শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি না-কি বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ
কপ-৩১: প্রতিশ্রুতি না-কি বাস্তবায়ন

বাহলুল আলম

জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় সংকট। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, নিরাপদ পানির সংকট, কৃষি ও জীবিকার ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কোনো দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর বাস্তবায়ন। এই প্রয়োজন থেকেই জাতিসংঘের জলবায়ু প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে গড়ে উঠেছে কপ।

১৯৮৮ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের জন্য আইপিসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো কনভেনশন বা ইউএনএফসিসিসি গৃহীত হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব এমন পর্যায়ে স্থিতিশীল করা, যাতে জলবায়ু ব্যবস্থায় বিপজ্জনক মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করা যায়। ইউএনএফসিসিসি -এর অধীনেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় কপ। এর মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়, আগের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করে।

গত তিন দশকে কপ-এর মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্জন হয়েছে। ১৯৯৭ সালের কপ৩-এ কিয়োটো প্রটোকল গৃহীত হয়, যা উন্নত দেশগুলোর জন্য আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি। ২০০১ সালের কপ৭-এ মারাকেশ অ্যাকর্ডের মাধ্যমে কিয়োটো প্রটোকল বাস্তবায়নের জন্য নির্গমন হিসাব, রিপোর্টিং ও কমপ্লায়েন্সের বিস্তারিত নিয়ম তৈরি হয়। ২০০৭ সালের কপ১৩-এর বালি অ্যাকশন প্ল্যান নতুন দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থা তৈরির আলোচনার পথ তৈরি করে।

২০০৯ সালের কপ১৫ কোপেনহেগেন সম্মেলন জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সেখানে উন্নত দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন মোবিলাইজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ক্ক সেলসিয়াস -এর নিচে রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমার গুরুত্ব আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালের কপ১৬ কানকুন অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে অভিযোজন, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বন সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো শক্তিশালী হয়।

২০১১ সালের কপ১৭ ডারবান প্ল্যাটফর্ম সব দেশের অংশগ্রহণে একটি নতুন আইনগত জলবায়ু চুক্তির দিকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করে। ২০১৩ সালের কপ১৯-এ প্রতিষ্ঠিত হয় ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক ওয়ারশ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করে। এরপর আসে ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক কপ২১ এবং প্যারিস চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ক্ক সেলসিয়াস -এর অনেক নিচে রাখা এবং ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমায় রাখার প্রচেষ্টা চালানোর জন্য একটি নতুন বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি হয়।

২০১৮ সালের কপ২৪-এ প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, রিপোর্টিং ও অগ্রগতি পরিমাপের জন্য কাটোভিস প্যাকেজ বা প্যারিস রুলবুক -এর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম-কাঠামো তৈরি হয়। ২০২১ সালের কপ২৬ প্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্টে প্রথমবারের মতো কপ-এর সিদ্ধান্তে অনিয়ন্ত্রিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন -এর ধাপে ধাপে হ্রাস এবং অদক্ষ জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর আহ্বান অন্তর্ভুক্ত হয়। ২০২২ সালের কপ২৭-এ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিল প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের কপ২৮-এ প্রথম বৈশ্বিক স্টকটেক সম্পন্ন হয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দূরে সরে যাওয়ার বৈশ্বিক আহ্বানসহ ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা তিনগুণ করার লক্ষ্য সামনে আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের কপ২৯ বাকু সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় এবং সব উৎস মিলিয়ে বছরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়।

তবে কপ-এর অর্জনের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও কম নয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যবধান কতটা কমেছে? জলবায়ু অর্থায়নের ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যটি তার একটি বড় উদাহরণ। ২০২০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের কথা থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ে অর্জিত হয়নি। ওইসিডি -এর হিসাবে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো উন্নত দেশগুলোর দেওয়া ও সংগৃহীত জলবায়ু অর্থায়ন ১১৫.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে তা ১৩২.৮ বিলিয়ন এবং ২০২৪ সালে ১৩৬.৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের দুই বছর পরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে-জলবায়ু অর্থায়নের অর্থ কি শুধুই অর্থের পরিমাণ? মোট অর্থের পাশাপাশি অর্থের ধরন, শর্ত, প্রবেশাধিকার এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীও গুরুত্বপূর্ণ। কতটা অর্থ অনুদান, কতটা ঋণ, কতটা অভিযোজনের জন্য, কতটা প্রশমনের জন্য এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে-এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। কপ২৯-এর ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন লক্ষ্য তাই শুধু একটি সংখ্যাগত লক্ষ্য নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন, অর্থের মান, সহজপ্রাপ্যতা এবং ন্যায্য বণ্টনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

