বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালিগঞ্জে শিশু ফারজানা হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার, জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে শিশু ফারজানা হত্যার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার, জেলা প্রশাসকের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ও কাশিবাটি গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে ফারজানা সুলতানা হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে একজনের নাম উল্লেখসহ অপ্সাতনামা তিন জনের বিরুদ্ধে বৃহষ্পতিবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

 

বৃহষ্পতিবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাওছার আজিজ নিহত ফারজানা সুলতানার বাড়িতে যেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ন্যায় বিচারের আশ^াস দিয়ে তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের ও বর্তমানে একই উপজেলার কলুরমেদে গ্রামের শেখ আব্দুল লতিফের ছেলে ও গনপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের ভাই।

এদিকে গণপিটুনিতে নিহত সুমাইয়া খাতুনের লাশ বুধবার রাত ১২টার দিকে কলুরমেদে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে পাশর্^বর্তী কবরস্থনে দাফন করা হয়।

মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়. ফারজানা সুলতানা ৬৯ নং কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। তার রোল নং-১। সম্প্রতি জন্মদিনে তার মা নাজমা খাতুন ২২ হাজার টাকা দিয়ে দুই আনা ওজনের একজোড়া সোনার দুল বানিয়ে দেন। বিদ্যালয়ের সামনে নিজ বাড়ি সংলগ্ন দোকানে ভাজা মুড়ি বিক্রি করতেন আমিনুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। কয়েকদিন ধরে ফারজানাকে বিনা টাকায় ঝালমুড়ি খাওয়াতো সুমাইয়া। গত সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় শ্রেণীকক্ষের মধ্যে টেবিলের ড্রয়ারের মধ্যে ব্যাগ রেখে বাইরে চলে যায় ফারজানা। সে কোন ক্লাসে হাজির ছিল না। দুপুর একটায় ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

 

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে অবহিত করে মাইকিং করা হয়। অন্যত্র অবস্থানকারি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তার বোন সুমাইয়া খাতুনকে মুঠোফোনে বাড়িতে ডেকে আনা হয় বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে। এ সময় পুলিশ তালা খুলে ওয়ালসোকেসের ভিতরে হাত ও পা বাঁধা ফারজানার লাশ উদ্ধার করে। সোয়া ছয়টার দিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে সুমাইয়াকে উঠানে ফেলে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ফারজানা ও সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার কওে পরদিন দুপুরে ময়না তদন্তের জন্য দুটি লাশ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কাশিবাটি টাইগার ক্লাব মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে ফারজানার লাশ দাফন করা হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বুধবার রাত ১২টার দিকে কুলির মেদে গ্রামের মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে পিতা লতিফ শেখের বাড়ির পাশে সুমাইয়ার লাশ দাফন করা হয়। বুধবার মামলা রেকর্ড হওয়ার পর বৃহষ্পতিবার ভোওে দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের নানা জেহের আলীর বাড়ির সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলায় কি কারণে ফারজানাকে হত্যা করার হলো তা উল্লেখ করা হয়নি।

গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার ভগ্নিপতি আমিরুল ইসলাম একজন জুয়াড়ি ও মাদকাসক্ত। সম্প্রতি তার বাবার কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে সে গোপালগঞ্জে চলে যায় কাজের জন্য। জুয়া খেলতে ও নেশার টাকা যোগাতে আমিরুল তার বোনকে দিয়ে অনেক টাকা ঋণ করিয়েছে। সোমবার সকালে সে বোন সুমাইয়ার বাড়িতে গিয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, ফারজানা নিখোঁজ হওয়ার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে একটি অচেনা মোবাইল নম্বার থেকে তার কাছে ফোন আসে। জানতে চাওয়া হয় সুমাইয়া ও ফারজানা তাদের বাড়িতে গেছে কিনা। তার বোনের কাছে কিছু জানার চেষ্টা না করে বা তাকে কিছু বলার সূযোগ না দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করায় অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেলো। উপরন্তু তাকেও এ মামলায় জড়ানো হলো। সে তার বোন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করে বলে, ফারজানা হত্যার আসল ঘটনা চাপা দিতে তার বোনকে নির্মমভাবে ইট দিয়ে থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম জানান, প্রকৃতপক্ষে ফারজানা হত্যার ব্যাপারে তারা এখনো অন্ধকারে। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম জানান, সুমাইয়া খাতুনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বৃহষ্পতিবার বিকেল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে ফারজানা হত্যার ঘটনায় তার মা নাজমা খাতুন বাদি হয়ে বুধবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 

