মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
ইছামতির বাঁকে বাঁকে: জল ও জীবনের লড়াই

দীপঙ্কর বিশ্বাস

নদীমাতৃক বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক চিরচেনা ও ঐতিহাসিক নদী ইছামতি। এই নদীকে ঘিরেই যুগ যুগ ধরে গড়ে উঠেছে কতশত জনপদ, সভ্যতার বিকাশ আর হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। বিশেষ করে ইছামতির দুই পাড়ে বসবাসকারী মৎস্যজীবীদের কাছে এই নদী কেবলই একটি জলধারা নয়; এটি তাদের অন্নদাতা, তাদের সুখ-দুঃখের পরম সঙ্গী। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ কেমন আছে ইছামতির সেই মৎস্যজীবীরা? তাদের জীবন-জীবিকার হালচালই বা কী?

ভোর হওয়ার আগেই যখন চারপাশ কুয়াশায় বা মৃদু অন্ধকারে ঢাকা থাকে, তখনই ইছামতির বুকে শোনা যায় বৈঠার শব্দ। ছৈওয়ালা নৌকায় বসে জাল গোছাতে গোছাতে মৎস্যজীবীরা জপতে থাকেন এক অজানা প্রার্থনা-আজ যেন নদীর বুক থেকে কিছু রূপালি ফসল ঘরে তোলা যায়।

বংশপরম্পরায় এই পেশায় টিকে থাকা জলদাস বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবন ইছামতির জোয়ার-ভাটার মতোই চঞ্চল। খেপলা জাল, কারেন্ট জাল কিংবা ঝাঁকি জাল ছুঁড়ে দিয়ে তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। মাছ বলতে কখনো চিংড়ি, আবার কখনো বেলে, ট্যাংরা বা পারশে। এই মাছ বিক্রি করেই চলে তাদের সংসারের চাল-ডাল কেনা, সন্তানের স্কুলের খরচ আর বুড়ো মা-বাবার ওষুধের টাকা।

সংকটের চোরাবালি: বিপন্ন ইছামতি, বিপন্ন জীবন
সোনালী অতীতের গল্প এখন রূপকথা মনে হয়। বর্তমান সময়ে ইছামতির মৎস্যজীবীরা নানামুখী সংকটের মুখোমুখি। সাংবাদিক হিসেবে মাঠপর্যায়ে তাকালে কয়েকটি বড় ধাক্কা স্পষ্ট চোখে পড়ে,

১. নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগের মতো গভীরতা নেই, ২.কমে গেছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র। ৩. কৃষিজমিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক ধুয়ে এসে পড়ছে ইছামতিতে। ফলে মাছের মড়ক এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। ৪. ইছামতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। সীমানা জটিলতা ও কড়া নজরদারির কারণে মৎস্যজীবীরা অনেক সময় স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারেন না। অনিচ্ছাকৃত সীমান্ত লঙ্ঘনের ভয়ে আতঙ্কে কাটে তাদের দিন।

যখন নিষেধাজ্ঞার মেঘ নামে
মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সরকারিভাবে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইলিশের প্রজনন মৌসুম বা জাটকা রক্ষার এই উদ্যোগ পরিবেশের জন্য দারুণ হলেও, বিকল্প কর্মসংস্থানহীন মৎস্যজীবীদের পেটে তখন চড়া চাবুক পড়ে। সরকারের দেওয়া চালের বরাদ্দ অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কিংবা পৌঁছাতে দেরি হয়। ফলে দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন তারা। এই ঋণের জাল থেকে তারা আর সহজে বের হতে পারেন না।
“নদী আমাদের মা। মা কি কখনো সন্তানকে না খেয়ে মারে? নদী ঠিকই মাছ দিত, কিন্তু মানুষই তো নদীটারে মেরে ফেলল।” -একজন প্রবীণ মৎস্যজীবীর আক্ষেপ।

বাঁচিয়ে রাখার দায় আমাদেরই
ইছামতি নদী এবং এর ওপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের জীবন বাঁচাতে হলে এখনই সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

১. শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

২. মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক সময়ে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের (যেমন- হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্প) প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।

৩. মহাজদের কবল থেকে বাঁচাতে সরকারি ব্যাংক বা সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের স্বল্প সুদে বা সুদহীন ঋণের ব্যবস্থা করা উচিত।

ইছামতি নদী শুধু এক ফালি জলরেখা নয়, এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের ধমনী। এই ধমনী শুকিয়ে গেলে কিংবা দূষিত হলে থমকে যাবে একটি আস্ত জনপদের জীবনস্পন্দন। ইছামতির রূপালি মাছ আর মৎস্যজীবীদের মুখের অমলিন হাসি টিকিয়ে রাখতে হলে নদীকে ভালোবাসতে হবে, নদীকে বাঁচাতে হবে। কারণ, ইছামতি বাঁচলে, বাঁচবে মৎস্যজীবী; আর মৎস্যজীবী বাঁচলে টিকে থাকবে আমাদের চিরন্তন বাংলার রূপ।

 

 

Ads small one

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে আড়াই লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও ৩১ পিস ইয়াবাসহ একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২৯ ও ৩০ জুন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধীনস্থ বৈকারী, মাদরা, ভোমরা ও কালিয়ানী বিওপির টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভোমরা বিওপির টহল দল সীমান্ত মেইন পিলার-৩ থেকে ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোমরা ফলমোড় এলাকায় তল্লাশি চালায়। এ সময় বিজিবির ডগ স্কোয়াডের ‘লিজা’ নামের কুকুরের সহায়তায় সন্দেহভাজন সুজন গাজী (২১) নামের এক যুবকের শরীর তল্লাশি করে ৩১ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক সুজন সাতক্ষীরা সদর থানার চৌবাড়িয়া গ্রামের মিলন গাজীর ছেলে।

এছাড়া পৃথক অভিযানে বৈকারী সীমান্ত থেকে ৭০ হাজার টাকার, মাদরা সীমান্ত থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকার এবং কালিয়ানী সীমান্ত থেকে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় ওষুধ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ও চোরাচালান পণ্যের মোট মূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব মালামাল ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল।

 

 

 

 

আশাশুনিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে এ্যাসিসটিভ ডিভাইস (সহায়ক উপকরণ) বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়।

পিইডিপি-৪ (চঊউচ-৪) প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে উপকরণ তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। অনুষ্ঠানে ৫ জন শিক্ষার্থীকে হুইল চেয়ার, ২ জনকে ক্রাচ, ৩ জনকে চশমা এবং ৩ জনকে শ্রবণযন্ত্র প্রদান করা হয়।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, ঝংকার ঢালী, আশেকুজ্জামান, নয়ন কুমার সাহা ও সোহাগ আলমসহ শিক্ষা অফিসের কর্মচারীবৃন্দ।

 

 

দেবহাটায় লটারির মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ঠিকাদার নির্বাচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় লটারির মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন ঠিকাদার নির্বাচন

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিতব্য আবাসনের ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এই লটারি অনুষ্ঠিত হয়।

 

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৩য় পর্যায়ে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই আবাসন প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ দিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে প্রকাশ্য লটারির আয়োজন করা হয়। লটারিতে প্রথম স্থান অর্জন করে মেসার্স রাকিব এন্টারপ্রাইজ। এছাড়া দ্বিতীয় মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মেসার্স অহন এন্টারপ্রাইজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিজুর রহমান, উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সন্দীপ মন্ডল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর হোসেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল বারী মোল্যা ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাবসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ।