সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধেও ভাঙন, অস্তিত্ব সংকটে জালালপুরের কয়েকটি গ্রাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
তালায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধেও ভাঙন, অস্তিত্ব সংকটে জালালপুরের কয়েকটি গ্রাম

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদের অব্যহত বেড়িবাঁধ ভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে জালালপুর ইউনিয়নের কয়েকটি জনপদ। অবিলম্বে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের নতুন করে আশ্রয়হীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে সোমবার সকালে তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার, জহুরুল গাজীর ইটভাটা, মালোপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় যেয়ে দেখা গেছে, জেঠুয়া বাজার থেকে কপিলমুনিমুখি কপোতাক্ষ নদের পূর্ব পাশের মালোপাড়া মহাশ্মশান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের দেড় কিলোমিটারের বেশি ভাঙনের কবলে। তিনটি স্থানে ৮০ থেকে ১০০ ফুট করে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। জোয়ারের পানির সঙ্গে কচুরিপানা বিলের মধ্যে ঢুকছে। কয়েকটি স্থানে এক থেকে দেড় হাত বেড়িবাঁধ দেখা যাচ্ছে। মালোপাড়ার মধ্যে ১৯৯৬ সালে সৃষ্ট নতুন নদ এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। বেড়িবাঁধের পাশে জেঠুয়া মহাশ্মশান।

জানতে চাইলে মালোপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষক দীলিপ কুমার অধিকারী বলেন, ১৯৮০ সালের পরবর্তী হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামল থেকে কপোতাক্ষ নদের পূর্ব পাশে জেঠুয়া বাজার থেকে মহাশ্মশান পর্যন্ত কয়েকবারের ভাঙন তিনি দেখেছেন। এ পর্যন্ত বাপ কাকাদের ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে পাঁচ বার বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একপর্যায়ে ঢাকায় চলে যান তিনি। সেখানেই পাড়াশুনা শেষে শিক্ষকতার চাকুরি। নাড়ির টানে জন্মভিটার কথা মনে পড়তেই মাঝে মাঝে ছুঁটে আসেন মালোপাড়ায়। সর্বশেষে আবারো পাকা বাড়ি তৈরি করছেন। বানাচ্ছেন একটি সার্বজনীন মন্দির।

খর¯্রােতার কারণে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদের দুই পারের লক্ষাধিক বাসিন্দাদের বছরে সাত থেকে আট মাস জলাবদ্ধতার সাথে লড়াই করে জীবনযাপন করতে হতো। ১৯৯৬ সালে তালা উপজেলার জেঠুয়া বাজার থেকে জেঠুয়া মহাশ্মশান পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারের মধ্যে কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙনে কপোতাক্ষ নদ মালোপাড়া, ঠাকুরপাড়া, পালপাড়া, বেনেপাড়া, পরামানিকপাড়া ও ঘোষপাড়ার মালিকানা জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

 

এতে ওইসব এলাকার তিন হাজার বিঘার বেশি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চার শতাধিক পরিবার পেশা পরিবর্তণ করে সাতক্ষীরা শহর, খুলনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে। মূল নদের ভাঙন কবলিত স্থান সংস্কার করা হলেও মালোপাড়ায় আগ্রাসনের চিহ্ন আজো বিদ্যমান। ফলে পরিবর্তিত হয়েছে মানচিত্র। অপরদিকে জেঠুয়ার বিপরীতে কপোতাক্ষের অপর পার খুলনার পাইাকগাছার হরিঢালী ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের নতুন করে চর জেগে বাড়ছে বাবলা বাগান। ২০১০ সাল থেকে পাঁচ রছর মেয়াদী কপোতাক্ষ খনন হওয়ায় তালাবাসি জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়। এরপরও ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জেঠুয়া বাজার থেকে জেঠুয়া মহাশ্মশান পর্যন্ত বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাঁটল শুরু হয়। এক সপ্তাহ আগে জেঠুয়া বাজার সংলগ্ন হাজির ভাটার পাশে তিনটি স্থানে ৪০ থেকে ৫০ ফুট করে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারভাটা অব্যহত রয়েছে।

 

