বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগে মামলা, স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
তালায় শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগে মামলা, স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে শতবর্ষী পুরোনো রাস্তা বাঁশ ও কোচা দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এবার ওই রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এক স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. আইয়ুব আলী শেখের দাবি, জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর গ্রামের আইয়ুব আলী শেখ (৩৭) শতবর্ষী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় মামলা করেছেন। মামলায় মো. আহাদ শেখ (৩৮), খুশি বেগম (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

নালিশে বাদী উল্লেখ করেন, রাস্তাটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো। এ পথ দিয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছেন। স্কুলশিক্ষার্থী, নারীসহ সাধারণ মানুষ ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করেন। এলাকায় যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর বিবাদীরা বাঁশ ও কোচা দিয়ে রাস্তাটি ঘিরে দেন। এতে এলাকাবাসীর চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা খুলে দেওয়া বা মেরামতের উদ্যোগ নিলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আইয়ুব শেখের ছেলে মোহাম্মদ রনি শেখকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রনি তালা বিদে স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর বাবার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হুমকির কারণে ছেলে আতঙ্কে রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আইয়ুব শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে, স্কুলছাত্রকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আদালতে দায়ের করা মামলার আদেশের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

Ads small one

রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
রাজধানীর বায়ুদূষণে পরিবহন খাতের দায় ৫০ শতাংশ

রাজধানীর বায়ুদূষণের বড় একটি অংশের জন্য দায়ী পরিবহন খাত। এ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, মানসম্মত জ্বালানি ও লুব্রিকেন্টের ব্যবহার নিশ্চিত এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো এবং পরিবহন খাতে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।

সভাপতির বক্তব্যে এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্তত ৫০ শতাংশের জন্য পরিবহন খাত দায়ী। এ দূষণের কারণে ক্যানসার, হৃদরোগসহ নানা ধরনের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পরিবহন খাতের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে অন্তত ১০ শতাংশ স্বাস্থ্যব্যয় কমানো যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আইন অমান্য করাকে এখন কিছু মানুষের কাছে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এ মানসিকতার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনে ক্যাব, বাপাসহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যেন নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করেন, সে বিষয়ে নাগরিক সংগঠনগুলোকে সোচ্চার হতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ঢাকার বায়ুদূষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুজ্জমান বলেন, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, মিরপুর-১০, গুলিস্তান ও গাবতলীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। এমনকি ধানমন্ডি, গুলশান ও শাহবাগের মতো এলাকাতেও মাত্রাতিরিক্ত দূষণ হচ্ছে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু দিনের বেলাতেই নয়, মাঝরাত ও ভোররাতেও রাজধানীতে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সিটি করপোরেশনের রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কার্যক্রম, ভবন নির্মাণকাজ এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল। আব্দুল্লাহপুর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বাসরুটের অধিকাংশ এলাকাই বায়ুদূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে নিকুঞ্জ ও বিমানবন্দর এলাকায় বায়ুর মান তুলনামূলক ভালো।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, পরিবেশদূষণ রোধে ইমারত নির্মাণসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে নগরবাসী কার্যত একটি গ্যাস চেম্বারের মধ্যে বসবাস করছে। দূষণের কারণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি চিকিৎসাব্যয়ও বাড়ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের একটি অংশ নিজেরাই বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সভায় সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিনিধিরা বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় যানজট বাড়ছে। এতে যানবাহনের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বারবার ব্রেক করা ও পুনরায় গতি বাড়ানোর কারণে কার্বন নিঃসরণও বাড়ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত আলোচনা সভা

তাদের মতে, পরিবেশ সুরক্ষায় সড়কে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি গতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অন্যদিকে, গণপরিবহনে পুরোনো ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষের নেতারা। তাদের মতে, মানহীন জ্বালানি তেল ও ভেজাল মবিলের কারণে যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গমনের পরিমাণ বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্টের মান নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে মান যাচাই এবং চালকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

বিআরটিএর পরিচালক রুবাইয়াত-ই-আশিক বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে যানবাহনের ফিটনেস ও নির্গমন পরীক্ষা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। মেয়াদোত্তীর্ণ, অনুপযুক্ত ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবহন মালিকদের নিয়মিত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. এস এম সালাউদ্দীন বলেন, রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন ও নীতিমালা প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। এগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিদিন যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় ফিটনেসবিহীন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি প্রতিদিন ডাম্পিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিআরটিএর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

 

হামজার কাছ থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়ায় ভুটান অধিনায়কের আক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
হামজার কাছ থেকে শেখার সুযোগ না পাওয়ায় ভুটান অধিনায়কের আক্ষেপ

বাংলাদেশের বিপক্ষে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যেতে চায় ভুটান। দলের অধিনায়ক চেঞ্চো গেইলশেনের কণ্ঠে সেই প্রত্যয় স্পষ্ট। তবে ম্যাচের আগে তার মনে কিছুটা আক্ষেপও প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী প্রথম ম্যাচে খেলছেন না। তাই হামজার মতো ফুটবলারের বিপক্ষে মাঠে নামার পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে ভুটান অধিনায়কের।

বুধবার প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে চেঞ্চো বলেন, ‘হামজা খেললে আমরা তার বিপক্ষে খেলতে পছন্দ করতাম। সবাই জানে, তিনি সাফ অঞ্চলের বড় তারকা। ভালো মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার খেলা আমাদের জন্য ইতিবাচক হতো। তার কাছ থেকে শেখারও সুযোগ থাকত। দুর্ভাগ্যবশত, শুনেছি প্রথম ম্যাচে তিনি আসছেন না।’

