সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধেও ভাঙন, অস্তিত্ব সংকটে জালালপুরের কয়েকটি গ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধেও ভাঙন, অস্তিত্ব সংকটে জালালপুরের কয়েকটি গ্রাম

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদের অব্যহত বেড়িবাঁধ ভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে জালালপুর ইউনিয়নের কয়েকটি জনপদ। অবিলম্বে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের নতুন করে আশ্রয়হীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সোমবার সকালে তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার, জহুরুল গাজীর ইটভাটা, মালোপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় যেয়ে দেখা গেছে, জেঠুয়া বাজার থেকে কপিলমুনিমুখি কপোতাক্ষ নদের পূর্ব পাশের মালোপাড়া মহাশ্মশান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের দেড় কিলোমিটারের বেশি ভাঙনের কবলে। তিনটি স্থানে ৮০ থেকে ১০০ ফুট করে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানির সঙ্গে কচুরিপানা বিলের মধ্যে ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে এক থেকে দেড় হাত বেড়িবাঁধ দেখা যাচ্ছে। মালোপাড়ার মধ্যে ১৯৯৬ সালে সৃষ্ট নতুন নদ এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। বেড়িবাঁধের পাশে জেঠুয়া মহাশ্মশান।

জানতে চাইলে মালোপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষক দীলিপ কুমার অধিকারী বলেন, ১৯৮০ সালের পরবর্তী হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামল থেকে কপোতাক্ষ নদের পূর্ব পাশে জেঠুয়া বাজার থেকে মহাশ্মশান পর্যন্ত কয়েকবারের ভাঙন তিনি দেখেছেন। এ পর্যন্ত বাপ কাকাদের ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে পাঁচ বার বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একপর্যায়ে ঢাকায় চলে যান তিনি। সেখানেই পাড়াশুনা শেষে শিক্ষকতার চাকুরি। নাড়ির টানে জন্মভিটার কথা মনে পড়তেই মাঝে মাঝে ছুঁটে আসেন মালোপাড়ায়। সর্বশেষে আবারো পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। বানাচ্ছেন একটি সার্বজনীন মন্দির।

খর¯্রােতার কারণে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদের দুই পারের লক্ষাধিক বাসিন্দাদের বছরে সাত থেকে আট মাস জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে জীবনযাপন করতে হতো। ১৯৯৬ সালে তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার থেকে জেঠুয়া মহাশ্মশান পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙনে কপোতাক্ষ নদ মালোপাড়া, ঠাকুরপাড়া, পালপাড়া, বেনেপাড়া, পরামানিকপাড়া ও ঘোষপাড়ার মালিকানা জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

 

এতে ওইসব এলাকার তিন হাজার বিঘার বেশি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চার শতাধিক পরিবার পেশা পরিবর্তণ করে সাতক্ষীরা শহর, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে। মূল নদের ভাঙন কবলিত স্থান সংস্কার করা হলেও মালোপাড়ায় আগ্রাসনের চিহ্ন আজো বিদ্যমান। ফলে পরিবর্তিত হয়েছে মানচিত্র। অপরদিকে জেঠুয়ার বিপরীতে কপোতাক্ষের অপর পার খুলনার পাইাকগাছার হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের নতুন করে চর জেগে বাড়ছে বাবলা বাগান। ২০১০ সাল থেকে পাঁচ রছর মেয়াদী কপোতাক্ষ খনন হওয়ায় তালাবাসি জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়। এরপরও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জেঠুয়া বাজার থেকে জেঠুয়া মহাশ্মশান পর্যন্ত বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাঁটল শুরু হয়। এক সপ্তাহ আগে জেঠুয়া বাজার সংলগ্ন হাজির ভাটার পাশে তিনটি স্থানে ৪০ থেকে ৫০ ফুট করে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারভাটা অব্যহত রয়েছে।

 

আরো কয়েকটি স্থানের বাঁধ এক থেকে দেড় হাতের মত চিকন হয়ে গেছে। জোয়ারের তীব্রতা বাড়লে যে কোন মুহুর্তে ওইসব দুর্বল বাঁধ ভেঙে জেঠুয়া, শ্রীমন্তকাটি, কানাইদিয়া, নেহালপুর, কৃষ্ণকাটিসহ সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার বিঘার আমন ধানের খেত, সবজি খেত, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ার আশাঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আক্ষেপের সঙ্গে দীলিপ অধিকারী আরো বলেন, তার এলাকায় এক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে শিক্ষার হার কম থাকায় নদী গর্ভে হারানো মালিকানা জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে অন্যরা ডিসিআর নিলেও তারা ওই জমি উদ্ধারে কোন মামলা করেননি। সরকারীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের জন্য কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। নদী ভাঙনে এলাকার মানচিত্র পরিবর্তণ হয়ে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ তাদের নয়। তাই সংস্কারের দায়িত্বও তাদের এখতিয়ারে পড়ে না। তাহলে ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজনকে রক্ষার দায়িত্ব কার?

মালোপাড়ার সুরতী রানী ঘোষ বলেন, স্বামী ও শ^শুরদের ২০ বিঘার বেশি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তিন তিন বার বাড়ি বানিয়ে তা ছাড়তে হয়েছে। কোন প্রকারে ছাপড়া ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে তার উল্লেখ করে সুরতী রানী বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন কোন রকমে। ছেলে বিশ^নাথ ঘোষ পেটের দায়ে এলাকা ছেড়ে খুলনার একটি মিষ্টির দোকনে কাজ করে। তাদের এ কষ্ট দেখার কেউ নেই।

ঘোষপাড়ার সুকুমার ঘোষ বলেন, তার ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমির জন্য কোন সরকারি অনুদান পাননি। ভৌগলিক কারণে তারাও রয়েছেন অস্তিত্ব সঙ্কটে। একইভাবে ঠাকুরপাড়ার রবীন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, তার ও তার পূর্ব পুরুষদের ১৮ বিঘা জমি কপোতাক্ষ গ্রাস করেছে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা ঢাকায় চলে গেছে কর্মসংস্থানের জন্য। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া কার্তিক পরামানিক, অরুণ দত্তসহ কয়েকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত অথচ জমির মালিকানা বহির্ভুত লোকদের ডিসিআর না দিয়ে মালিকদের ডিসিআর দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে বেড়িবাঁধ সংস্কার না করা হলে এই এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আমন ধানের খেত, সবজি খেত, মাছের ঘের ও বাড়িঘর ভেসে যেতে পারে। তাই দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও সাতক্ষীরা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, জেঠুয়ার ভাঙন কবলিত এলাকায় তাদের কোন বেড়ি বাঁধ নেই। এরপরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমতি না পাওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

Ads small one

চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

মিলন বিশ্বাস: জ্যোৎস্নামাখা রাত। নীরব আকাশের নিচে চারদিকে সুরের আবেশ। কখনো প্রেম, কখনো বিরহ, কখনো পুরোনো দিনের স্মৃতির মায়া-কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে একের পর এক কালজয়ী গান যেন ছুঁয়ে যায় শ্রোতাদের হৃদয়। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্যে শনিবার রাতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ হয়ে ওঠে এক মায়াবী সংগীতমঞ্চ।

২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দক্ষিণ পাশের ছাদে ‘আলোর ইশকুল-চৈতন্যের আলোকযাত্রা’র বিশেষ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় কণ্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জির একক সংগীত সন্ধ্যা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দের আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এই সংগীতের আয়োজন।

তিন ঘণ্টার এই সুরেলা সন্ধ্যায় চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে প্রাণ পায় বাংলা গানের বহু জনপ্রিয় ও কালজয়ী গান। ‘এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়’, ‘এ শুধু গানের দিন’, ‘এ লগন গান শোনাবার’, ‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’, ‘মরমী গো, আজি মনের কথাটি বলোনা’, ‘আর দেখো না সেই মধু নামে’, ‘এই মন জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে’ এবং ‘অলিরও কথা শুনে বকুল হাসে’-এমন সব গানে ভরে ওঠে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদ।

এরপর একে একে পরিবেশন করেন ‘আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা’, ‘তারা ঝিলমিল স্বপ্ন মিছিল’, ‘তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’, ‘যদি কাগজে লেখ নাম মুছে যাবে’, ‘নদীর যেমন ঝরনা আছে, আমার আছে তুমি’ এবং ‘আমার সন্ধ্যায় প্রান্ত পাখিরা’সহ আরও বেশ কিছু জনপ্রিয় গান।

চৈতালীর কণ্ঠে কখনো ছিল নরম প্রেমের আবেশ, কখনো বিরহের বিষণœতা, আবার কখনো ছিল পুরোনো দিনের স্মৃতিমেদুরতা। গানের সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের আবেগ আর জ্যোৎস্নামাখা রাতের পরিবেশ মিলে তৈরি করে এক অনন্য অনুভূতি। উপস্থিত শ্রোতারা গভীর মনোযোগে উপভোগ করেন প্রতিটি পরিবেশনা। গান শেষে করতালি আর ভালোবাসায় শিল্পীকে অভিবাদন জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন অঙ্গনের গুণীজনসহ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে সংগীতসন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণময়।

চৈতালী মুখার্জির সংগীত পরিবেশনে মুগ্ধ হয়ে অবসরপ্রাপ্ত সচিব, লেখক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আলী খান শিল্পীর হাতে তাঁর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ এবং তাঁর নিজের লেখা ‘৫০১ টাকা ও অন্যান্য গল্প’-এই দুটি বই উপহার দেন। সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও শিল্পীর পরিবেশনার প্রতি সম্মান হিসেবে দেওয়া এই উপহার মুহূর্তটি অনুষ্ঠানে ভিন্ন আবেগের জন্ম দেয়।

অনুষ্ঠান শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে চৈতালী মুখার্জি বলেন, “এটি আমার সংগীত জীবনের একটি বড় অর্জন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটি জায়গায় একক সংগীত অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এমন একটি আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননশীলতার চর্চার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে। ‘আলোকিত মানুষ চাই’-এই দর্শনকে ধারণ করে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির আঙিনায় সংগীতের এমন আয়োজন যেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেই আলোর সঙ্গে সুরেরও এক সুন্দর সংযোগ তৈরি করে।

রাত যত গভীর হয়েছে, আকাশের জ্যোৎস্না ততই মিশে গেছে চৈতালীর কণ্ঠের সুরে। তিন ঘণ্টার পরিবেশনা শেষে অনুষ্ঠান শেষ হলেও শ্রোতাদের মনে থেকে যায় গানের রেশ। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ছাদে সেই রাত যেন হয়ে ওঠে এমন এক স্মরণীয় সন্ধ্যা-যেখানে জ্যোৎস্নার সঙ্গে মিশে ছিল সুর, আর সুরের সঙ্গে মিশে ছিল চৈতালীর কণ্ঠের মায়া।

সাতক্ষীরা জেলা ডিবি কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা ডিবি কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয় বার্ষিক পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কার্যালয়ে এলে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ডিবি কার্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক রেজিস্টার, নথিপত্র ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে দাপ্তরিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পাটকেলঘাটার স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান: ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটার স্বাগতা ক্লিনিকে সিভিল সার্জনের অভিযান: ওটি ও প্যাথলজি সিলগালা

শাহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় অবস্থিত স্বাগতা ক্লিনিকে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্যাথলজিস্ট না থাকা, অপারেশন থিয়েটারে অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্স না থাকাসহ নানা অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
অভিযানে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান, মেডিকেল অফিসার (সিএস) ইসমত জাহান সুমনা এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী আশিক নেওয়াজ।

অভিযানের সময় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা দেখতে পান, ক্লিনিকটির হালনাগাদ কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এমনকি সরেজমিনে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক বা ডিপ্লোমাধারী নার্সকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, ক্লিনিকটির ল্যাবে কোনো অনুমোদিত প্যাথলজি টেকনিশিয়ান ছিলেন না। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ভেতরের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। ওটি রুমের নির্দিষ্ট পরিমাপ ছিল না, ছিল না কোনো অ্যানাস্থেসিয়া। নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের সময় প্রধান চিকিৎসকের সঙ্গে একজন সহকারী চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও সেখানে নন-মেডিকেল কর্মীদের দিয়ে অপারেশনের কাজ চালানো হতো।

অস্ত্রোপচার পরবর্তী নবজাতক বা রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার কোনো আলাদা কক্ষ ছিল না এবং ওটি রেজিস্টারও মেইনটেইন করা হতো না। এমনকি অপারেশনের পর রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিতে চিকিৎসকের কোনো স্বাক্ষর পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

এসব কারনে ক্লিনিকের প্যাথলজি ও অপারেশন থিয়েটারের যাবতীয় কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এখন থেকে ওই ক্লিনিকে কেবল বহির্বিভাগের (আউটডোর) রোগী দেখা ছাড়া অন্য সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম জানান, ক্লিনিকটিতে স্বাস্থ্যসেবার নামে রোগীদের সাথে চরম প্রতারণা ও জীবনঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি। রোগীদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে ক্লিনিকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসিকে) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।