Ads small one

কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া বাজার ও সরসকাটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা।

নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রসুল আমিন ও ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, আদা, আলুসহ সব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন ও বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আড়ত এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মৌসুমের প্রভাব কেটে গেলে ও আমদানি স্বাভাবিক হলে বাজার দর পুনারায় কমে আসবে।

 

 

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।

 

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।