Ads small one

প্রসঙ্গ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬

নিকোলাস বিশ্বাস

আজ ২৫ জুলাই ২০২৬। বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সাম্প্রতিক সিসিটিভি ভিডিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ছোট শিশু একটি পুকুরে ডুবন্ত অবস্থায় বাঁচার জন্য প্রাণপণ লড়াই করছে। অপরদিকে, আরেকটি শিশু ঐ পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো চিৎকার করছে এবং মরিয়া হয়ে পানিতে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে বন্ধুকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আশে-পাশে বাড়িঘর থাকলেও কেউ সেই আর্তনাদ শুনতে পায়নি। অবশেষে পাশের একটি বাড়ি থেকে একজন ব্যক্তি বেরিয়ে এসে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। কিন্তু শিশুটির শেষ পরিণতি কি হয়েছিল, তা ভিডিওটিতে আর জানা যায়নি।

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বাংলাদেশের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়, অথচ অধিকাংশ ঘটনাই সংবাদ শিরোনামে আসে না। কিন্তু প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে থাকে একটি পরিবারের বেদনা। বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হওয়া সত্ত্বেও পানিতে ডুবে মৃত্যু এখনো সবচেয়ে অবহেলিত জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। সংক্রামক রোগ, অপুষ্টি কিংবা সড়ক দুর্ঘটনা জনস্বাস্থ্য আলোচনায় প্রাধান্য পেলেও পানিতে ডুবে মৃত্যু রয়ে যায় আড়ালে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এটি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, আমাদের দেশে প্রতিবছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়, যার বড় একটি অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। এসব মৃত্যুর সর্বোচ্চ হার বরিশাল অঞ্চলে। অসংখ্য নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাভূমি এবং মৌসুমি বন্যাপ্রবণ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। বিশ্বব্যাপী পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশই ঘটে নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। জলবায়ূ পরিবর্তনের কারণে এই ঝূঁকি আরো বেড়েছে।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য বিষয়: এই দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য বিষয় বেছে নেওয়া হয়। এবারের বিষয় হল: আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর গ্রোত থামাই। এটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য নয়; বরং পানির সঙ্গে আমাদের সহাবস্থানকে আরও নিরাপদ, সচেতন ও দায়িত্বশীল করে তোলার একটি বৈশ্বিক আহ্বান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত বিশ্বব্যাপী এ প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণ করে আসুন আমরা প্রতিরোধযোগ্য পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করি এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ভূমিকার পালন করি।

বাংলাদেশ নদী, খাল, বিল, হাওর ও পুকুরে সমৃদ্ধ একটি জলভূমির দেশ। পানি আমাদের জীবন, জীবিকা, কৃষি, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের অভাবে এই জীবনদায়ী পানিই মুহূর্তের মধ্যে একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক ও বেদনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিদিনের নীরব ঝুঁকি: জাতীয় গবেষণায় দেখা গেছে, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। গ্রামীণ এলাকায় অধিকাংশ ঘটনা ঘটে বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই থাকা পুকুর, ডোবা কিংবা জলাশয়ে। অর্থাৎ বিপদ দূরে নয়, পরিবারের কাছেই ওত পেতে থাকে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। কারণ এ সময় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বাড়ির আঙিনা, রাস্তা ও মাঠ সাময়িক জলাশয়ে পরিণত হয়। অল্প সময়ের জন্যও কোনো ছোট শিশু নজরদারির বাইরে চলে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপূরণীয় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ সময়টায় সবাইকে বিশেষভাবে সর্তক থাকতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার সময়টি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ সময় অভিভাবকরা সাধারণতঃ গৃহস্থালি বা কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে ছোট শিশুরা অরক্ষিত থেকে যায়। মাত্র দুই বা তিন মিনিটের অসতর্কতা একটি পরিবারের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে যা তাদের জন্য নিয়ে আসতে পারে গভীর শোক আর কান্না।