জলবায়ু অর্থায়নের প্রশ্ন থেকেই সামনে আসে-ঋণ নাকি ক্ষতিপূরণ? বাংলাদেশসহ জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে, তাদের যদি অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়, তাহলে একদিকে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা করতে গিয়ে অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি -এর ক্ষেত্রে অর্থায়নকে সাধারণ উন্নয়ন ঋণের সঙ্গে এক করে দেখলে জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নটি দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের জন্য তাই পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য, সহজপ্রাপ্য এবং বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের দাবি গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গতির ঘাটতি। একাধিক কপ-এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ক্ক সেলসিয়াস সীমার মধ্যে রাখার জন্য যে দ্রুত ও ব্যাপক নির্গমন হ্রাস প্রয়োজন, তা এখনও একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে কপ২৬-এ শক্তিশালী ভাষা আসতেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। একইভাবে ক্ষয়ক্ষতি তহবিল প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহ ও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে অর্থ পৌঁছানো এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতার মধ্যেই সামনে আসছে কপ৩১। ২০২৬ সালের ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ৩১ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশকে এবার শুধু জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজের দুর্দশার কথা তুলে ধরলেই হবে না; বরং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট, তথ্যভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য দাবি নিয়ে এগোতে হবে।

কপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত অভিযোজন অর্থায়নে ন্যায্যতা। বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ ও নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন প্রয়োজন। এই অর্থায়ন হতে হবে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য, সহজপ্রাপ্য এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের উচিত ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়নের পরিবর্তে অনুদান ও সহজশর্তের অর্থায়নের দাবি জোরালো করা। বিশেষ করে ক্ষয়ক্ষতি -এর অর্থ যেন নতুন ঋণের বোঝা সৃষ্টি না করে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে যে ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল-এর কার্যকর অর্থপ্রবাহ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত। ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমি ও জীবিকার ক্ষতি এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির মতো বিষয়গুলোকে ক্ষয়ক্ষতি -এর আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থ ও সহায়তা পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

চতুর্থত, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপদ পুনর্বাসনকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়; তাদের জীবিকা, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, কর্মসংস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

পঞ্চমত, বাংলাদেশকে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনতে হবে। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, নিরাপদ পানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আগাম সতর্কতা, পানি ব্যবস্থাপনা, উপকূল সুরক্ষা ও স্থানীয় গবেষণার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও জ্ঞান সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

ষষ্ঠত, বাংলাদেশকে প্রকৃতিনির্ভর অভিযোজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দরবন, ম্যানগ্রোভ, নদী, খাল, জলাভূমি, উপকূলীয় বন ও মিঠাপানির উৎস শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এগুলো জলবায়ু অভিযোজনেরও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি ধ্বংস না করে প্রকৃতিকে অভিযোজনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

সপ্তমত, জলবায়ু অর্থায়নকে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, কৃষক, জেলে ও স্থানীয় সংগঠনকে অভিযোজন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। শুধু বড় জাতীয় প্রকল্প নয়, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন উদ্যোগেও অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

অষ্টমত, কপ৩১-এ জলবায়ু অর্থায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হওয়া উচিত। কোন দেশ কত অর্থ দিচ্ছে, অর্থের কতটা অনুদান ও কতটা ঋণ, কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, কতটা অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি -এ যাচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ কতটা সুবিধা পাচ্ছে-এসব তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এই জায়গায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি সিভিল সোসাইটির দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিভিল সোসাইটির কাজ শুধু ঈঙচ-এ দাবি তোলা নয়; বরং কপ-এর প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা। জলবায়ু অর্থায়নের উৎস ও ব্যবহার অনুসরণ করা, জাতীয় বাজেট ও প্রকল্পের সামাজিক নিরীক্ষা করা, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নথিবদ্ধ করা এবং সেই তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরা-এসব কাজ আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নারী, যুব, কৃষক, জেলে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় পৌঁছে দিতে হবে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত। কপ-এর সিদ্ধান্তকে জাতীয় নীতি, বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা, এনডিসি এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থ, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় সরকারকে শুধু দায়িত্ব দিলে হবে না; প্রয়োজনীয় অর্থ, ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও দিতে হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানি, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, জীবিকা, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং প্রকৃতি সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

