কেশবপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ
এম. আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার প্রদত্ত কয়েক মণ পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর উপজেলার এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর কাছে এই বইগুলো বিক্রি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র ওইদিন সকালে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রায় ৫ থেকে ৭ মণ সরকারি বই বিক্রি করে দেন। এসব বইয়ের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠেছে, সরকারের দেওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষের এতগুলো বই অবিক্রীত অবস্থায় কেন বিদ্যালয়ে ছিল? এটি কি কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে নেওয়া হয়েছিল, নাকি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুরনো বই ফেরত নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে—এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বই বিক্রির বিষয়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, কিছু পুরনো বইয়ের পাশাপাশি খাতা বিক্রি করা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি বিধি মেনেই তিন সদস্যের বিক্রয় কমিটি গঠন করে বইগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এখানে অনৈতিক কিছু করা হয়নি। এর আগেও একবার সাংবাদিকরা এসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে কোনো সমস্যা খুঁজে পাননি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন, “যদি বইয়ের পরিমাণ কম হয়, তবে প্রধান শিক্ষক নিজেই ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে পরিমাণের চেয়ে বেশি হলে নিয়ম অনুযায়ী তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তা বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি বই এভাবে ভাঙারি দোকানে বিক্রি না করে তা অন্য কোনো উপায়ে সংরক্ষণ বা সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।








