বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

কলারোয়ার জয়নগরে সরকারি গাছ আত্মসাতের চেষ্টা, এলাকাবাসীর বাধার মুখে পন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ার জয়নগরে সরকারি গাছ আত্মসাতের চেষ্টা, এলাকাবাসীর বাধার মুখে পন্ড

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে অবৈধভাবে সরকারি গাছ কেটে আত্মসাতের অপচেষ্টা চালিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। জয়নগর দক্ষিণপাড়া ঈদগাহের সামনের সড়ক সংলগ্ন বনবিভাগের জমি থেকে বড় আকারের নয়টি শিলকড়ই গাছ কেটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও এলাকাবাসীর জোরালো প্রতিবাদের মুখে তা প- হয়ে গেছে। তবে প্রতিবাদের আগেই দুটি গাছ কেটে সটকে পড়ে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সড়কের পাশের ওই জমিতে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করেন বারিক গাইন নামের এক ব্যক্তি। তবে সরকারি গাছগুলো অপসারণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে গাছের অপসারণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তা নেন তিনি। গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) সকালে সব ধরনের প্রশাসনিক নিয়মকানুন তোয়াক্কা না করে একদল লোক নিয়ে সম্পূর্ণ গায়ের জোরে গাছ কাটা শুরু করেন জাহাঙ্গীর আলম। মোশাররফ হোসেন নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
গাছ কাটার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা একত্র হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। সে সময় এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সরে যাননি। এর মধ্যেই দুটি গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বাকি সাতটি গাছের ডালপালা কেটে মুড়ো করে রাখা হয়। এমনকি গাছগুলোর শেকড় কাটার জন্য গোড়ার মাটি খোঁড়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিষয়টি জানান।
শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ইউএনওর নির্দেশে জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হাবিবুর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে উপজেলা পরিষদের সার্ভেয়ার সরজমিনে জমি মেপে নিশ্চিত করেন গাছগুলো সরকারি সম্পদ। গাছ সুরক্ষায় কলারোয়া উপজেলা বনবিভাগকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন এলাকাবাসী।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ এবং স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রহিম শামীম ও আলমগীর হোসেন জানান, জমিটির মূল মালিক মরহুম মোকছেদ আলী খানের ছেলে আবদুল লতিফ খান। কিন্তু লতিফ সরদার নামের অন্য এক ব্যক্তি নামের আংশিক মিলকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া মালিকানা দাবি করছেন। তিনি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে জয়নগর ইউপি সচিব হাবিবুর রহমান জানান, ইউএনওর নির্দেশে তিনি সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে বনবিভাগ তদন্ত করে দেখছে।
এদিকে জয়নগর ইউনিয়নের সরসকাটি দাখিল মাদ্রাসার সরকারি গাছ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের আরেকটি চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বড় মেহগনি ও দুটি শিশুগাছ অবৈধভাবে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
মো. বজলুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ এপ্রিল মাদ্রাসা চলাকালীন সময়েই প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় থাকা পাঁচটি মেহগনি ও দুটি শিশুগাছ কেটে নিয়ে যান স্থানীয় এক কাঠ ব্যবসায়ী। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুজিবুর রহমান এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা কামরুজ্জামান যোগসাজশ করে সরকারি নিয়মনীতি না মেনে গাছগুলো বিক্রি করেন। ইতোমধ্যে সুপার ও সভাপতি গাছ বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

Ads small one

কলারোয়ায় ২০ বোতল এসকাফসহ গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় ২০ বোতল এসকাফসহ গ্রেপ্তার ১

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ বোতল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য এসকাফসহ (ঊংশঁভ) সুজন হোসেন (২৮) নামের এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বুধবার কলারোয়া থানা-পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালি গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত সুজন ওই এলাকার মোমরেজুলের ছেলে। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ আগস্ট দায়ের করা একটি মামলার (মামলা নম্বর-৮) এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, উদ্ধার করা আলামতসহ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

নগরঘাটায় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রার্থী ইবাদুল ইসলামের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ
নগরঘাটায় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রার্থী ইবাদুল ইসলামের মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মতবিনিময় সভা করেছেন তালার ২ নম্বর নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী আলহাজ মো. ইবাদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে পোড়ার বাজারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। শিল্পপতি ও সমাজসেবক ইবাদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হওয়ার অপেক্ষা না করেই তিনি নিজ অর্থায়নে এলাকার বিভিন্ন চলাচলের অনুপযোগী সড়ক সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ইউনিয়নবাসীর জরুরি চিকিৎসার সুবিধার্থে একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান এবং প্রতি বছর প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে একজন অসচ্ছল ব্যক্তিকে নিজ খরচে হজে পাঠানোর ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সচিবালয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলহাজ মো. নুর নওয়াজ সরদার। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি সরদার কাজেম, পোড়ার বাজার কমিটির সভাপতি সাইদুল আলম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন। সভায় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যা তুলে ধরেন এবং সম্মিলিতভাবে নগরঘাটার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সম্পাদকীয়/ আইনি ফাঁকফোকর ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ছে বাল্যবিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ আইনি ফাঁকফোকর ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ছে বাল্যবিয়ে

উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ে হওয়ার ঘটনাটি আমাদের সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতাকে উন্মেচিত করেছে। উভয় পক্ষই অপ্রাপ্তবয়স্ক; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী এটি পরিষ্কার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ এফিডেভিটের দোহাই দিয়ে এবং প্রশাসনিক দায় ঠেলার অদ্ভুত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই বেআইনি কর্মকা-টি নির্বিঘেœ সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের ভূমিকা। থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) বলছেন, অন্য দপ্তর থেকে ‘আনুষ্ঠানিক সাহায্য’ না চাইলে তাদের কিছু করার থাকে না। আবার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কেবল ‘খবর পাঠানো’র মধ্যেই নিজ দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন। প্রশাসনিক এই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়েই মূলত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা এবং এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দায় চাপানোর মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আরেকটি আশঙ্কাজনক প্রবণতা হলো আদালতের এফিডেভিটকে বাল্যবিয়ে আইনি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। ভুয়া বয়স দেখিয়ে কিংবা জাল নথির ভিত্তিতে এফিডেভিট করে বাল্যবিয়ে বৈধ করার এই নোংরা কৌশল বন্ধে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হচ্ছে না। উপরন্তু, বিয়ে না দেওয়ার জন্য আগে থেকে নেওয়া ‘লিখিত অঙ্গীকারনামা’ অমান্য করেও মূল অপরাধীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলাজুড়ে গোপনে চলা বাল্যবিয়ের এই প্রথা বন্ধে অবিলম্বে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। শুধু খবর পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে মহিলা বিষয়ক দপ্তর ও থানা পুলিশকে যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। এফিডেভিটের নামে বেআইনি বিয়ে রেজিস্ট্রি করা কাজীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিয়েতে সম্পৃক্ত উভয় পক্ষের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনিক তদারকি জোরদার না হলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা কখনোই সম্ভব হবে না।
এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সরকার কি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, নাকি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে বাল্যবিয়ের এই কুপ্রথাকে প্রশ্রয় দিয়েই যাবে?