চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম: ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
সংবাদদাতা: গ্রীষ্মের প্রচ- দাবদাহ আর আষাঢ়ের ভ্যাপসা গরমে সাতক্ষীরায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। দিনে-রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার কয়েক লাখ গ্রাহক। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। প্রচ- গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু ও বয়স্করা।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বরাদ্দ অনেক কম মেলায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়েই ফিডার ধরে ধরে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি দপ্তরে। ভোমরা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানের দাপ্তরিক সব কাজ অনলাইন নির্ভর। বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ও কম্পিউটার বন্ধ থাকছে, যার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ফাইল তদারকি ও পণ্য খালাসে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজসহ দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার মালিকেরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটে স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় মারাত্মক বিঘœ ঘটছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মোমবাতি, হারিকেন বা ল্যাম্প জ্বালিয়ে পড়তে বসতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় চেষ্টা চলছে।













