শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের দেশে ফেরার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের দেশে ফেরার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন নীতির আওতায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অধিকাংশ অভিবাসীকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন সম্পন্ন করতে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। ফলে দেশটিতে বৈধভাবে থাকা হাজারো শিক্ষার্থী, কর্মী, পর্যটক এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বেড়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব পড়তে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) নতুন একটি নির্দেশনা জারি করে। সেখানে বলা হয়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হবে।

গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোর মধ্যে শুক্রবার (২২ মে)-এর এই নীতি পরিবর্তনটি সর্বশেষ।

ইউএসসিআইএস একটি নীতি স্মারকলিপিতে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন আছে কিনা তা নির্ধারণ করার সময় প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বিষয় এবং তথ্য বিবেচনা করতে হবে।

“যে বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে আছেন এবং গ্রিন কার্ড চান, তাকে আবেদন করার জন্য অবশ্যই তার নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে,” বলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, যা ইউএসসিআইএস-এর তত্ত্বাবধান করে।

এতে আরো বলা হয়, এই নীতিটি আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ করতে সাহায্য করবে, কোনো ফাঁকফোকরকে উৎসাহিত করবে না।

ইউএসসিআইএস বলেছে যে, নতুন নীতিটি সংস্থার সম্পদকে অন্যান্য মামলা প্রক্রিয়াকরণে মনোনিবেশ করার জন্য মুক্ত করবে।

শরণার্থীসহ অন্যান্য অভিবাসী গোষ্ঠীকে পরিষেবা প্রদানকারী একটি সাহায্য সংস্থা, এইচআইএএস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রদানকারী গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের আবেদন প্রক্রিয়া করার উদ্দেশ্যে ইউএসসিআইএস মানব পাচারের শিকার এবং নির্যাতিত ও অবহেলিত শিশুদেরকে তাদের পালিয়ে আসা বিপজ্জনক দেশগুলিতে ফিরে যেতে বাধ্য করছে।

গত বছর, ট্রাম্প প্রশাসন ছাত্র, সাংস্কৃতিক বিনিময় পরিদর্শক এবং গণমাধ্যমের সদস্যদের জন্য ভিসার মেয়াদ কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছিল।

জানুয়ারিতে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করে যে, ট্রাম্প আগের বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কিউবার গুয়াইয়েসা নামক জঙ্গি সংগঠনের নির্বাহী সভাপতির বোন আদিসলা এস্ত্রেলা মোরেইরাকে গ্রেপ্তার করেছে।

এতদিন অনেক অভিবাসী “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতির আবেদন করতে পারতেন। নতুন নীতির ফলে অধিকাংশ আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ছাত্র ভিসাধারী, অস্থায়ী কর্মী এবং মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করা অভিবাসীদের ওপর। কারণ আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য দেশ ছাড়ার পর অনেকেরই পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ জটিল হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কড়াকড়ি রয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যক্তি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে অনেক ক্ষেত্রে ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন।

সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেছেন, এই নীতি প্রতি বছর লাখো পরিবার ও নিয়োগদাতার পরিকল্পনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তার মতে, “যারা নিয়ম মেনে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছেন, তাদের জন্যও এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।”

বাইডেন প্রশাসনের সময় ইউএসসিআইএসে কর্মরত সাবেক কর্মকর্তা ডগ র‍্যান্ড বলেন, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ায় গ্রিন কার্ড পান। নতুন পরিবর্তনের ফলে এসব আবেদনকারীর বিশাল অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের মূল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে এবং বিভিন্ন “ফাঁকফোকর” ব্যবহারের সুযোগ কমে আসবে।

ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কেউ যদি গ্রিন কার্ড চান, তবে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া তাকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে।”

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাধারী, শরণার্থী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীরা আগের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বৈধ অভিবাসন আরও সীমিত করার বৃহত্তর নীতির অংশ। নতুন নির্দেশনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ads small one

প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: বেতনা নদীর ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে বুধহাটা বাজার

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র বুধহাটা বাজারটি বেতনা নদীর তীব্র ভাঙনে এখন বিলীনের পথে। দুই শতাব্দীর পুরোনো এই গ্রামীণ মোকামটিতে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পণ্য কেনাবেচা হয়, যার ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভর করে আছেন অঞ্চলের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে শুক্রবারের হাটে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর হাট বসে। অথচ বেতনা নদীর প্রবল স্রোতের তোড়ে বাজার সংলগ্ন প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে, যা পুরো বাজারটিকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন করার কারণেই এই ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। নদীর মাঝখানের পলি অপসারণ না করে ভাঙনকবলিত পাড়ের খুব কাছ দিয়ে খনন করার ফলে স্রোতের গতিপথ এখন বাজারের দিকে ঘুরে গেছে। গত কয়েক দিনে বাজার সংলগ্ন এলাকার ২৫ থেকে ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যার ফলে বাজারের অন্তত পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমনকি সম্প্রতি খেয়া পারাপারের সময় পাড় ধসে শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী নদীতে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিলেও জানিয়েছেন যে, বুধহাটা এলাকার ভাঙন রোধে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার করতে হলে নতুন প্রকল্পের প্রয়োজন। আমরা মনে করি, দুইশত বছরের একটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষায় শুধু সাময়িক বা জোড়াতালির মেরামত কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দেবে না। জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি সেখানে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা অপরিহার্য।

একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল এভাবে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ধস নামবে এবং বহু ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। তাই কালক্ষেপণ না করে সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের কাছে আমাদের দাবিÑবুধহাটা বাজার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমাল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন দ্রুত একটি স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ এবং তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে।

শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রাম পুলিশদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বেসরকারী সংগঠন রুপান্তরের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গ্রাম পুলিশ ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের বর্জ্য ও স্যানিটেশন সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

রুপান্তরের গোফরইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় শ্যামনগর অফিসার্স ক্লাব হল রুমে সুইজারল্যান্ড, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও সুইসকনট্যাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ প্রশিক্ষণে উপজেলার আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউপির গ্রাম পুলিশ এবং নওয়াবেঁকী বাজার, গড়কুমারপুর বাজার, চাঁদনীমুখা বাজার ও কলবাড়ী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য অংশ গ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে সম্মানিত অতিথি ছিলেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের কোয়ার্ডিনেটর সাব ডিস্ট্রিক লিয়াজো মো. আলম চৌধুরীসহ রুপান্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে নিরাপদ ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ণ
ছয় দিনেও মেরামত হয়নি বেত্রবতীর সাঁকো, নৌকাই ভরসা

কলারোয়া প্রতিনিধি: পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও কলারোয়া পৌর শহরের কাঁচাবাজার সংলগ্ন বেত্রবতী নদীর কাঠের সাঁকোটি সচল করা হয়নি। ফলে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষকে এখন খেয়া নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীসহ সাধারণ পথচারীরা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ভেঙে পড়া সাঁকোর অবশিষ্টাংশ নদীর দুই পাড়ে পড়ে আছে। নদীতে এখন আর আগের মতো তীব্র স্রোত বা পানির চাপ নেই, পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। তবুও সাঁকোটি অস্থায়ীভাবে সচল করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বাধ্য হয়ে মানুষ নৌকায় পারাপার হচ্ছেন। সকাল ও বিকেলে পারাপারের সময় নৌকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। দুই পাড়ে কোনো সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চরম ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কাঠের সাঁকোটি কলারোয়া কাঁচাবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতারা জানান, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেছে, যার ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবল স্রোতের কারণে কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলেও বর্তমানে নদী শান্ত রয়েছে। এরপরও মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষায় সাঁকোটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থ ব্যয় করে সংস্কার করা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয় না। এখন সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণই সময়ের দাবি। ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।