শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ নিরসন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা। তিনি বলেন, উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বদা তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাস, মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে। পাশাপাশি উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সকল দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অলিউল ইসলাম, দেবহাটা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল বারী মোল্লা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তরিফুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজান আলী, উপজেলা দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মজিবুর রহমান, সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন, দেবহাটা বিজিবির নায়েক সুবেদার লোকমান হোসেন, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান কাজল, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বল, উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ আব্দুস সাত্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির পক্ষ থেকে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আশ্বাস প্রদান করা হয়। এছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিং সমস্যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক হবে বলেও সভায় জানানো হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
সভা শেষে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

 

Ads small one

অর্থনীতির তৃতীয় শক্তি হতে পারে পর্যটন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অর্থনীতির তৃতীয় শক্তি হতে পারে পর্যটন

মো: মামুন হাসান

একটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার আয়ের উৎসের বৈচিত্র্যের ওপর। বাংলাদেশের বহির্খাত দীর্ঘদিন দুটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে আছে, তৈরি পোশাক রপ্তানি আর প্রবাসী আয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অস্থিরতা এখন দুটিকেই একসঙ্গে চাপে ফেলেছে। জ্বালানি ও জাহাজভাড়া বেড়েছে, পশ্চিমা ক্রেতারা ক্রয়াদেশ ধরে রাখছেন, আর শ্রমিকদের বিদেশযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটে একটি প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে: যে খাত আমাদের নদী, সমুদ্র, বন আর আতিথেয়তাকে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর করতে পারে, সেই পর্যটন কি হতে পারে পরবর্তী অর্থনৈতিক শক্তি?

 

বিশ্ব অর্থনীতির হিসাব এ প্রশ্নের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেয়। ডব্লিউটিটিসির তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত বিশ্ব অর্থনীতিতে রেকর্ড ১১.৬ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করেছে, যা বৈশ্বিক জিডিপির ৯.৮ শতাংশ। খাতটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.১ শতাংশ, যেখানে বিশ্ব অর্থনীতি বেড়েছে ২.৮ শতাংশ হারে। এই খাত বিশ্বজুড়ে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে এবং নতুন সৃষ্ট প্রতি তিনটি চাকরির একটি এসেছে এখান থেকে। ইউএন ট্যুরিজমের হিসাবে ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক ছিলেন প্রায় ১৫২ কোটি, পর্যটকদের খরচ ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিবহন যোগ করলে পর্যটনের মোট রপ্তানি আয় ২.২ ট্রিলিয়ন ডলার। দৃষ্টান্ত হিসেবে স্পেনে পর্যটন জাতীয় জিডিপির ১৫.৩ শতাংশ, আর সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় ১৩০ বিলিয়ন ডলার। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে খাতটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৮.১ শতাংশ, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ বিশ্ববাজার শুধু বড় নয়, আমাদের অঞ্চলেই সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

 

এই বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো বিনয়ী। সরকারি ভাষ্যে জিডিপিতে পর্যটনের অবদান প্রায় ৩ শতাংশ, যা ৬ থেকে ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য ঘোষিত হয়েছে। ডব্লিউটিটিসির হিসাবে ২০২৩ সালে খাতটির অর্থনৈতিক অবদান ছিল প্রায় ৯.৫ বিলিয়ন ডলার এবং কর্মসংস্থান ছিল প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার, যা মোট কর্মসংস্থানের ৩ শতাংশ। অবদান জিডিপির ৬ শতাংশে পৌঁছালে, বর্তমান ভিত্তি ধরে মোটা দাগে বছরে আরও ৯ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৈরি হয়। এটি একটি সরল প্রক্ষেপণ মাত্র, পূর্বাভাস নয়। তবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দিকটি আরও লক্ষণীয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যটন আয় ছিল মাত্র ৩৯১ মিলিয়ন ডলার, আর ২০২০ সালে তা নেমে আসে ২১৮ মিলিয়নে। এর বিপরীতে ২০২৫ সালে প্রবাসী আয় এসেছে রেকর্ড ৩২.৮ বিলিয়ন ডলার। পর্যটনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক আয় এখনো প্রবাসী আয়ের ২ শতাংশেরও কম। এই ব্যবধানই সম্ভাবনার পরিমাপ। একটি সহজ হিসাব ধরা যাক: বছরে যদি আরও ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক এসে গড়ে হাজার ডলার করে খরচ করেন, তবে অতিরিক্ত ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আসে, যা ২০১৯ সালের মোট পর্যটন আয়ের আড়াই গুণেরও বেশি।

 

