রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস: মানব মর্যাদা রক্ষার দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস: মানব মর্যাদা রক্ষার দাবি

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জীবন, স্বাধীনতা ও আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার। কিন্তু যখন কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনী, সরকারি সংস্থা বা তাদের মদদপুষ্ট কোনো গোষ্ঠীর হাতে আটক বা অপহৃত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর অবস্থান, ভাগ্য বা অস্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখা হয়, তখন তা কেবল একটি অপরাধ নয়-এটি মানবাধিকারের সবচেয়ে ভয়াবহ লঙ্ঘনগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক আইনে একে বলা হয় জোরপূর্বক গুম।

বলপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়াতে ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (রেজুলেশন ৬৫/২০৯) ৩০ আগস্টকে ‘আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০২৬ সালের এই দিবসে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস “বলপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ” গ্রহণের ২০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এর সর্বজনীন অনুসমর্থন ও দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের বিশেষ স্লোগান ‘ক্ষতিগ্রস্তরা আগে, এখনই পদক্ষেপ নিন’-এর আলোকে তিনি গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের অধিকার সুনিশ্চিত করতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

জাতিসংঘের মতে, একটি গুমের ঘটনার মধ্য দিয়ে একযোগে বহু মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। একজন মানুষকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, আদালতের আশ্রয় লাভের অধিকার অস্বীকার করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে তিনি গোপন আটককেন্দ্রে নির্যাতনের শিকার হন এবং তাঁর জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন গুমকে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

গুম শুধু একজন ব্যক্তিকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে না; এটি একটি পরিবারকে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা, শোক, ভয় এবং মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে নিক্ষেপ করে। প্রিয়জন জীবিত নাকি মৃত-এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ার যন্ত্রণা মানবাধিকারের ভাষায় একটি ‘চলমান অপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গৃহযুদ্ধ, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে হাজার হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সিরিয়া আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ উদাহরণ, যেখানে ২০১১ সালের পর থেকে লক্ষাধিক মানুষ নিখোঁজ হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। শ্রীলঙ্কার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, ইরাকের সংঘাতময় ইতিহাস, আলজেরিয়ার রক্তক্ষয়ী সময়, মেক্সিকোর মাদক-সহিংসতা এবং লাতিন আমেরিকার সামরিক শাসনামল গুমের করুণ ইতিহাস বহন করে।

দক্ষিণ এশিয়াতেও এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন সময়ে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে গুমের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একইভাবে ফিলিপাইন, বেলারুশ, জিম্বাবুয়ে ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো জোরপূর্বক নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তবে পৃথিবীর সব দেশে পরিস্থিতি এক নয়। নরওয়ে, আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম ও ভুটানের মতো দেশগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুমের কোনো নথিভুক্ত অভিযোগ নেই। শক্তিশালী গণতন্ত্র, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোনো দেশে অভিযোগ না থাকা মানেই যে সেখানে কোনো সমস্যা নেই-এমনটি সবসময় সত্য নয়। অনেক স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ভয়ের সংস্কৃতি ও তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতার কারণে অভিযোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছায় না।

গুম প্রতিরোধে জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি হাতিয়ার হলো ‘জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার আন্তর্জাতিক কনভেনশন’, যা ২০০৬ সালে গৃহীত ও ২০১০ সাল থেকে কার্যকর হয়। এই কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা জরুরি অবস্থা—কোনো অবস্থাতেই গুমকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই এবং এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এই সনদের অধীনে গঠিত ‘কমিটি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস’ এবং ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ বিশ্বব্যাপী গুমের ঘটনা পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের দায়িত্ব পালন করে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইনে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সত্য জানা, ন্যায়বিচার পাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ লাভের অধিকারকে স্পষ্টভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধি অনুযায়ী ব্যাপক বা সুপরিকল্পিত গুমের ঘটনায় রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আন্তর্জাতিক বিচারের আওতামুক্ত নন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে (আইসিপিপিইডি) যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আইনগত সংস্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনে স্বাধীন গুমবিরোধী আইন প্রণয়ন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধের কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ, অবস্থান ট্র্যাকিং এবং আইনি প্রতিকার পেতে আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যন্ত কার্যকর। ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রমাণ রক্ষায় ক্লাউড লাইভ স্ট্রিমিং, স্বয়ংক্রিয় ‘ডেড ম্যানস সুইচ’, ফোনের এসওএস ফিচার এবং গুগল বা অ্যাপলের লোকেশন হিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ঝাপসা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়ি বা মুখমন্ডল স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়। তথ্য নিরাপদ রাখতে পাসকী এবং সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করা জরুরি। পরবর্তী সময়ে সংগৃহীত এসব ডিজিটাল ফরেনসিক উপাত্ত উচ্চ আদালতে ‘হেবিয়াস কর্পাস’ রিট দায়ের করতে কিংবা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থায় জমা দিয়ে আইনি প্রতিকার ও বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টিতে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

গুম প্রতিরোধে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং জনগণের সচেতনতা, নাগরিক সাহস এবং সামাজিক প্রতিরোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিচয় যাচাই, তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ, দ্রুত আইনি পদক্ষেপ (যেমন জিডি বা হেবিয়াস কর্পাস রিট) নেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নাগরিকদের প্রধান দায়িত্ব। মূলত সমাজে ভয় ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গুম করা হয়; তাই একটি সোচ্চার ও সংগঠিত নাগরিক সমাজ যখন সত্য ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই এই জঘন্য ও গোপন অপরাধ প্রতিহত করা সম্ভব।