সবশেষে বলা যায়, কপ-এর গত তিন দশকের অর্জনকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিয়োটো প্রটোকল, প্যারিস চুক্তি, ১.৫ক্ক সেলসিয়াস লক্ষ্য, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, বৈশ্বিক স্টকটেক এবং জলবায়ু অর্থায়নের নতুন কাঠামো-এসবই আন্তর্জাতিক জলবায়ু রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। কিন্তু জলবায়ু সংকটের বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ, যখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।

তাই কপ৩১-এ বাংলাদেশের বার্তা হওয়া উচিত-নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, পুরোনো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই। ঋণনির্ভর জলবায়ু অর্থায়ন নয়, ন্যায্য, পর্যাপ্ত, সহজপ্রাপ্য ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাই। ক্ষয়ক্ষতি -এর অর্থ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। জলবায়ু ন্যায়বিচার মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়; নিরাপদ পানি, খাদ্য, জীবিকা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করাও জলবায়ু ন্যায়বিচারের অংশ।

কপ৩১-এর সামনে তাই বাংলাদেশের মূল প্রশ্ন একটাই-বিশ্ব কি এবার প্রতিশ্রুতির রাজনীতি থেকে বাস্তবায়নের পথে এগোবে?

বাহলুল আলম, প্রধান নির্বাহী-সিভিক ভয়েজ বাংলাদেশ

Ads small one

৯ গোলে হেরে বাংলাদেশের দুই ফুটবলার ‘নাইট ক্লাবে’! কী বলছেন তারা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ
৯ গোলে হেরে বাংলাদেশের দুই ফুটবলার ‘নাইট ক্লাবে’! কী বলছেন তারা?

ফিফা আসিয়ান কাপে শেষ ম্যাচে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে উড়ে গেছে জামাল ভূঁইয়ারা। জাকার্তায় এমন ম্যাচের পর সবার মন খারাপ। ইতিহাসে অনেক বছর পর এত বড় ব্যবধানে হার দেখলো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ম্যাচের পর গভীর রাতে দুটি ছবি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে খেলোয়াড়দের কমিটমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।

রাতে ম্যাচ হেরে ‘নাইট ক্লাবে’ নাকি গিয়েছিলেন ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন ও মিডফিল্ডার সোহেল রানা। ইন্দোনেশিয়ার একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ক্লাবের দুটি ছবি পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন।

আলানা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ৯-২ গোলে হেরেছে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে তাদের এইচ ক্লাবে দেখা হয়েছে।’

এরপর আবার লিখেছে, ‘আজকের ম্যাচ দেখতে তারা আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হবে, যদি আমি সেখানে গিয়ে নিজেদের জাতীয় দলের বদলে বাংলাদেশের পক্ষেই গলা ফাটাতে শুরু করি!’

যদিও কয়েক ঘণ্টা পর সেই মেয়ে পোস্ট ডিলিটও করে ফেলেন।

জাতীয় দলের দুজনের মধ্যে সাদ উদ্দিন দেশে রওনা হয়েছেন। আর মিডফিল্ডার সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে নাইট ক্লাবে যাওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে বলেছেন, ‘৯ গোলে হেরে আমরা জাকার্তায় নাইট ক্লাবে যাইনি। এমনিতে আমাদের সবার মন খারাপ। তাই এখানে আনন্দ করার কিছু নেই। আর ওই ছবিগুলো আসলে নেপালের ক্লাবের ঘটনা। ঘরোয়া ফুটবলের বিরতির সময় আমি আর সাদ ওখানে গিয়েছিলাম। আমাদের বন্ধুবান্ধব ছিল সেখানে। তাদের একজন ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। তাই মনে হচ্ছে আমরা জাকার্তায় পার্টিতে গিয়েছিলাম। আসলে ঘটনা সত্যি না।’

ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
ব্র্যাকের পর নতুন যাত্রায় মিথিলা

অভিনয়ের পাশাপাশি একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। দীর্ঘ দুই দশক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে কাজ করার পর এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে পেশাগত জীবনের এই সুখবরের কথা জানিয়েছেন তিনি।