পর্যটনকে “অদৃশ্য রপ্তানি” বলা হয়, কারণ এখানে ভোক্তা পণ্যের কাছে যান না, পণ্যই ভোক্তার কাছে আসে। এতে বন্দরজট, জাহাজভাড়া বা সামুদ্রিক পথের ঝুঁকি নেই। বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে এই বৈশিষ্ট্য মূল্যবান। দেশের রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাকনির্ভর, আর সেই খাতই এখন চাপে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫.৫১ শতাংশ, মার্চে মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের মার্চের চেয়ে কমেছে ১৮.০৭ শতাংশ। বিজিএমইএর হিসাবে জুলাই থেকে মে পর্যন্ত পোশাক রপ্তানি ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৩.৪১ শতাংশ কম। পোশাক শিল্পের মুনাফার হারও ৪ শতাংশের নিচে, ফলে খরচ বাড়লে তা শোষণের সক্ষমতা সীমিত। প্রবাসী আয়েও ঝুঁকি আছে। ২০২৪- ২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়ের ৪৫.৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এডিবি সতর্ক করেছে, সংঘাতে অঞ্চলটির শ্রমবাজার দুর্বল হলে এই আয় চাপে পড়তে পারে। তুলনায় পর্যটনে আমদানিনির্ভর কাঁচামালের প্রয়োজন কম, ফলে আয়ের বড় অংশ দেশের ভেতরেই থাকে। হোটেলের খাবার, পরিবহন, হস্তশিল্প, নৌযান, গাইড ও স্থানীয় বাজারে এই অর্থ ঘুরে গুণক প্রভাব তৈরি করে। এভাবে এক ডলারের বৈদেশিক ব্যয় অর্থনীতিতে একাধিকবার হাত বদলায় এবং কারখানাহীন উপকূল, হাওর ও পাহাড়ি জনপদে আয় ও কর্মসংস্থান ছড়িয়ে দেয়।

 

তবে বিপুল সম্ভাবনাকে আয়ে রূপ দিতে হলে কয়েকটি কাঠামোগত বাধা সরাতে হবে। পর্যটনের প্রথম শর্ত আস্থা, আর বিদেশি পর্যটকের কাছে নিরাপত্তার অর্থ শুধু অপরাধ না থাকা নয়। হয়রানি, প্রতারণা, অস্বচ্ছ ভাড়া, ভাষাগত বাধা ও জরুরি সহায়তার নিশ্চয়তাও এর অংশ। এর সঙ্গে আছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, জটিল ভিসা প্রক্রিয়া, উচ্চ বিমানভাড়া ও কর, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব। সবচেয়ে অবহেলিত সমস্যা দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি। ভালো হোটেল গড়া সহজ, ভালো আতিথেয়তা গড়া কঠিন। শিক্ষক হিসেবে দেখি, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসূত্র এখনো দুর্বল।

 

এসব সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন প্রচলিত পথের বাইরের ভাবনা। প্রথমত, নিরাপত্তাকে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে একটি ডিজিটাল ট্যুরিস্ট পাস চালু করা যায়। এক কিউআর কোডে নিবন্ধন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা, বহুভাষিক সহায়তা এবং জরুরি নাম্বারের মাধ্যমে ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। এতে পর্যটকের ঝুঁকিবোধ কমবে, আর সরকার পাবে রিয়েল টাইম পর্যটন তথ্য, যা পর্যটন স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট তৈরির ভিত্তি হবে। দ্বিতীয়ত, বিপণনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাজে লাগানো যায়। বিদেশে থাকা পরিবারগুলো ইতিমধ্যে দেশের সঙ্গে আবেগে যুক্ত, তাই তাঁদের জন্য “দেশে ছুটি” প্যাকেজ এবং বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আসার প্রণোদনা কম খরচে বড় বাজার তৈরি করতে পারে। প্রবাসী আয়ের একটি অংশ পর্যটন অবকাঠামোয় টানতে একটি ডায়াসপোরা ট্যুরিজম বন্ডও ভাবা যায়। তৃতীয়ত, ঋতুভিত্তিক চাহিদার ঢেউ সামলাতে গতিশীল মূল্যনির্ধারণ ও অফ সিজন প্রণোদনা দরকার। কক্সবাজারে বর্ষায় ও হাওরে শুষ্ক মৌসুমে আবাসন ফাঁকা থাকে। সম্মেলন পর্যটন ও ইভেন্ট আয়োজনে সারা বছরের আয়ের ধারা তৈরি করা যায়, যা বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত প্রতিদান বাড়ায়।

 