প্রতি বছর ৩০ আগস্ট পালিত ‘আন্তর্জাতিক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ দিবস’ কেবল অতীতের ভুক্তভোগীদের স্মরণ করার দিন নয়, বরং গুমমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ার এক বৈশ্বিক অঙ্গীকার। এই দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কোনো মানুষকে গোপনে অদৃশ্য করা যাবে না এবং কোনো পরিবারকেও স্বজন হারানোর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসন ও মানব মর্যাদাকে সর্বোচ্চ ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বজুড়ে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমে একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলাই এই দিবসের মূল বার্তা।

 

Ads small one

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ার কারণ জানা গেলো ল্যাব পরীক্ষায়

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ‘সম্ভাব্য’ কারণ বর্ণনা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ল্যাব পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের বরাতে সংস্থাটি বলছে, রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক (এক ধরনের আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত উপাদান, যা পেশিকোষে অক্সিজেন জমা রাখে এবং এর জন্য মাংসের লাল বা গোলাপি রঙের দেখায়) পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণে মাংস সবুজ রঙ ধারণ করেছে।

গত ২৭ অগাস্টের ল্যাবরেটরি পরীক্ষার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএফএসএ। সেখানে বলা হয়, নমুনায় কোনও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে কোনও পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। যা নিশ্চিত করে, এই রঙ পরিবর্তন কোনও ব্যাক্টেরিয়াঘটিত বা পচনের কারণে ঘটেনি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রেফ্রিজারেটরে রাখা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় না এনে হঠাৎ বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে মাংসের লাল রং তৈরির উপাদান পরিবর্তন হয়ে সবুজ রং হয়ে থাকতে পারে। তবে মাংসে ক্ষতিকারক কোনও ব্যাকটেরিয়া বা পচনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাইকগাছায় রান্নার পর সবুজ হয়ে যাওয়া মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

ল্যাবরেটরি থেকে পাওয়া পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিএফএসএর খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার প্রতিবেদন বলছে, স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে সবুজ রঙ ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আজকেই এ প্রতিবেদন আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এই নমুনা মাংসগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। আমাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে মাংসগুলো সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।’

গত ২২ জুলাই কুলনার পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা কর্মস্থলে একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেন। সেজন্য বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে আনেন তারা। তবে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং বদলে সবুজ হয়ে যেতে শুরু করে। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে স্থানীয় থানায় হাজির হন রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বেকারির কর্মচারীদের ভাষ্য, তেল-মশলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে থাকে। যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, পরিবর্তিত রং ততই গাঢ় হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে অন্যদের ডাকেন। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রথমে যান তারা মাংস বিক্রেতার দোকানে। তিনিও এ ঘটনা দেখে বিস্মিত হন। পরে তারা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে কড়াইসহ তারা থানায় যান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবুজ মাংসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয় আলোচনা। এর প্রেক্ষিতে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে পরীক্ষার জন্য নমুনা ২৬ জুলাই বিএফএসএর ল্যাবে পাঠানো হয়।

মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘গরুর মাংসের লালচে রঙের উপাদানকে মায়োগ্লোবিন বলা হয়। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা মাংস হঠাৎ করে অনেক বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে ওই উপাদানের পরিবর্তন হতে পারে। তখন মাংসের লাল রং সবুজ হয়ে যেতে পারে।’

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাংসের নমুনায় কোনও ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা রং তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়নি। মাংসে পচা গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। তাই মাংস পচে যাওয়ার কারণে বা কোনও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে রং পরিবর্তন হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোকলেছুর রহমান বলেন, ফলাফলে ‘ধারণা করা হচ্ছে’ বলা হয়েছে। কারণ, এ ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে ধারণা করা হয়। তাই সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত কারণ হিসেবে না বলে ‘ধারণা করা হচ্ছে’ বলা হয়েছে।

মাংস বিক্রেতা ইসমাইল শুরু থেকেই মাংসে কোনও সমস্যা থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন। তার ভাষ্য, একই মাংস থেকে আরও কয়েকজন ক্রেতার কাছে মাংস বিক্রি করা হয়েছিল। শুধু মডার্ন বেকারির কর্মচারীরাই অভিযোগ করেছিলেন।

মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, ‘আমরা ওই মাংস খাইনি। প্রশাসনকে জানিয়ে ফিরে এসে মাংস ফেলে দিয়েছিলাম। এখন পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। ওই মাংসে নাকি ক্ষতিকর কিছু ছিল না।’

আলিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আলিপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার আলিপুর ইউনিয়নে এক প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। আলিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হাদীউজ্জামান বাদশাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান চান্দু। সভা পরিচালনা করেন আলিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান পল্টু।
সভায় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিসমূহ সফল করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা সভা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বেসরকারি সংস্থা রুপান্তরের আয়োজনে শ্যামনগরে ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে শ্যামনগর উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উত্তরণের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর নাজমা আক্তার। তিনি তাঁর বক্তব্যে বুড়িগোয়ালিনী ও কৈখালী ইউনিয়নের প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ পেশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা শাহানা হামীদ, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি গাজী আল ইমরান, শিক্ষক-সাংবাদিক রণজিৎ বর্মণ, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আলী আশরাফ, অ্যাডভোকেট মুনসুর আলী, কৈখালী ইউনিয়নের আ. রশিদ, নাছিমা খাতুন, লাকী আক্তার, তুলসী রানী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আমিনুর রহমান। সহযোগিতায় ছিলেন সংস্থার পক্ষে সাদ্দাম হোসেন, নয়ন হরি ও রিপন।