বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

তালায় শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগে মামলা, স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
তালায় শতবর্ষী রাস্তা বন্ধের অভিযোগে মামলা, স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে শতবর্ষী পুরোনো রাস্তা বাঁশ ও কোচা দিয়ে ঘিরে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এবার ওই রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে এক স্কুলছাত্রকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. আইয়ুব আলী শেখের দাবি, জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

আদালতে দায়ের করা নালিশি মামলা সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর গ্রামের আইয়ুব আলী শেখ (৩৭) শতবর্ষী রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় মামলা করেছেন। মামলায় মো. আহাদ শেখ (৩৮), খুশি বেগম (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

নালিশে বাদী উল্লেখ করেন, রাস্তাটি প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো। এ পথ দিয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছেন। স্কুলশিক্ষার্থী, নারীসহ সাধারণ মানুষ ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করেন। এলাকায় যাতায়াতের বিকল্প কোনো রাস্তা নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর বিবাদীরা বাঁশ ও কোচা দিয়ে রাস্তাটি ঘিরে দেন। এতে এলাকাবাসীর চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা খুলে দেওয়া বা মেরামতের উদ্যোগ নিলে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আইয়ুব শেখের ছেলে মোহাম্মদ রনি শেখকেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রনি তালা বিদে স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর বাবার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হুমকির কারণে ছেলে আতঙ্কে রয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

আইয়ুব শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে, স্কুলছাত্রকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আদালতে দায়ের করা মামলার আদেশের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

Ads small one

ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষ: সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিবি হেফাজতে ইকবাল সোবহান ও রাজীব ঘোষ: সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে কর্মস্থল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করছেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ। দুজনকে গ্রেফতার করা হবে, নাকি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে সেটা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠানটির ক্রাইম চিফ রাজীব ঘোষকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই সাংবাদিকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ না করে কর্মস্থল থেকে সাংবাদিকদের ডিবি হেফাজতে নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সহকর্মীরা। একই সঙ্গে দুই সাংবাদিকের অবস্থান ও তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এদিকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, যদি তিনি আটক হয়ে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকার কারণেই প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. আখতার হোসেন জানিয়েছেন, একটি সংবাদ প্রচারকে কেন্দ্র করে ডিবিসি কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে নিরাপদে ডিবি কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনও আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক মুক্তাদির রশিদ রোমিও। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সরকারের কাছে সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে সসম্মানে তার কর্মক্ষেত্রে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কোনও সাংবাদিককে ডিবি হেফাজতে নেওয়া আতঙ্কজনক। সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হামলার বহিঃপ্রকাশ। আশা করছি সরকার আমার কথা শুনছেন।’

এদিকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট। একই সঙ্গে তার দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন ও সদস্য সচিব শেখ জামাল বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে নিজ কার্যালয় থেকে আটক করার ঘটনা দুঃখজনক ও নজিরবিহীন। এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।’

তারা বলেন, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অবিলম্বে ইকবাল সোবহান চৌধুরীর মুক্তির দাবি জানান তারা।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি, দৈনিক অবজারভারের সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) বর্তমান সহসভাপতি ও ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি তানজিম আনোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব।

বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, কোনো ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা বা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করেই রাজীব ঘোষকে অফিস থেকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নির্বাচিত নেতার সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও নাগরিক অধিকারের জন্য অশনিসংকেত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকলেও তা অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে। কাউকে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আইনগত ভিত্তি ও অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আইন প্রয়োগের নামে কোনো নাগরিকের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করার সুযোগ নেই।

তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। একজন সাংবাদিককে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করবে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিবৃতিতে অবিলম্বে রাজীব ঘোষের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।

রাজীব ঘোষকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ)। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ উদ্যোগ জানান।

ডিআরইউ বলছে, একজন সাংবাদিককে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপ অবশ্যই প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হতে হবে।

তারা আরও বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ডিআরইউ নেতারা অবিলম্বে রাজীব ঘোষের অবস্থান তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে স্পষ্ট করা এবং আইনগত ভিত্তি না থাকলে তাকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

‘আমেরিকানরা বিরক্ত হলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো’: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
‘আমেরিকানরা বিরক্ত হলে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হবো’: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা তার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে নিজের জনপ্রিয়তা ৯৯ শতাংশ বলেও দাবি করেছেন তিনি।

কানাডার সংবাদমাধ্যম ইয়াহু লাইফস্টাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রসিকতার ছলে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

সাক্ষাৎকারে ৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েলে তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ তার ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে তিনি সেখানে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।

ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলে আমার জনপ্রিয়তার হার ৯৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ যদি আমার ওপর বিরক্ত হয়ে যায়, তাহলে আমি ইসরায়েলে চলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবো।

একই সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের ভাষ্য, ইসরায়েলের এখন আর এই অর্থের প্রয়োজন নেই।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন ট্রাম্প?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে, ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেছে দলটির হাতে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি দুই বছরের শাসনামলে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আটকে দেওয়া এবং আইন প্রণয়নে বাধা দেওয়ার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি ট্রাম্পকে অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারবেন তারা। কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে পেলেই কি প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব?