চতুর্থত, পর্যটককে ভোক্তা থেকে স্থানীয় শিল্পের ক্রেতায় রূপান্তর করা জরুরি। জামদানি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চা ও মৎস্যজাত পণ্যকে বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের অধীনে আনলে পর্যটকের ব্যয়ের বড় অংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনে যাবে। বিদেশি পর্যটকদের কেনাকাটায় আগমনকালীন কর ফেরত চালু করলে হস্তশিল্পের বিক্রি বাড়বে। হোটেল ও রিসোর্টে স্থানীয় কৃষিপণ্য কেনা বাধ্যতামূলক বা প্রণোদনার আওতায় আনলে কৃষির সঙ্গে পর্যটনের পশ্চাৎ সংযোগ শক্ত হবে। পঞ্চমত, সুন্দরবন, হাওর ও পাহাড়ের মতো পরিবেশগতভাবে মূল্যবান এলাকায় কমিউনিটি মালিকানাধীন হোমস্টে ও ইকো লজ গড়া যায়, যেখানে আয়ের একটি অংশ স্থানীয় সমবায়ের হাতে যাবে। পরিবেশ সংরক্ষণে একটি সবুজ উপকর বসিয়ে তার পুরো অর্থ ওই এলাকার সংরক্ষণেই ব্যয় করলে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে টেকসই ভারসাম্য থাকবে। ম্যানগ্রোভ ও বনভিত্তিক কার্বন ক্রেডিটের আয় এই তহবিলের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

 

ষষ্ঠত, আকাশপথ ও ভিসা নীতি বিনিয়োগের নিয়ামক। নির্বাচিত বাজারের জন্য অনলাইন ও আগমনকালীন ভিসা, মৌসুমি চার্টার ফ্লাইটে প্রণোদনা এবং বিমান জ্বালানির ওপর করের যৌক্তিকীকরণ আনলে আসনপ্রতি খরচ কমবে। ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার মতো দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ দিলে অবস্থানকালভিত্তিক মাথাপিছু আয় বাড়বে, কারণ পর্যটন অর্থনীতিতে পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে মাথাপিছু ব্যয় ও থাকার মেয়াদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তমত, বিনিয়োগে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও আমদানি শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা যায়। সবশেষে মানবসম্পদে বিনিয়োগ, অর্থাৎ পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আতিথেয়তা শিক্ষা সম্প্রসারণ, হোটেল ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সরাসরি শিক্ষানবিশি চুক্তি এবং ভাষাশিক্ষার ওপর জোর। মানসম্মত সেবা দিতে পারলে একই গন্তব্য থেকে বেশি মূল্য আদায় করা যায়, যা সরাসরি লাভজনকতা বাড়ায়।

 

সরকার জাতীয় পর্যটন পরিষদ গঠন করেছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মহাপরিকল্পনার কাজ চলছে। কাঠামো তৈরি হয়েছে, এখন চাই ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। পর্যটন রাতারাতি পোশাক খাতের বিকল্প হবে না, হওয়ার প্রয়োজনও নেই। কিন্তু আজকের অনিশ্চিত বিশ্বে অর্থনীতির শক্তি নিহিত তার বৈচিত্র্যে। যে দেশ শুধু কারখানা আর প্রবাসী শ্রমের ওপর নির্ভর করে, সে প্রতিটি আন্তর্জাতিক সংকটে কাঁপে। সুপরিকল্পিত পর্যটন নীতি, নিরাপদ পরিবেশ ও স্থানীয় মূল্য সংযোজনের সমন্বয়ে পর্যটন হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য অদৃশ্য রপ্তানি খাত।

 

লেখক: মো: মামুন হাসান, বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ।

অন্ধ উন্মাদনা : গণপিটুনির আড়ালে আমরা কোথায় যাচ্ছি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অন্ধ উন্মাদনা : গণপিটুনির আড়ালে আমরা কোথায় যাচ্ছি?

‎তারিক ইসলাম

‎

‎সম্প্রতি সাতক্ষীরায় পর পর দুটি নৃশংস ঘটনা দেশের সচেতন বিবেককে স্তব্ধ করে দিয়েছে।সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাড়ি ঘেরাউ করে গণপিটুনিদিয়ে ১ম দফায় আহত করারপর হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এক যুবককে দুই দফায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ও জাতীয় প্র‍ত্র‍িকার খবর—তিনি কিছুটা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন।

 

অপরদিকে, সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির সন্দেহে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে, নির্দয়ভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও অন্তর্দাহ ও পরিণতি একই—আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং মানুষ হিসেবে মৌলিক মানবিক অনুভূতির চরম অবক্ষয়।

‎

‎এই নৃশংসতা কেবল দুটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি আমাদের সামাজিক মনস্তত্ত্ব, অনুভূতির অন্ধ চরমপন্থা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতার একটি করুণ প্রতিফলন।