আরো কয়েকটি স্থানের বাঁধ এক থেকে দেড় হাতের মত চিকন হয়ে গেছে। জোয়ারের তীব্রতা বাড়লে যে কোন মুহুর্তে ওইসব দুর্বল বাঁধ ভেঙে জেঠুয়া, শ্রীমন্তকাটি, কানাইদিয়া, নেহালপুর, কৃষ্ণকাটিসহ সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার বিঘার আমন ধানের খেত, সবজি খেত, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ার আশাঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আক্ষেপের সঙ্গে দীলিপ অধিকারী আরো বলেন, তার এলাকায় এক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে শিক্ষার হার কম থাকায় নদী গর্ভে হারানো মালিকানা জমি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়ে অন্যরা ডিসিআর নিলেও তারা ওই জমি উদ্ধারে কোন মামলা করেননি। সরকারীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের জন্য কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। নদী ভাঙনে এলাকার মানচিত্র পরিবর্তণ হয়ে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ভাঙন কবলিত বেড়িবাঁধ তাদের নয়। তাই সংস্কারের দায়িত্বও তাদের এখতিয়ারে পড়ে না। তাহলে ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজনকে রক্ষার দায়িত্ব কার?

মালোপাড়ার সুরতী রানী ঘোষ বলেন, স্বামী ও শ^শুরদের ২০ বিঘার বেশি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তিন তিন বার বাড়ি বানিয়ে তা ছাড়তে হয়েছে। কোন প্রকারে ছাপড়া ঘর বানিয়ে বসবাস করছেন। এক ছেলে ও এক মেয়ে তার উল্লেখ করে সুরতী রানী বলেন, মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন কোন রকমে। ছেলে বিশ^নাথ ঘোষ পেটের দায়ে এলাকা ছেড়ে খুলনার একটি মিষ্টির দোকনে কাজ করে। তাদের এ কষ্ট দেখার কেউ নেই।

ঘোষপাড়ার সুকুমার ঘোষ বলেন, তার ১০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমির জন্য কোন সরকারি অনুদান পাননি। ভৌগলিক কারণে তারাও রয়েছেন অস্তিত্ব সঙ্কটে। একইভাবে ঠাকুরপাড়ার রবীন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, তার ও তার পূর্ব পুরুষদের ১৮ বিঘা জমি কপোতাক্ষ গ্রাস করেছে। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা ঢাকায় চলে গেছে কর্মসংস্থানের জন্য। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া কার্তিক পরামানিক, অরুণ দত্তসহ কয়েকজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অব্যবহৃত অথচ জমির মালিকানা বহির্ভুত লোকদের ডিসিআর না দিয়ে মালিকদের ডিসিআর দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান। আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে বেড়িবাঁধ সংস্কার না করা হলে এই এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আমন ধানের খেত, সবজি খেত, মাছের ঘের ও বাড়িঘর ভেসে যেতে পারে। তাই দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও সাতক্ষীরা-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, জেঠুয়ার ভাঙন কবলিত এলাকায় তাদের কোন বেড়ি বাঁধ নেই। এরপরও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অনুমতি না পাওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

Ads small one

অপূর্বর সততায় মুগ্ধ তটিনী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
অপূর্বর সততায় মুগ্ধ তটিনী

বিয়ের আগে নিজের জীবনের বাস্তবতা ও দায়িত্বের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন অপূর্ব। তার সেই সততাই মুগ্ধ করে তটিনীকে। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘তুমি এসেছিলে বলে’ শিরোনামের নতুন নাটক।

সাম্প্রতিক সময়ে পারিবারিক গল্পের নাটকের দিকে ঝুঁকেছেন নির্মাতারা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। তারই ধারাবাহিকতায় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্ট নির্মাণ করেছে নাটকটি। রুবেল হাসানের পরিচালনায় এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অপূর্ব ও তটিনী। নাটকটি রচনা করেছেন মেজবাহ উদ্দীন সুমন।

গল্পে অপূর্বকে দেখা যাবে, একটি যৌথ পরিবারের বড় ছেলের চরিত্রে। বাবা মারা যাওয়ার পর পুরো পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার কাঁধে। সকাল থেকে অফিস, এরপর পরিবারের নানা সমস্যা সামলানো—এভাবেই কাটে তার জীবন। ফলে বিয়ে নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই তার। তবে একসময় মায়ের জোরাজুরিতে বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে পাত্রী মেহরিনের (তটিনী) সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার দিনই নিজের জীবনের বাস্তবতা স্পষ্ট করে দেন অপূর্ব। তিনি মেহরিনকে বলেন, ‘আমি আপনাকে সুখের স্বপ্ন দেখাতে পারবো না। আমার জীবন খুব সাধারণ নয়। আমার একটা সংসার আছে, অনেক দায়িত্ব আছে। আপনি যদি আমার জীবনে আসেন, আপনাকে আমার জীবনের একটা অংশ নয়, পুরো বাস্তবতাটাই গ্রহণ করতে হবে।’