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রেসিডেন্টকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতা থেকে সরানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের হাতে সেই প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষমতা থাকলেও ট্রাম্পকে চূড়ান্তভাবে সরাতে প্রয়োজন হবে আরও বড় সমর্থন।

অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার সুযোগ

ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সবচেয়ে সরাসরি সাংবিধানিক পথ হলো অভিশংসন বা ইমপিচমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ কিংবা গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণের অভিযোগে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যায়।

এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন হয় প্রতিনিধি পরিষদে। সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করাতে হয়। এরপর বিষয়টি যায় সিনেটে। সেখানে চলে বিচারপ্রক্রিয়া। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। এই ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলেই প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন।

অর্থাৎ, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করানো তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে প্রয়োজন হবে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট।

এখানেই বড় বাধা। এবারের নির্বাচনে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪-তে। এর মধ্যে দলটির সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সিনেটররাও রয়েছেন। ১০০ সদস্যের সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে প্রয়োজন ৬৭টি ভোট। অর্থাৎ, সব সদস্য ভোট দিলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ১৩ জন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ফলে শুধু নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে ট্রাম্পকে সরানো সম্ভব নয়।

আগেও দুবার অভিশংসিত হয়েছিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া অবশ্য নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদে দুবার প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হয়েছিলেন তিনি।

২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগে প্রথমবার অভিশংসিত হন ট্রাম্প। ২০২১ সালে ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় তার ভূমিকার অভিযোগে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত করা হয় তাকে। তবে দুবারই সিনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় অভিযোগ থেকে মুক্তি পান তিনি। ফলে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন ট্রাম্প।

এবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের প্রস্তাব পাস করাতে পারলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো কঠিন হবে।

২৫তম সংশোধনী কি কাজে লাগানো যাবে?

অভিশংসন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার বিষয়টি মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে। এই সংশোধনীর চতুর্থ ধারায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম ঘোষণা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।

তবে প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে পারেন। তখন বিষয়টি কংগ্রেসে যাবে। প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অক্ষম রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

কিন্তু এই বিধান মূলত প্রেসিডেন্টের শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা কিংবা দায়িত্ব পালনে প্রকৃত অক্ষমতার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। রাজনৈতিক মতবিরোধ বা নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এটি প্রয়োগের সুযোগ নেই। তা ছাড়া ট্রাম্পকে সরানোর ক্ষেত্রে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সমর্থন পাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য সহজ হবে না।

তদন্ত ও প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে

ট্রাম্পকে সরাতে না পারলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তার প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়বে। বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত, নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করতে পারবে কংগ্রেসের কমিটিগুলো। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব, নথিপত্র চাওয়া এবং শুনানির আয়োজন করা যাবে।

এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও ফেডারেল বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে এসব নিয়োগ আটকে দিয়ে ট্রাম্পের প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে আইন পাসের ক্ষেত্রে দুই কক্ষের সমর্থন পেলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। তার ভেটো অকার্যকর করতে আবার দুই কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় পেলেও ডেমোক্র্যাটরা এখনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন না। নতুন কংগ্রেসের সদস্যরা আগামী ৩ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে যাবে।

শেষ পর্যন্ত কী হতে পারে?

বিশ্লেষকদের বিবেচনায়, এবারের নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো আর প্রেসিডেন্ট পদ হারানো এক বিষয় নয়। ডেমোক্র্যাটরা চাইলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন, অভিশংসনের উদ্যোগ নিতে পারবেন এবং তার প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আটকে দিতে পারবেন। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায় করতে হবে।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হতে পারবেন না। ফলে অভিশংসনে অপসারিত না হলে কিংবা নিজে পদত্যাগ না করলে মেয়াদের বাকি সময় তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

সব মিলিয়ে, ডেমোক্র্যাটদের হাতে এখন ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনকে জবাবদিহির মুখে ফেলার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তাকে হোয়াইট হাউস থেকে সরানোর মতো পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সমর্থন এখনও তাদের হাতে নেই।

সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী