শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা মামলার আসামীরা ৮ দিনেও ধরা পড়েনি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
তালায় ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা মামলার আসামীরা ৮ দিনেও ধরা পড়েনি

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা পূর্বপাড়ায় ঘেরমালিক ক্ষিতিশ মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আট দিনেও কোনো আসামি ধরা পড়েনি। এদিকে মামলা তুলে নিতে নিহতের স্ত্রী, ছেলে ও সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

নিহতের চাচাতো ভাই জেয়ালা গ্রামের প্রকাশ মণ্ডল জানান, মৃত্যুর আগে ক্ষিতিশ মণ্ডল তাঁকে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, খুলনার ডুমুরিয়া থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৮) সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে একটি গাছ থেকে চুরি করে নারকেল পাড়ার সময় ক্ষিতিশের বাধার মুখে পড়েন। এ নিয়ে ইব্রাহীম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

প্রকাশ মণ্ডলের অভিযোগ, ইব্রাহীমের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও একই গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে ঘেরমালিক শেখ হাবিবুর রহমান ক্ষিতিশকে একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলেন। সে অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর ভোর ৩টার দিকে ফোন করে ক্ষিতিশকে তাঁর ঘেরের বাসা থেকে হাবিবুরের ঘেরে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পার্শ্ববর্তী কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে জাল দিয়ে মাছ ধরে হাবিবুরের ঘেরে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। ক্ষিতিশ রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করে বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে চোর আখ্যা দিয়ে চিৎকার করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, পানিতে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ইব্রাহীম নৌকার বৈঠা দিয়ে ক্ষিতিশের মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়। এরপর পানি থেকে তুলে ডাঙায় এনে ইব্রাহীম, তাঁর সহযোগী গফফার শেখ, রবিউল ও মাজেদ লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। পরে তাঁকে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানে নিয়ে একটি আমগাছের সঙ্গে পেছন দিকে হাত বেঁধে রাখা হয়। সেখানে ইট, হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তাঁর দুই পা ও বুকের পাঁজরে আঘাত করে ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ক্ষিতিশ মণ্ডলের মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীকে নির্যাতনের সময় স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি দেওয়ার বিনিময়েও তাঁকে রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া তাঁর স্বামীর কাছ থেকে কয়েকটি অলিখিত নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

স্বামীর মৃত্যুর পর ইব্রাহীম, হাবিবুরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন সুলেখা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার আট দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মূল অভিযুক্ত ইব্রাহীম ও হাবিবুরকে আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেলেও পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়া একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের আশ্রয়ে থেকে কয়েকজন অভিযুক্ত নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁকে, তাঁর ছেলে উৎপল মণ্ডল ও মামলার সাক্ষীদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন সুলেখা।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তালা থানার উপপরিদর্শক আমিরুজ্জামান মোল্লা জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁরা পলাতক রয়েছেন।

Ads small one

দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় চার দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টায় চিনেডাঙ্গা স্কুল মাঠে আচিমতলা যুব সংঘের আয়োজনে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে আচিমতলা দুরন্ত ফুটবল একাদশকে এক গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় লিজেন্ট ফুটবল একাদশ।

 

খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ডা. মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দপ্তর সম্পাদক এমএ মামুন, সখিপুর ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি ইউসুফ গাজী, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন ও ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আয়শা খাতুন।

খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন ইয়াছির আরাফাত লিপু। সহকারী রেফারি ছিলেন আব্দুল্লাহ ও ইব্রাহীম। ধারাভাষ্য দেন কেটিএসের পরিচালক কবির হোসেন।

প্রধান অতিথি ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে নিজ অর্থায়নে এলাকার যুবকদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও জয়ী হলে যুবসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে নিয়মিত এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজন করবেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং করায় দুইজন গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মাইকিং করায় দুইজন গ্রেফতার

নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কাশোপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া মাইকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল প্রামাণিকের ছেলে শহিদুল ইসলাম শহীদ এবং মান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও নবগ্রাম তালবোনার মৃত গামা সরকারের ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসছেন বলে কয়েকজন ফাঁকা মাঠে মাইকিং করেন। পরে মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলাবাসীকে আসসালামু আলাইকুম এবং অন্যান্য ধর্ম ও জাতির ভাইদের আদাব ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর প্রচারণায় দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশের মাটিতে পদার্পণ করবেন। এ সময় দলমত নির্বিশেষে তাকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানিয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মাইকিং শেষ করা হয়।

মান্দা থানা পুলিশের ওসি আফজাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এলে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত দুইজন এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

একদিনে হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
একদিনে হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। তবে এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১১০ শিশুর মৃত্যুর হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২১৪ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১০ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৫ জনের। মোট ১ হাজার ১৩৫ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের।