কালিগঞ্জে স্কুলছাত্রী ফারজানা হত্যা: রিমান্ড শেষে মামুন কারাগারে
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা সুলতানা (৯) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রিমান্ড শেষে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আসামিকে আমলি আদালত-২-এর মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৩) কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিবাটি গ্রামের মো. লতিফ শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও কাস্টমস-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ জুলাই সকালে কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু ফারজানা। ওই দিন রাতে বিদ্যালয়ের সামনের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়া বেগমের (২৫) ঘরের আলমারির ভিতর থেকে শিশুটির হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সুমাইয়ার বাড়িতে হামলা চালায় এবং পুলিশি হেফাজত থেকে সুমাইয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
পরবর্তী সময়ে ফারজানার মা নাজমা খাতুন বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যাতে নিহত সুমাইয়ার ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করা হয়। ২৩ জুলাই দেবহাটার সুবর্ণাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতের নির্দেশে তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, রিমান্ডে মামুনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। সাতক্ষীরা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মঈনউদ্দিন আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা লতিফ শেখ ২৬ জুলাই আদালতের মাধ্যমে আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এর আগে একটি প্রভাবশালী মহল ও পুলিশের বাধার মুখে সুমাইয়ার লাশ হস্তান্তরে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে।












