সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বাঁশের ভাসমান সাঁকোয় নদী পারাপার, টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#bokehtype:0#;ts:90026443237000;appts:1787621659253;qlty:1;;illum:2 scene:0 humanIn:0;

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: কলারোয়া উপজেলার কোঠাবাড়ি-রায়টাসহ চার ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বেত্রবতী নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিনেও এর স্থলে টেকসই কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নদীর ওপর একটি পাকা সেতু না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রতিদিনই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশের ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করে নদী পারাপার চলছে।

বেত্রবতী নদীর তীরে অবস্থিত হেলাতলা ইউনিয়নের কোঠাবাড়ির পাশের শুভংকরকাটি ও হেলাতলা গ্রাম। নদীর অপর পাড়ে রয়েছে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা, কয়লা ইউনিয়নের আলাইপুর এবং রায়টার পূর্ব পাশে যুগিখালি ইউনিয়নের আগুনপুর (রাজনগর) গ্রাম। হেলাতলা, কুশোডাঙ্গা, কয়লা ও যুগিখালি—এই চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম কোঠাবাড়ি-রায়টার এই সাঁকো।

টেকসই পাকা সেতু না থাকায় এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি এখনো কাটেনি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, বয়স্ক ও সাধারণ পথচারীদের নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক। কোঠাবাড়ি গ্রামের ঠিক বিপরীতে নদীতীরবর্তী কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের রায়টা গ্রাম। বেত্রবতী নদী এই দুই গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে। স্থানীয়দের যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ও এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় বাঁশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ মিটার দীর্ঘ একটি অপ্রশস্ত ভাসমান সাঁকো।

প্রায় ৬০টি প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর সাঁকোটির কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। ড্রামগুলো সুনিপুণভাবে বাঁশের খুঁটি ও পাটাতনের সঙ্গে সংযুক্ত করে সাঁকোটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে এর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় পুরো সাঁকোটিই দুলতে থাকে। ফলে মানুষকেও দুলতে দুলতেই নদী পার হতে হয়।

কোঠাবাড়ি গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, সাঁকোটি এতটাই সংকীর্ণ যে এর ওপর দিয়ে একটি বাইসাইকেল সঙ্গে নিয়ে পার হওয়াও কঠিন। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলার ক্ষেত্রেও পথচারীদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেত্রবতী নদীর ওপর স্থাপিত বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যায়। এরপর ড্রাম দিয়ে ভেলা তৈরি করে মানুষ নদী পারাপার হতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের প্রাণান্ত প্রচেষ্টা এবং হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের সহায়তায় নদীর ওপর আবারও ভাসমান বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা সম্ভব হয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তাঁর ভাই শিল্পপতি ইমাম হোসেন সাঁকো নির্মাণকাজে আর্থিক সহায়তা করেছেন। তিনি বলেন, সাঁকোটি স্থাপিত হওয়ায় অন্ততপক্ষে দুই পাড়ের মানুষ হেঁটে নদী পারাপার হতে পারছেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে।

চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন আরও বলেন, ২০০৩ সালে প্রথমবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে গত ২৩ বছর ধরে তিনি এখানে মানুষের পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করিয়ে দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ড্রামের ওপর বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করে দেন তিনি। সেটি বর্তমানে সচল রয়েছে। তবে এখানে একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণ করা গেলে মানুষের দীর্ঘদিনের নদী পারাপারের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে লাঘব হতো।

হেলাতলা-কোঠাবাড়ি গ্রামের ইউপি সদস্য আমিরুল ইসলাম বলেন, কোঠাবাড়ি গ্রামের মানুষ প্রতি শনি ও মঙ্গলবার রায়টা বাজারের সাপ্তাহিক হাটে যান। এছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনও নানা প্রয়োজনে তাঁদের রায়টা বাজারে যেতে হয়। কোঠাবাড়ি গ্রামে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের হেলাতলা অথবা রায়টায় যেতে হয়। এ কারণে কোঠাবাড়ি-রায়টার সংযোগ সাঁকোটি তাঁদের নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে কলারোয়া উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোশাররফ হোসেন জানান, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু রায়টা পাড়ের সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবার সংযোগস্থলের সামান্য দিক পরিবর্তন করে সেতু নির্মাণের জন্য নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সেটির অনুমোদন মেলেনি। ফলে সেতু নির্মাণের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, বেত্রবতী নদীর ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা গেলে দুই তীরের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। উন্মোচিত হবে এ জনপদের যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
ড্রাম দিয়ে তৈরি ভাসমান বাঁশের সাঁকোটি দূর থেকে দেখলে হয়তো মনোরম মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি কোনোভাবেই টেকসই ও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তাই সাময়িক এই পারাপারের ব্যবস্থা নয়, বেত্রবতীর ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণই এখন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।

Ads small one

রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত ৬৮তম রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে রামোন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন (আরএমএএফ) এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
ম্যানিলার ফাউন্ডেশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে রুনা খানের নাম ঘোষণা করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডগার ও. চুয়া ও প্রেসিডেন্ট সুসানা বি. আফান। প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান, এই স্বীকৃতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, যাঁরা ফ্রেন্ডশিপকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। সংস্থার কর্মী ও গত ২৫ বছর ধরে পাশে থাকা সহযোগীদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রুনা খান বাংলাদেশ থেকে এই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্যার ফজলে হাসান আবেদসহ একাধিক বিশিষ্ট বাংলাদেশি এই সম্মাননা লাভ করেন। আগামী ১৫ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিল্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। ২০০২ সালে একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু খাতে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছে।

যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘প্রতিবাদ, প্রত্যয়, বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
জেলা যুব অধিকার পরিষদের আয়োজনে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের নিউমার্কেট এলাকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. তবিবুর রহমান, সহসভাপতি ঢালী হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শাহাজী, মো. সেলিম রেজা, সাবেক উপজেলা সভাপতি আজমির হোসেন পলাশ, সাইফুল ইসলাম আঙ্গুর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ নয়ন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. আল-আমিন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যুব অধিকার পরিষদ গত ছয় বছর ধরে দেশে বিকাশমান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা। সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কপিলমুনিতে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে পাইকগাছা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। ৩১ আগস্ট সোমবার দুপুর ১২টায় সমিতির কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ী কাঞ্চন কুমার পালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাইকগাছা থানার ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি এম আজাদ হোসেন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলাম, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ সরকার, সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কর্মকার ও এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ব্যবসায়ী বিপ্লব দত্ত, কার্তিক সাধু, প্রদীপ দত্ত ও জগদীশ দে উপস্থিত ছিলেন।