আগুনের পরশমণি ছোঁয়া সাতক্ষীরা: ওষ্ঠাগত প্রাণ, বাতাসেও বিষ
নিজস্ব প্রতিনিধি: চৈত্র শেষ হয়ে এল। দুয়ারে কড়া নাড়ছে বৈশাখ। চারদিকে যখন নতুন বছরকে বরণের আনন্দ আয়োজন চলার কথা, তখন সাতক্ষীরার আকাশ যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। নীল আকাশ জুড়ে মেঘের লেশমাত্র নেই; বরং খাঁ খাঁ রোদ আর উত্তপ্ত বাতাস জানান দিচ্ছে—প্রকৃতি এখন এক অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
দিগন্তজোড়া মাঠের দিকে তাকালে মনে হয়, ধরিত্রীর বুকের সবটুকু সুধা শুষে নিচ্ছে ওপরের ওই আগুনের গোলকটি। মাটির ফাটল দিয়ে বের হওয়া তপ্ত হাওয়া চোখের সামনে মরীচিকার মতো কাঁপছে।
আজ রোববার দুপুরের সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর, তখন সাতক্ষীরার পারদ ছুঁয়েছে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস বলছে, বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই উত্তাপ ৩৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়াও বিচিত্র নয়। ভোরের স্নিগ্ধতাটুকু ২৬ ডিগ্রিতে আটকে থাকলেও সূর্য ওঠার পর থেকেই প্রকৃতি যেন রণমূর্তি ধারণ করে। আগামী কয়েক দিনও এই দহন থেকে নিস্তার নেই; পারদ ৩৫-৩৬ ডিগ্রির ঘরেই ওঠানামা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেবল তপ্ত রোদ নয়, সাতক্ষীরার মানুষের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপদের বাতাস। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো বলছে, আজ এই শহরের বায়ু মানের সূচক (একিউআই) ছিল ১৪০। সাহিত্যের ভাষায় যাকে বলা যায় ‘মলিন বাতাস’। বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’।
যাঁদের ফুসফুসে পুরনো অসুখ কিংবা যাঁদের বয়স হয়েছে, এই বিষাক্ত বাতাস তাঁদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে তুলছে। ধুলিকণা আর দূষণের এই মেঘমুক্ত আকাশ যেন এক মায়াবী মরণফাঁদ। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সময়ে ঘরের কোণটুকুই নিরাপদ; একান্ত প্রয়োজনে বাইরে বেরোলে মাস্ক পরা ছাড়া গতি নেই।
তীব্র এই গরমে জীবন বাঁচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হিটস্ট্রোক আর পানিশূন্যতার ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। সেগুলো যেন এখন বাঁচার মন্ত্র:
তৃষ্ণা না পেলেও বারবার বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার গ্রহণ।
দুপুরের কড়া রোদ থেকে নিজেকে আড়াল রাখা এবং প্রয়োজনে ছাতার ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া।
কৃত্রিম তন্তু ছেড়ে পাতলা সুতির ঢিলেঢালা পোশাকে শরীরকে শান্ত রাখা।
আবহাওয়া অফিস খুব একটা আশার বাণী শোনাতে পারছে না। আকাশে মাঝেমধ্যে মেঘের আনাগোনা হতে পারে ঠিকই, কিন্তু তৃষিত চাতকের মতো বৃষ্টির যে অপেক্ষা, তা মেটার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। সাতক্ষীরার রুক্ষ প্রকৃতি এখন কেবল এক পশলা বৃষ্টির প্রতীক্ষায় দিন গুনছে।










