মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টায় হামলা, নারীসহ আহত ৩

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টায় হামলা, নারীসহ আহত ৩

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালীতে একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে কলিমাখালী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মর্জিনা খাতুন নামের এক নারীকে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
মৎস্য ঘেরের মালিক শাহজাহান হাবিবের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কলিমাখালী মৌজায় তাঁর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ১২ বিঘা জমির একটি মৎস্য ঘের রয়েছে। প্রতিপক্ষরা দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরটি দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছিল। গতকাল সকালে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে জবরদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় শাহজাহান হাবিব, তাঁর ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন ও ভাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাধা দিলে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা লোহার হাতুড়ি দিয়ে মর্জিনা খাতুনের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি সরে যান, তবে আঘাতটি তাঁর ঘাড়ে লেগে গুরুতর জখম হয়। এ সময় হামলাকারীরা মৎস্য বিক্রির নগদ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ঘেরের বাঁধ কেটে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

 

Ads small one

কালিগঞ্জে জলবায়ু সহনশীল সবজি ও ফুলের ভ্যালু চেইন শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে জলবায়ু সহনশীল সবজি ও ফুলের ভ্যালু চেইন শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে ‘জলবায়ু সহনশীল সবজি ও ফুলের ভ্যালু চেইন শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টায় হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর সহায়তায় নওয়াবেঁকী গণমূখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) এ অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে।
এনজিএফ’র পরিচালক (মাইক্রোফিন্যান্স) মো. আলমগীর কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন সাহা।

তিনি বলেন, কৃষিখাত বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উন্নয়ণে কৃষির বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে এই খাতে নানাবিধ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এ সব সংকট দূর করতে যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাকেও যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনজিএফ’র হেড অব মনিটরিং এন্ড ইভালুয়াশেন এসএম মাহবুব আলম।
প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শেখ তরিকুল ইসলাম এবং উন্মুক্ত আলোচনায় উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন হেইফার ইন্টারন্যাশনাল এর রিজিওনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার মনিরা সুলতানা।

অবহিতকরণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) ডেভিড গোমেজ, জেলা মৃত্তিকা অধিদপ্তরের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার শামসুন নাহার রতœা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মানবিকা শীল, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি শেখ শরিফুল ইসলাম, ধলবাড়িয়া ইুউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, কুশলিয়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান তাহমিনা পারভীন, উপজেলার সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক শেখ মিজানুর রহমান, কৃষ্ণনগর ইউপি’র মেম্বার নূর হোসেন প্রমুখ।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৮ হাজার প্রান্তিক সমবায়ী কৃষককে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যা পরবর্তীতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে।

