আশাশুনিতে জ্যৈষ্ঠের গরমে তালের শাঁসে স্বস্তি
আশাশুনি প্রতিনিধি: জ্যৈষ্ঠের কড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে জনজীবন ওষ্ঠাগত। একটু বৃষ্টির খোঁজে যেমন চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে মানুষ, তেমনি গরমে শরীর ও মনে স্বস্তি ফেরাতে বাজারে এখন কদর বেড়েছে মৌসুমি ফলের। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে এই গরমে নতুন করে প্রাণ ফিরিয়েছে রসালো কচি তালের শাঁস।
উপজেলার বুধহাটা, বড়দল, গুনাকরকাটি, দরগাপুর, গোয়ালডাঙ্গা, পাইথালী, বদরতলা ও আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে তালের শাঁস বিক্রির ধুম। ফুটপাত, বাজারের মোড় কিংবা অলিগলিতে এখন সারি সারি তালের স্তূপ। বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে পটাপট তাল কেটে ভেতরের স্বচ্ছ সাদা শাঁস বের করছেন, আর ক্রেতারাও ভিড় জমিয়ে তা কিনছেন।
বুধহাটা বাজারে তালের শাঁস কিনতে এসেছিলেন রমিছা বেগম। তিনি বলেন, “এখন বাজারে কেমিক্যালমুক্ত ফল পাওয়া কঠিন। কিন্তু তালের শাঁস একদম প্রাকৃতিক। গরমে এটা খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে। তাই পরিবারের সবার জন্য কিনতে এলাম।”
পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ক্রেতা গৌতম ব্যানার্জী ছোটবেলার স্মৃতি হাতড়ে বললেন, “শুধু স্বাদ নয়, তালের শাঁস শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী। গরমে ক্লান্তি দূর করে, পানির ঘাটতি মেটায়। এই ফল দেখলেই ছোটবেলার গরমের দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়।”
শুধু স্থানীয় মানুষই নন, এই তালের কদর রয়েছে দূর-দূরান্তেও। তালের শাঁস বিক্রেতা ফজলু মিয়া জানান, খুব ভোরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছচুক্তি তাল সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে আসেন তারা। জ্যৈষ্ঠের শুরু থেকে প্রতিদিন শত শত তাল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এখন তালের অনেক চাহিদা। আশাশুনি থেকে পাইকাররা তাল কিনে খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের তুলনায় শহরে দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়।”
তালের শাঁসের পুষ্টিগুণ ও পরিবেশগত দিক নিয়ে কথা হয় স্থানীয় চিকিৎসক ডা. বলরাম বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনি বলেন, “তালের শাঁসে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা তীব্র গরমে শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচায় এবং সতেজ রাখতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও তালগাছের ভূমিকা অনন্য। বিশেষ করে উপকূলীয় এই অঞ্চলে নদীভাঙন ও মাটিক্ষয় রোধে তালগাছ বেশ কার্যকর।”
তিনি আরও যোগ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে বজ্রপাত ও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বেশি বেশি তালগাছ রোপণ করা প্রয়োজন। এতে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, তেমনি প্রতিবছর গরমে মিলবে প্রকৃতির এই সুস্বাদু ও উপকারী উপহার।