তবে হামজা না থাকলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না ভুটান। চেঞ্চো বলেন, ‘সাফ কাপ জেতা প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন। আমরা প্রথম ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব, যেন সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে নিজেদের অবস্থান নিরাপদ করতে পারি।’

গতবার ভুটানের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে চোটের কারণে সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি চেঞ্চো। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার অপেক্ষায় তিনি।

অন্যদিকে ভুটানের কোচ গ্যারি মাইকেল ফিলিপস স্বীকার করেছেন, সাফের জন্য তাদের প্রস্তুতি আশানুরূপ হয়নি। কোনো প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পারেনি দলটি। গত ফিফা উইন্ডোতে ভুটানের জাতীয় লিগ থাকায় খেলোয়াড়দের একসঙ্গে পাওয়াও কঠিন ছিল।

কোচ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতিটা ধাপে ধাপে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনো ম্যাচ খেলিনি। বাংলাদেশের মতো অন্য দলগুলোর যে ধরনের প্রস্তুতি হয়েছে, আমাদের তা হয়নি। তবে আমরা আত্মবিশ্বাস নিয়েই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।’

ভুটান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে। তাই এই টুর্নামেন্টকে খেলোয়াড়দের যাচাই করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের এএফসি ও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ওপর চাপের বিষয়টিও মাথায় রাখছেন ফিলিপস। তার মতে, ঘরের মাঠে খেলার কারণে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। তবে এই প্রতিযোগিতা বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট নয়; বরং আঞ্চলিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ।

ভুটান দলে এবার বেশ কয়েকজন তরুণ ও নতুন মুখ রয়েছেন। অধিনায়ক চেঞ্চোও দলের নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য আমরা খুব বেশি সময় পাইনি। ভুটানের মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দলের খেলোয়াড় নির্বাচন করতে হয়েছে। দলে বেশিরভাগই তরুণ ও নতুন মুখ। তবে কোচের অভিজ্ঞতার কারণে এখন আমি বেশ আত্মবিশ্বাসী।’

দলে শতভাগ স্থানীয় ফুটবলার থাকায় গর্বের কথাও জানিয়েছেন চেঞ্চো। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দলগুলোতে প্রবাসী বা বংশোদ্ভূত ফুটবলার থাকলেও ভুটান জাতীয় দলে সবাই স্থানীয়।

চেঞ্চোর ভাষায়, ‘বিশ্ব ফুটবল এখন অনেক বদলে গেছে। শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, অনেক দেশই বিদেশে জন্ম নেওয়া বা অন্য দেশের ফুটবলারদের নাগরিকত্ব দিয়ে দলে নিচ্ছে। আমার মনে হয়, ভুটানই একমাত্র দল, যারা শতভাগ ভুটানি ফুটবলার নিয়ে খেলছে। জাতীয় দলের হয়ে শতভাগ ভুটানিকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত।’

বিক্রি ও মুনাফায় পূর্বাভাসের চেয়ে এগিয়ে অ্যাপল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
বিক্রি ও মুনাফায় পূর্বাভাসের চেয়ে এগিয়ে অ্যাপল

আইফোন বিক্রি ও সেবা খাত থেকে আয় বাড়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল রেকর্ড রাজস্ব আয় করেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেমোরি চিপের ব্যয় বাড়ায় আগামী প্রান্তিকে মুনাফার হার কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

গত সেপ্টেম্বরে টিম কুকের কাছ থেকে সিইও-র দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম বড় আর্থিক প্রতিবেদনে জন টার্নাস বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী পণ্যসম্ভার নিয়ে বছর শেষ করতে যাচ্ছি। তিনি আগামী ছুটির মৌসুমে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনসহ নতুন পণ্যের বিক্রি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অ্যাপলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) কেভান পারেখ জানান, মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি ও সিরি এআই সম্প্রসারণের খরচের কারণে মোট মুনাফার হার সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের ৪৭.৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশে নামতে পারে। তবে এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে পারেখ বলেন, আমরা মনে করি, এআই গ্রাহকদের নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে নতুন ডিভাইস কেনা বা পুরোনো ডিভাইস পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা তৈরি করবে।

সেপ্টেম্বরে আইফোন ১৮ প্রো, ১৮ প্রো ম্যাক্স ও ভাঁজযোগ্য ডুয়ো বাজারে আনার পর অক্টোবরে সিরি এআই-চালিত স্মার্ট ডিসপ্লে হোমভিউ এবং টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করে অ্যাপল।

প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন ও মেটা এআই অবকাঠামোতে শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করলেও অ্যাপলের মূলধনি ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র ১১ বিলিয়ন ডলার। নিজস্ব বিনিয়োগ কম রেখেও গুগলের জেমিনি মডেলের ওপর ভিত্তি করে সিরি পুনর্নির্মাণের মতো কৌশলে লাভবান হচ্ছে অ্যাপল। তবে ২০২৪ সাল থেকে অ্যাপল পণ্যে যুক্ত থাকা চ্যাটজিপিটির উদ্ভাবক ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে গত জুলাইয়ে মামলা দায়ের করেছে অ্যাপল।

সূত্র: এএফপি