প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়,সম্পদ ; সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজ 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
প্রবীণরা সমাজের বোঝা নয়,সম্পদ ; সাতক্ষীরার ডিসি কাউসার আজিজ 
নিজস্ব প্রতিনিধি: “সচেতনতার উর্দ্ধে,প্রবীণ নির্যাতন প্রতিরোধকে কার্যকর করা” এই প্রতিপাদ্যে সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম গ্যালারীর নিজস্ব কার্যালয়ে সংস্থাটির  আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মিস্ কাউসার আজিজ।
ডিসি কাউসার আজিজ প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন, প্রবীণরা পরিবারের বোঝা নয়, তারা আমাদের মা-বাবা।তাদেরকে সম্মান করতে হবে, নির্যাতন নয়। তারা আমাদের সম্পদ। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমেই সেটাই সম্ভব। প্রবীণদের পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ভাবে তাদেরকে সম্পৃক্ততা করতে হবে শ্রদ্ধা ভরে।তাহলে প্রবীণরা রাষ্ট্রের সম্পদে পরিনত হবে।উন্নত বিশ্বে প্রবীণদেরকে রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করায়।নবীব-প্রবীণদের সমন্বয়ে রাষ্ট্রকে পরিচালিত করতে হবে।তাহলে বাংলাদেশ আদর্শ রাষ্ট্রে পরিনত হবে। প্রবীণদের বৃদ্ধাশ্রমে নয়, পরিবারেরই থাকবে সকলের মাঝে।অসুস্থতায় তাদেরকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে স্বাভাবিক ভাবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে ও সাহিত্যিক শহীদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম, সাবেক অধ্যক্ষ মো.আব্দুল হামিদ, সহকারী কমিশনার মো.শাহেদ হোসেন।
আলোচনা সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবেদুর রহমান।
এছাড়া বিশ্ব প্রবীণ নির্যাতন সচেতনতা দিবসের বক্তারা তাদের বক্তব্যে আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী মানুষের গড় আয়ু ৭৩.৫ বছর (২০২৫) যা ২০৫০ সালের মধ্যে ৭৭ বছরে পৌছাবে বলে মনে হচ্ছে। ২০২৫ এর দশকের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ৫০% এর বেশি ৬ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাহা ১৯৯৫ সালে ছিল ১৭%। জনসংখ্যা একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক রূপান্তরে পরিণত হতে চলেছে, যার প্রভাব সমাজের সকল ক্ষেত্রের উপর পড়বে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রম ও আর্থিক বাজার, আবাসন, পরিবহন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো পণ্য ও পরিসেবার চাহিদা। সেই সাথে পারিবারিক কাঠামো এবং আন্তঃপ্রজন্মীয় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপজনিত বয়স্ক মৃত্যু হার পূর্বাপেক্ষা ১০৬% বৃদ্ধি পেয়েছে, বণ্যার কারণে বার্ষিক আয় ৩% কমেছে এবং তাপজনিত কারণে ৬% আয় হারিয়েছে।
২০১৯ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৬০ বছর বা তার বেশী বয়সী ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে এক বিলিয়ন থেকে ১.৪ বিলিয়নে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা তরুণদের ছাড়িয়ে যাবে। এই বৃদ্ধি উন্নয়নশীল বিশ্বে সবচেয়ে বেশি এবং দ্রুততম হবে। এটি স্বীকার করতে মানবাধিকার ক্ষেত্র সহ প্রবীণ ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে এমন নির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতাগুলোর প্রতি আরো মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
প্রবীণ নির্যাতন এমন একটি সমস্যা যা উন্নয়নশীল এবং উন্নত উভয় দেশেই বিদ্যমান। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এটি সাধারণত কম রিপোর্ট করা হয়। এর ব্যাপকতার হার বা আনুমানিক হিসাব শুধুমাত্র কয়েক উন্নত দেশেই পাওয়া যায়, যা ১% থেকে ১০% পর্যন্ত। যদিও প্রবীণ নির্যাতনের মাত্রা অজানা, এ নৈতিক তাৎপর্য সুস্পষ্ট। এ কারণে এরজন্য একটি বিশ্বব্যাপী বহুমুখী প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন,যা প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করবে।
প্রবীণ নির্যাতনকে সংজ্ঞায়িত, সনাক্ত এবং মোকাবেলা করার পদ্ধতিগুলোকে এক প্রেক্ষাপটে স্থাপন করতে হবে এবং সংস্কৃতি নির্দিষ্ট ঝুকির কারণগুলোর সাথে বিবেচনা করতে হবে।উদাহরণ স্বরূপ কিছু ঐতিহ্যবাহী সামাজে বয়স্ক বিধবাদের জোর পূর্বক বিয়ে দেয়া হয়, আবার অন্য সমাজে নিংসঙ্গ বয়স্ক নারীদের ডাইনীবিদ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। স্বাস্থ্য ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা উভয়ক্ষেত্রেই যদি এই সমস্যার শনাক্ত ও মোকাবেলা করার জন্য সুসজ্জিত না থাকে, তবে প্রবীণ নির্যাতন ক্রমাগতভাবে অসনাক্ত ও উপেক্ষিত হতে থাকবে।
প্রবীণ নির্যাতন এখনও ব্যাপকভাবে উপেক্ষিত ও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। এটি শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক নির্যাতনের পাশাপাশি অবহেলা সহ বিভিন্ন রূপ নিতে পারে। এটি প্রায়শঃই এমন পরিস্থিতি ঘটে যেখানে প্রবীণ ব্যক্তিরা দৃশ্যমানতা, সমর্থন বা পরিসেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়। এরজন্য এমন শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন যাহা প্রতিরোধ করতে পারে এবং ঘটলে কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারে, একই সাথে বয়স্ক ব্যক্তিদের মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং অধিকারকে সম্মান করবে বলে বক্তারা মনে করেন।
এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কলেজ ও স্কুল প্রতিনিধিদের মধ্যে সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান বাবু।জেলা প্রবীণ কল্যাণ সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক কাজী আবু হেলাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা বি এম আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জালা উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আশরাফ উদ্দীন আহমেদ, শঙ্কর কুমার রায়, মো. আবুল কালাম প্রমূখ।

সাতক্ষীরায় ক্রীড়া কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ক্রীড়া কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে নারী খেলোয়াড়দের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দুর্নীতি, অনিয়ম ও খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমানের অপসারণ দাবি করেছেন জেলার নারী খেলোয়াড়েরা।মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের নারী খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন পুরুষ খেলোয়াড়ও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

 

​মানববন্ধনে খেলোয়াড়দের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন ক্রীড়া সংগঠক ও জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার প্রান্তির বাবা খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স। এ ছাড়া বক্তব্য দেন খেলোয়াড় উম্মে ফাতেমা উর্মি, সোহেলী আক্তার শামীমা, সালমা খাতুন, নদী বিশ্বাস, মেহেদী রাজু প্রমুখ।

 

​সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দকৃত প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী, জার্সি ও অনুদান সঠিকভাবে বিতরণ করা হয় না। প্রকৃত খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে অফিসের কর্মচারী কিংবা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নামে অনুদান দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

 

​নারী খেলোয়াড়েরা বলেন, অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে এবং কষ্ট করে বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অথচ জেলা ক্রীড়া অফিস থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় কোনো সহযোগিতা তো পাচ্ছেনই না, উল্টো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

 

​বক্তারা আরও বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে জাতীয় পর্যায়ে সাতক্ষীরার সুনাম বয়ে আনছি। অথচ আমাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও অনিয়মে অভিযুক্ত জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তার দ্রুত অপসারণ এবং একজন সৎ, দক্ষ ও খেলোয়াড়বান্ধব কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি।”

 

​অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, “সাতক্ষীরা জেলা থেকে জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া শিক্ষা বৃত্তির জন্য ১১৪ জন আবেদন করেছিলেন। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে জেলা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে ৯৮ জনের তালিকা জাতীয় ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হয়। পরে জাতীয় কমিটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে ভাতার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করেছে।”

 

​তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই কিছু খেলোয়াড় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। তবে এখানে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু করার ছিল না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় কমিটিই নিয়েছে।”

 

​মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।