পানিতে ডুবে মৃত্যুর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক হলো এর নীরবতা। সিনেমায় যেমন দেখা যায়, বাস্তবে পানিতে ডুবে যাওয়া মানুষ-বিশেষ করে শিশুরা – সাধারণতঃ হাত নেড়ে বা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। আশে-পাশের মানুষের অজান্তেই তারা নীরবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানিতে ডুবে মৃত্যুকে “নীরব কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য জনস্বাস্থ্য সংকট” হিসেবে অভিহিত করেছে। এজন্য সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।

২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে সারা বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বন্যা ও জলাবদ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে। তাই পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে কেবল মৌসুমি উদ্যোগ নয়, জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারে পরিণত করা উচিৎ।

বাংলাদেশে অধিকাংশ শিশু পানিতে ডুবে মারা যায় দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ পরিস্থিতিতে। বাড়ির পাশের পুকুর, রাস্তার ধারের ডোবা কিংবা বৃষ্টির পানিতে ভরা গর্ত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হয়। এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুরা স্বভাবতই কৌতূহলী ও চলাফেরায় সক্রিয় হলেও তারা বিপদের মাত্রা বুঝতে পারে না। এ সময় রান্না, কাপড় ধোয়া বা অন্য কোনো কাজে সামান্য ব্যস্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকের অজান্তেই শিশুটি ঝুঁকির মুখে পড়ে যা পরিবার ও সমাজের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যও এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বের বৃহত্তম নদীবাহিত দেশগুলোর একটি হওয়ায় এখানে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল ও জলাশয় রয়েছে। বর্ষাকালে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও ঘনঘন বন্যা চারপাশে নতুন নতুন ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় সৃষ্টি করে ও বিপদ ডেকে আনে। চলতি বছরের প্রবল বৃষ্টিপাত এ বিপদকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে।

প্রতিরোধই একমাত্র সমাধান: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, সহজ ও লক্ষ্যভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য নি¤েœ উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর দৃষ্টিপাত করা অতীব জরুরি:

১. ছোট শিশুদের কখনোই পানির কাছাকাছি একা না রাখা।
২. বাড়ির আশপাশের পুকুর ও ডোবার চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা বা বেড়া নির্মাণ করা।
৩. দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক ডে-কেয়ার কেন্দ্র স্থাপন করা।
৪. বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে সাঁতার শিক্ষা ও পানি নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্ধারকৌশল ও কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে, এসব উদ্যোগ কার্যকর। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে পরিচালিত আঁচল (কমিউনিটি শিশুযতœ মডেল) এবং সুইমসেইফ (ঝরিসঝধভব) কর্মসূচি শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সফল হয়েছে। সমাধান আমাদের জানা আছে; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং দেশব্যাপী কার্যকর বাস্তবায়ন। গবেষণালব্ধ ফলাফল গুরুত্বের সাথে কাজে লাগানো উচিৎ।

পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-এই চারটি সরকারি খাতের সমন্বিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে কাঙ্খিত ফল আসবে না।

সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ: বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; এটি হতে হবে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তনের সূচনা। বাংলাদেশকে এ খাতে সরকারি বিনিয়োগ, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিটি শিশু একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ- একজন সম্ভাব্য শিক্ষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা জাতীয় নেতা-যার স্বপ্ন অকালেই নিভে যায়।

