কলারোয়ার জয়নগরে সরকারি গাছ আত্মসাতের চেষ্টা, এলাকাবাসীর বাধার মুখে পন্ড
oplus_0
নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। জয়নগর দক্ষিণপাড়া ঈদগাহের সামনের সড়ক সংলগ্ন বনবিভাগের জমি থেকে বড় আকারের নয়টি শিলকড়ই গাছ কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এলাকাবাসীর জোরালো প্রতিবাদের মুখে তা প- হয়ে গেছে। তবে প্রতিবাদের আগেই দুটি গাছ কেটে সটকে পড়ে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশের ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করেন বারিক গাইন নামের এক ব্যক্তি। তবে সরকারি গাছগুলো অপসারণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে গাছের অপসারণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তা নেন তিনি। গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) সকালে সব ধরনের প্রশাসনিক নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে একদল লোক নিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে গাছ কাটা শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। মোশাররফ হোসেন নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গাছ কাটার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্র হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। সে সময় এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সরে যাননি। এর মধ্যেই দুটি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাকি সাতটি গাছের ডালপালা কেটে মুড়ো করে রাখা হয়। এমনকি গাছগুলোর শেকড় কাটার জন্য গোড়ার মাটি খোঁড়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানান।
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হাবিবুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা পরিষদের সার্ভেয়ার সরজমিনে জমি মেপে নিশ্চিত করেন গাছগুলো সরকারি সম্পদ। গাছ সুরক্ষায় কলারোয়া উপজেলা বনবিভাগকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম শামীম ও আলমগীর হোসেন জানান, জমিটির মূল মালিক মরহুম মোকছেদ আলী খানের ছেলে আবদুল লতিফ খান। কিন্তু লতিফ সরদার নামের অন্য এক ব্যক্তি নামের আংশিক মিলকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া মালিকানা দাবি করছেন। তিনি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জয়নগর ইউপি সচিব হাবিবুর রহমান জানান, ইউএনওর নির্দেশে তিনি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে বনবিভাগ তদন্ত করে দেখছে।
এদিকে জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি দাখিল মাদ্রাসার সরকারি গাছ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের আরেকটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বড় মেহগনি ও দুটি শিশুগাছ অবৈধভাবে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
মো. বজলুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল মাদ্রাসা চলাকালীন সময়েই প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় থাকা পাঁচটি মেহগনি ও দুটি শিশুগাছ কেটে নিয়ে যান স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুজিবুর রহমান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা কামরুজ্জামান যোগসাজশ করে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে গাছগুলো বিক্রি করেন। ইতোমধ্যে সুপার ও সভাপতি গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।