অপূর্বর এই সততাই মেহরিনকে মুগ্ধ করে। তার কথায় আস্থা রেখে বিয়েতে রাজি হয়ে যান তিনি। কিন্তু বিয়ের পর দুজনের দাম্পত্য জীবন কতটা সুখের হয়, আর যৌথ পরিবারের নানা টানাপোড়েন কীভাবে তাদের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে—সেই গল্প জানতে অপেক্ষা করতে হবে নাটকটি মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত।

৯ বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে আমির, মুক্তি পাবে কোন ছবি৯ বছর পর জাপানের প্রেক্ষাগৃহে আমির, মুক্তি পাবে কোন ছবি
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের জামাল হোসেন বলেন, ‘নাটক আমাদের সমাজ ও চারপাশের প্রতিচ্ছবি। আমাদের আশপাশের অনেক পরিবারের গল্প নানা ভাবে নাটকে উঠে আসে। আমি সব সময় চেষ্টা করি, বিনোদনের পাশাপাশি নাটকে সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য।’

নির্মাতা রুবেল হাসান বলেন, ‘এটি পুরোপুরি একটি পারিবারিক গল্পের নাটক। একটি যৌথ পরিবারের টানাপোড়েন দর্শক এ নাটকের গল্পে দেখতে পাবেন। আমাদের চারপাশে অনেক পরিবার আছে, বাইরে থেকে দেখতে সুন্দর। কিন্তু ভেতরের খবর কেউ জানে না। এটি সে রকমই একটি গল্পের নাটক।’

নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন লুৎফর রহমান জর্জ, মনিরা আক্তার মিঠুসহ অনেকে।

 

ছয় বছর পর সুশান্তের ময়নাতদন্ত নিয়ে বোন শ্বেতার নতুন দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৫ অপরাহ্ণ
ছয় বছর পর সুশান্তের ময়নাতদন্ত নিয়ে বোন শ্বেতার নতুন দাবি

মৃত্যুর ছয় বছর পর বলিউডের প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ময়নাতদন্ত নিয়ে নতুন দাবি সামনে আনলেন তার বোন শ্বেতা সিং কীর্তি। সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় শ্বেতা দাবি করেছেন, সুশান্তের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সঙ্গে কয়েক দিন আগে তার যোগাযোগ হয়েছে।

শ্বেতা জানান, ওই চিকিৎসকের কাছ থেকেই তিনি জানতে পেরেছেন, অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় বন্দুক ব্যবহার, শারীরিক নির্যাতন ও তার পা ভেঙে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল।

২০২০ সালের ১৪ জুন প্রয়াত হন সুশান্ত। তার মৃত্যুর পর অভিযোগের তীর ওঠে বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর দিকে। তবে পরে তদন্তের ক্লোজার রিপোর্টে বলা হয়, সুশান্তকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করার মতো কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে শুরু থেকেই সুশান্তের পরিবার দাবি করে আসছে, তিনি আত্মহত্যা করেননি।

ভিডিওবার্তায় শ্বেতা বলেন, ‘সম্প্রতি জানতে পেরেছি, যিনি আমার ভাইয়ের ময়নাতদন্ত করেছিলেন, তিনি বলেছেন ঘটনার সময় বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছিল। চোখেও আঘাত ছিল।’

সুশান্তের মৃত্যুর সময় শ্বেতা বিদেশে ছিলেন। কোভিড পরিস্থিতির কারণে ভাইয়ের শেষযাত্রায়ও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। তবে এরপর থেকে সুশান্তের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন শ্বেতা।

বেস্ট ড্যান্সার চ্যাম্পিয়ন রিতেশ পাল, কত টাকা পেলেন তিনিবেস্ট ড্যান্সার চ্যাম্পিয়ন রিতেশ পাল, কত টাকা পেলেন তিনি
ভাইয়ের মৃত্যুর পরের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে শ্বেতা বলেন, ‘আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমার কাছে এসেছেন। ভাইয়ের জন্য কেঁদেছেন। কারণ সবারই মনে হয়েছিল, ওর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা মোটেই ঠিক ছিল না। যা হয়েছে, তা গুরুতর অন্যায়।’