পোস্টে মিথিলা বলেন, ‘আমার পেশাগত জীবনে এক নতুন অধ্যায়ে পা দিচ্ছি। ব্র্যাকের সাথে দুই দশকের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর—যার মধ্যে ১৫ বছরই কেটেছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের হয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে—এবার একটা নতুন প্রফেশনাল জার্নি শুরু করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট বা সহযোগী ‘গবেষণা বিজ্ঞানী’ হিসেবে জয়েন করছি আজ (১ অক্টোবর) থেকে।’

এই গবেষণায় মিথিলা কী কাজ করবেন পোস্টে সেটিও জানান। তার ভাষ্য, ‘এখানে আমার কাজ হবে নিউইয়র্ক এ অবস্থিত ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রজেক্টের ডিজাইন এবং মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেওয়া। এই উদ্যোগটি, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে; যেখানে একদম ছোট বাচ্চাদের (জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়স) পরিবারগুলোকে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য দরকারি সব সুযোগ-সুবিধা আর পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।’

অভিনেত্রী পোস্টে লেখেন, ‘স্থানীয় মানুষের চাহিদার সাথে গবেষণার লক্ষ্যগুলোর মেলবন্ধন ঘটাতে এবং ডেটা ও প্রমাণ তৈরির মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে আমার গ্লোবাল এক্সপেরিয়েন্সকে কলাম্বিয়ায় কাজে লাগাতে পারবো বলে আশা করছি।’

গবেষণার পাশাপাশি সেখানে শিক্ষকতাও করবেন জানিয়ে মিথিলা বলেন, ‘আমি সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউ ইয়র্ক-এ ‘অ্যাডজাংন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেছি। আমি সেখানে ‘ননপ্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ পড়াচ্ছি, যেখানে আমি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জগতের ননপ্রফিট সংস্থাগুলোর কাজের ধারণার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।’

জন্মদিনে জেমস: জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেইজন্মদিনে জেমস: জীবনকে জটিলভাবে ভাবার দরকার নেই
দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মিথিলা বলেন, ‘আমার এই প্রফেশনাল জার্নির জন্য আমি ব্র্যাকের কাছে মনেপ্রাণে কৃতজ্ঞ। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা রিসার্চ ইনফাস্ট্রাকচার ও মেধাবী গবেষকদের টিমের সাথে কাজ করতে পারা আশা করি আমার কর্ম অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’

ভারতে সৈকতে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
ভারতে সৈকতে ডুবে ৮ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিবেগার সমুদ্রসৈকতে সাগরে ডুবে পুণের আট শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবার বয়স ১৬ বছর। পুলিশ জানিয়েছে, সাগর থেকে আট জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

নিহতরা পুণে জেলার আলান্দির একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টার উইনার্স অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী ছিলেন। ভ্রমণের জন্য তারা প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে দিবেগারে গিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ ছেলে, ১৭ মেয়ে ও ছয় শিক্ষকসহ মোট ৪৮ জনের একটি দল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সমুদ্রসৈকতে পিকনিকে যায়। একপর্যায়ে আট শিক্ষার্থী সাগরে নামেন। পানির গভীরতা ও স্রোতের তীব্রতা বুঝতে না পারায় তারা স্রোতে ভেসে যান।

খবর পেয়ে দিবেগারে ভাউ মারুতি সালুনখে মহাকালী ওয়াটার স্পোর্টস-এর মালিক ভাউ সালুনখে ও তার দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ওয়াটার স্পোর্টস দলের সদস্যরা সাগর থেকে আট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দিঘি সাগরি বোরলি পঞ্চতান থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ আওয়াতি একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ মরদেহগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহগুলো বোরলি পঞ্চতানের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।

নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, তন্ময় দত্তাত্রেয় ভাহিলে, সুমিত ভারত আহিরে, প্রণব রামদাস বানসোদে, কৈবল্য সতীশ ওয়াসানকার, রাজবীর যুবরাজ ভাহিলে, যশ কিরণ ওয়াংখেড়ে, সোহম তুকারাম ভান্ধওয়ালকর এবং কৌস্তুভ সন্দীপ দৌন্ড।

ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস এক্সে দেওয়া পোস্টে ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের মরদেহ আলান্দিতে ফিরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসন সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী গিরিশ মহাজন এ ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কোচিং অ্যাকাডেমিকে এ ঘটনার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্কুলের শিক্ষা সফরের জন্য রাজ্য সরকার শিগগিরই নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করবে বলেও জানান তিনি।