পানিতে ডুবে কোনো শিশুর মৃত্যু কখনোই কাম্য হতে না। সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ, নিরাপত্তা শিক্ষা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারে এবং এই নীরব সংকট তথা পানিতে ডুবে মৃত্যুর অবসান ঘটাতে সক্ষম হবে। প্রতিটি শিশুর জীবনই অমূল্য, কোনো অবস্থাতেই সেই জীবনের মূল্য উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

লেখক: একজন ডেভেলপমেন্ট প্রাক্টিশনার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত

 

আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস: নিজের যতœ, সুস্থ জীবন

সাকিবুর রহমান বাবলা

মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো সুস্বাস্থ্য। সুস্থ শরীর, স্থিতিশীল মন এবং সুষম জীবনযাপন একজন মানুষকে কর্মক্ষম, উৎপাদনশীল ও সুখী করে তোলে। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তিনির্ভরতা, মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। এ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছর ২৪ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবস।

দিবসটির সূচনা করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেলফ-কেয়ার ফাউন্ডেশন। ২৪ জুলাই বা ২৪/৭ তারিখটি প্রতীকীভাবে নির্দেশ করে যে সুস্থতা রক্ষায় দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহের ৭ দিনই নিজের যতœ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত পালিত ‘সেলফ-কেয়ার মান্থ’-এর সমাপনী দিন হিসেবেও দিবসটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এর মূল লক্ষ্য হলো মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করা এবং দৈনন্দিন জীবনে এমন অভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত করা, যা সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

আত্ম-যতেœর ধারণা আধুনিক বিশ্বের সৃষ্টি নয়; এর শিকড় মানবসভ্যতার বহু পুরোনো ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সমাজে সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নানা পদ্ধতি ও রেওয়াজ গড়ে উঠেছে। জাপানের ‘ইকিগাই’ দর্শন জীবনের উদ্দেশ্য ও আনন্দ খুঁজে পাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়, আর ‘শিনরিন-ইয়োকু’ বা বনভ্রমণ মানসিক প্রশান্তির একটি স্বীকৃত চর্চা। চীনের ঐতিহ্যবাহী ‘ইয়ান শেং’ দর্শনে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ভেষজ উপাদান এবং ‘তাই চি’র মতো ধীরগতির ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়। দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ সমাজেও ভোরের স্নিগ্ধ আলোয় হাঁটা, সুষম ও দেশীয় প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান গ্রহণ, ঋতুভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস এবং সামাজিক মেলবন্ধনের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত, যা আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ভেতর দিয়েই আত্ম-যতেœর এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তোলে।

দর্শনশাস্ত্রেও আত্ম-যতœ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাচীন গ্রিক ও স্টোইক চিন্তাবিদরা মনে করতেন, মানুষের প্রকৃত উন্নতি নির্ভর করে তার আত্মনিয়ন্ত্রণ, চিন্তা, আচরণ ও অভ্যাসের ওপর। পরবর্তীকালে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ‘কেয়ার অব দ্য সেলফ’ ধারণাকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করে দেখান যে আত্ম-যতœ কেবল শরীরের পরিচর্যা নয়; এটি আত্মসচেতনতা, আত্মসমালোচনা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের একটি চলমান প্রক্রিয়া।

পৃথিবীর ধর্মীয় ঐতিহ্যগুলোতেও শরীর ও মনকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, পরিমিত আহার, বিশ্রাম, আত্মসংযম, মানসিক প্রশান্তি এবং মানবকল্যাণ-এসব বিষয় বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। ফলে আত্ম-যতœ কেবল স্বাস্থ্যগত নয়, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত একটি ধারণা।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আত্ম-যতœকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য এবং মানসিক সুস্থতার চর্চা অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অন্যদিকে নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও মানসিক সুস্থতা উন্নত করে। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও কর্মজীবীদের মাঝে প্রযুক্তিগত অতিরিক্ত আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সচেতন মানসিক বিরতি অত্যন্ত জরুরি।