প্রিয়জনকে হারানোর কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি ওর বোন এবং আমি বুঝি, প্রিয়জনের সঙ্গে এমন কিছু ঘটলে কেমন লাগে। এই পৃথিবীতে অনেক অন্যায় হয়। ভালো মানুষদেরও অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কষ্টই আপনাকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যায়। ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।’

ভালো খেলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পিছিয়ে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
ভালো খেলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে পিছিয়ে বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ার কাছে হারের পর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল বাংলাদেশের। সেই লক্ষ্যেই একাদশে চার পরিবর্তন এনে শুরু থেকেই আগ্রাসী ও গোছানো ফুটবল খেলেছে থমাস ডুলির দল। বল দখল ও আক্রমণে আশাজাগানিয়া পারফরম্যান্সের পরও শেষ হাসি হাসতে পারেনি বাংলাদেশ। গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিয়ে বিরতির আগে এক গোলে পিছিয়ে গেছে লাল-সবুজের দল।

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সোহেল রানাসহ বাংলাদেশ দলে চার পরিবর্তনসিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সোহেল রানাসহ বাংলাদেশ দলে চার পরিবর্তন
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জায়গা হয়নি মিডফিল্ডার সোহেল রানার। তার সঙ্গে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে ফারহান আলী ওয়াহিদ, ফাহমিদুল ইসলাম ও শাকিল আহাদ তপুকে। তাদের পরিবর্তে ফিরেছেন নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, জিদান ইউসুফ, শুকি ইতোফুসা ও শেখ মোরসালিন।

পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে শুরু থেকেই আগের ম্যাচের চেয়ে গোছানো ফুটবল উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। ৪-৪-২ ছকে খেলা ডুলির দল শুরু থেকেই আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়েছে। বিল্ডআপ ফুটবলের মাধ্যমে সমন্বয় করে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টাও ছিল। কিন্তু আক্রমণভাগে গিয়ে সেই ধারটা দেখা যায়নি। অবস্থা এমন ছিল যে বিরতির আগে বাংলাদেশের কোনো শটই লক্ষ্যে থাকেনি।

রাকিব হোসেন ও শেখ মোরসালিন কয়েকবার বল পেলেও গোলমুখে কার্যকর শট নিতে পারেননি। বিপরীতে সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেছে সিঙ্গাপুর। প্রথমার্ধে তিনটি শট লক্ষ্যে রেখে একটি থেকে গোল পেয়েছে তারা।

শুরুর দিকেই হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। এরপর ১৭ মিনিটে বাংলাদেশকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। আব্দুল্লাহ নূরের ক্রস থেকে ইলহান ফান্দির প্লেসিং ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি।

কুলিং ব্রেকের পর কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে খেলতে শুরু করে বাংলাদেশ। আর তাতেই সিঙ্গাপুরের আক্রমণের চাপ বাড়ে। ৩২ মিনিটে হ্যারিস স্টুয়ার্টকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জিদান ইউসুফ। সেই ফ্রি-কিক থেকেই গোলের খুব কাছে চলে এসেছিল সিঙ্গাপুর।

জ্যাকব উইলিয়ামের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে আবারও বাংলাদেশকে বাঁচান শ্রাবণ। পরে বক্সের ভেতর থেকে ফিরতি শটও প্রতিহত করেন তারিক কাজী।

তবে বাংলাদেশের প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৫ মিনিটে গোল পেয়ে যায় সিঙ্গাপুর। ডান দিক থেকে নূর আব্দুল্লাহর ক্রসে ফাঁকায় থাকা হ্যারিস স্টুয়ার্ট জোরালো হেডে বল জালে পাঠান। এবার আর কিছুই করার ছিল না শ্রাবণের।

দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সিঙ্গাপুর। ইলহান ফান্দির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য দ্বিতীয় গোল হজম থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

এরপর বল নিজেদের দখলে রেখে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু আক্রমণের শেষ মুহূর্তে গিয়ে সেই কার্যকারিতা দেখা যায়নি। ফলে সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষককে আর তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ডুলির শিষ্যরা।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান শ্রাবণ, সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, জিদান ইউসুফ, জায়ান আহমেদ, হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়া, শমিত সোম, শুকি ইতোফুসা, শেখ মোরসালিন ও রাকিব হোসেন।