‎

‎১. সামাজিক মনস্তত্ত্ব : গুজবের জয় ও মানবিক অবক্ষয়

‎

‎বর্তমানে আমাদের সমাজে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই ‘জনতা’ হিংস্র হয়ে ওঠার এক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও, ভিডিও বা গুজব মুহূর্তেই গণ-উন্মাদনায় রূপ নিচ্ছে। যুক্তি, সহমর্মিতা ও আইনি বিচারকে পাশ কাটিয়ে একশ্রেণির মানুষ নিজেদের বিচারক ও জল্লাদ হিসেবে ঘোষণা করছে। ক্ষোভ উসকে দিয়ে দলবদ্ধ হিংসার সুযোগ নেওয়া—যাকে আমরা ‘মব কালচার’ বলছি—তা সমাজকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যের প্রাণ কেড়ে নিয়ে বিচারিক তৃপ্তি খোঁজার এই মনস্তত্ত্ব একটি অসুস্থ সমাজব্যবস্থার লক্ষণ।

‎

‎২. ধর্মীয় চেতনা: বিশ্বাসের অবক্ষয় নাকি অপব্যবহার?

‎

‎ধর্ম প্রতিটি মানুষকে ক্ষমা, সহনশীলতা, শান্তি ও ন্যায়ের শিক্ষা দেয়। যেকোনো ধর্মে অন্যায় বা অপপ্রচারের বিচারের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠিত আইনি ও বিচার কাঠামোর ওপর। কিন্তু যখন ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বা হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেও মুমূর্ষু মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, তখন কি সত্যিই ধর্মের মর্যাদা রক্ষা পায়? উগ্রতার আড়ালে হিংসা চরিতার্থ করা ধর্মীয় অনুভূতির মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কোনো গুজবের ভিত্তিতে একজন মানুষকে বিচার ছাড়া হত্যা করা কোনো সুস্থ বিশ্বাস বা ধর্মের নির্দেশ হতে পারে না।

‎

‎৩. আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা

‎

‎আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এই ঘটনাগুলোতে অত্যন্ত করুণভাবে উন্মোচিত হয়েছে। পুলিশ প্রথম দফায় দেবহাটায় যুবকটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলেও তাণ্ডবকারীরা হাসপাতাল থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর ও নিরাপদ স্থানে গিয়ে তাণ্ডব চালানোর সাহস গণ-উত্তেজিত জনতা কীভাবে পায়, সেই প্রশ্ন আজ এড়ানো অসম্ভব। আইনের প্রতি ভয় ও শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার ফলেই বারবার এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে চলেছে। কোনো দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হলে ও অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বলতে আর কিছু থাকে না।

‎

‎উত্তরণের পথ কি?

‎

‎এই পরিস্থিতির থেকে রেহাই পেতে হলে আমাদের তিনটি প্রধান বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

‎

‎আইনের কঠোর প্রয়োগ: দেবহাটা ও তালার প্রতিটি অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কেবল ‘উদ্ধারকারী’ নয়, বরং প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রস্তুত ও সক্ষম হতে হবে।

‎

‎গুজব প্রতিরোধ ও সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য না যাচাই করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যে মারাত্মক অপরাধ হতে পারে, সে ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

‎

‎সামাজিক ও সামাজিক-ধর্মীয় সচেতনতা: আলেম-ওলামা, শিক্ষক, এবং সমাজনেতাদের এগিয়ে এসে এটি স্পষ্ট করতে হবে যে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ধর্ম ও সমাজ—উভয়ের দৃষ্টিতেই মারাত্মক অপরাধ।

‎

‎একটি সভ্য সমাজে অপরাধীর বিচার করার একমাত্র অধিকার দেশের আদালতের। যদি চুরির সন্দেহ বা কোনো মন্তব্যের জেরে মানুষ নিজেই আইন ও বিচারব্যবস্থার স্থান দখল করে নেয়, তবে রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাতক্ষীরার এই দুটি রক্তক্ষরণী ঘটনা আমাদের জন্য শেষ সতর্কবার্তা। এখনো যদি আমরা সচেতন না হই এবং আইনি শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করি, তবে এই অন্ধ উন্মাদনার আগুন কাল আমাদের প্রত্যেকের দরজায় এসে পৌঁছাবে।

‎

‎লেখক : তারিক ইসলাম

‎সভাপতি,সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

‎

পাইকগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় স্বামীর উপর অভিমান করে গলায় ওড়না পেচিয়ে বট গাছের ডাল গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে। পাইকগাছা উপজেলাধীন লস্কর ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের গোলাম রসুলের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৮) গাছের সাথে আত্মহত্যা করেন।

জানাযায়, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের গোলাম রসুলের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৮)কে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে প্রতিবেশী খালেক গাজীর বট গাছের ডালের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলতে দেখে শাশুড়ি রাবেয়া বেগম চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে গাছ থেকে নামায়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত ডাক্তার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রহিমা বেগমের স্বামী বাজার থেকে ছোট মাছ ক্রয় করে বাড়িতে আসলে,স্বামীর সাথে ছোট মাছ নিয়ে কথার কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় অভিমানে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে মনে করা হয়।