আত্ম-প্রভাব কার্যকর ভিত্তি গড়ে ওঠে কয়েকটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের ওপর। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, ডিজিটাল মাধ্যমের অতিনির্ভরতা কমানো এবং পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখাÑএসবই আত্ম-যতেœর অংশ। একই সঙ্গে বই পড়া, সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়া, ব্যক্তিগত শখ চর্চা এবং নিজের জন্য কিছু নিরিবিলি সময় রাখা মানসিক সুস্থতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দৈনন্দিন রুটিন থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট নিজের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণে ব্যয় করার ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে আমাদের সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে পারে।

আজকের বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, কর্মব্যস্ত জীবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার মধ্যে আন্তর্জাতিক আত্ম-যতœ দিবসের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সুস্থতা কেবল রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং এটি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণের একটি সমন্বিত অবস্থা। তাই নিজের যতœ নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি সচেতন দায়িত্ব। ব্যক্তি পর্যায়ে আত্ম-যতেœর সংস্কৃতি গড়ে উঠলে পরিবার হবে আরও সুস্থ, সমাজ হবে আরও মানবিক এবং জাতি হবে আরও কর্মক্ষম ও সমৃদ্ধ।

 

 

এমপির অনৈতিক কা-ে ক্ষোভ: দুধ ঢেলে জামায়াতের রাজনীতির বিদায় নিলেন স্থানীয় নেতা দেলোয়ার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
এমপির অনৈতিক কা-ে ক্ষোভ: দুধ ঢেলে জামায়াতের রাজনীতির বিদায় নিলেন স্থানীয় নেতা দেলোয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন এক স্থানীয় জামায়াতকর্মী। কেবল পদত্যাগই নয়, আর কোনো দিন রাজনীতি না করার শপথ নিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিণাগাড়ী গ্রামের ‘দিবাসীর মোড়’ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, হরিণাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো: মুনসুর সরদারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন এতদিন জামায়াতে ইসলামীর নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল মাল (অর্থ) সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকায় দলের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনের সময় মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

 

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকা- ও অপকর্মের সংবাদ সামনে আসার পর পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও দেলোয়ার হোসেন প্রচ- মানসিক কষ্টে ভোগেন। এরই প্রেক্ষিতে হরিণাগাড়ী গ্রামের দিবাসীর মোড়ে তিনি প্রকাশ্যে আনুমানিক এক মণ দুধ ঢেলে গোসল করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সব পদ থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেকজন বাসিন্দা জানান, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম যে একটি অনৈতিক কাজ এবং অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়েছে এটা প্রমাণিত হয়ে দল ইতিমধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছে। এই অঞ্চলের মানুষ সবাই মর্মাহত এবং আমরা এটাকে ধিক্কার জানাই এবং নিন্দা জানাই। পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামকে এমপি হিসেবে তাকে দেখতে চাই না। তাকে দ্রুত পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।

দুধ দিয়ে গোসলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই দলটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। কিন্তু সাতক্ষীরা-৪ আসনের রাজনৈতিক নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের কারণে চরম হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। তাই দল ছেড়ে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আর কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না বা কোনো দলকে সমর্থন করব না। এটি নিশ্চিত করতেই আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে মুক্ত করলাম।

এলাকাবাসীর একাংশ ওই জামায়াত নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।

এদিকে, দেলোয়ার হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শোনা যায়, আমার জানা মতে, আমাদের কমিটির ৬-৭ জনের মধ্যে উনি একজন ছিলেন। তবে উনি সত্যিই বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন কি না, তা আমার সঠিক জানা নেই।

এদিকে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার এই ঘটনাটি এখন শ্যামনগর উপজেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।