শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সময়ে এর ধারাবাহিকতায় দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চৌধুরী আল মাহমুদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য ও দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ওলিউল ইসলাম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জয়দেব কুমার পাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও আশরাফুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার মন্ডল, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্লা, সরকারি খান বাহাদুর আহছানউল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবু তালেব, দেবহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আকবর আলী।

এ ছাড়া দেবহাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাইজিদ বোস্তামি উজ্জ্বল, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, সাহিত্য ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম নাসির উদ্দীন, জুলাই যোদ্ধা মুজাহিদ বিন ফিরোজ, পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন হিরা, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু পারভীন, দেবহাটা উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ইয়াছিন আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিন আলী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের টিম মানবিক পরিবারের পরিচালক শেখ মনি, দেবহাটা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হযরত আলী টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দাশ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্কুল-কলেজের স্কাউট দলের সদস্যরাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সমন্বয়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং এডিস মশার প্রজননের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে তিন মাসব্যাপী চলবে।

Ads small one

স্বামী বলেছিলেন শুটিংয়ে, ২৪ ঘণ্টা পর মিলেছিল নায়িকার বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত লাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
স্বামী বলেছিলেন শুটিংয়ে, ২৪ ঘণ্টা পর মিলেছিল নায়িকার বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত লাশ

১৬ জানুয়ারি ২০২২। সকাল ৭টা। পরিবারের কাছে বলা হয়েছিল, শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছেন চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। পরে তার স্বামী খন্দকার সাখাওয়াত আলীম নোবেলও জানান, শিমু শুটিংয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছেন। কিন্তু সেদিন তিনি শুটিংয়ের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাননি। ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

সময় গড়ালো, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলো। তবু শিমুর কোনো খোঁজ পাওয়া গেলো না। পরদিন সকালে তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এর মধ্যেই কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে ঝোপের মধ্যে পড়ে থাকা একটি বস্তার খবর পায় পুলিশ। বস্তা খুলে উদ্ধার করা হয় এক নারীর খণ্ডিত লাশ। পরে শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিনই সামনে আসে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এরপর তদন্তে পুলিশ যে বর্ণনা দেয়, তাতে সকাল ৭টায় শিমু শুটিংয়ে বের হওয়ার তথ্যের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সময় ও স্থান নিয়ে ভিন্ন একটি চিত্র উঠে আসে।

থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্রে

রাইমা ইসলাম শিমুর অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল থিয়েটার দিয়ে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা কাজী হায়াতের নজরে আসেন তিনি। তার প্রতিভা দেখে ১৯৯৮ সালে ‘বর্তমান’ চলচ্চিত্রে তাকে সুযোগ দেন কাজী হায়াত। এটিই ছিল শিমুর প্রথম চলচ্চিত্র।

এরপর ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি মঞ্চেও সক্রিয় ছিলেন। প্রায় ৫০টি নাটকে অভিনয় করে টেলিভিশনেও পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র ‘জামাই শ্বশুর’ মুক্তি পায় ২০০২ সালে।

বিনোদন জগতে কাজ করার সময় ঢাকার ব্যবসায়ী শাখাওয়াত আলী নোবেলের সঙ্গে পরিচয় হয় শিমুর। প্রেমের সম্পর্কের পর ২০০৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর চলচ্চিত্র থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলেও টেলিভিশনে কাজ চালিয়ে যান শিমু। একাধিক অনুষ্ঠান প্রযোজনা করেন, নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস গড়ে তোলেন এবং একটি বেসরকারি টেলিভিশনের বিপণন বিভাগেও দায়িত্ব পালন করেন। গ্রিন রোডের বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে ছিল তাদের সংসার।

সকাল ৭টার পর কী ঘটেছিল

১৬ জানুয়ারি সকালে শিমুর বড় মেয়ে অজিহা আলিম রিদ বাসা থেকে বের হওয়ার পর হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে বেডরুমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় শিমুকে। অর্থাৎ, পরিবারের কাছে শিমুর সকাল ৭টায় শুটিংয়ে যাওয়ার যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তদন্তের বর্ণনায় হত্যাকাণ্ডের সময় তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায় না।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দেওয়া বর্ণনায় বলা হয়, তখন শিমুর ছোট ছেলে বাসার অন্য একটি কক্ষে ছিল এবং ঘুম থেকে ওঠেনি।

স্ত্রীর লাশের পাশে বসে নোবেল তার বাল্যবন্ধু এস এম আব্দুল্লাহ ফরহাদকে ফোন করেন বলে তদন্তে বলা হয়। ফরহাদ বাসায় আসার পর দুজন মিলে লাশটি বস্তায় ভরেন। এরপর গৃহপরিচারিকাকে বাইরে নাস্তা কিনতে পাঠানো হয়। তদন্তের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই সময় লাশটি দুই টুকরো করা হয় এবং নাইলনের দড়ি দিয়ে বস্তাটি সেলাই করা হয়। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বড় মেয়ে রিদ বাসায় ফেরার আগেই লাশ গাড়িতে তুলে নোবেল ও ফরহাদ বাসা থেকে বের হন।

গাড়িতে লাশ নিয়ে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছেন বলেও তদন্তের বর্ণনায় বলা হয়। উদ্দেশ্য ছিল লাশ গুম করা। সকালে সেই সুযোগ না পেয়ে তারা বাসায় ফিরে আসেন। পরে আবার কেরানীগঞ্জের দিকে যান।

তবে শিমুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সময় পরিবারের কাছে যে তথ্য ছিল, তা ছিল ভিন্ন। শিমুর বোন ফাতিমা নিশা ফোনে তাকে না পেয়ে নোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নোবেল জানান, শিমু সকাল ৭টায় শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে শুটিং করার কথা ছিল, সেখানেও তিনি পৌঁছাননি।

শিমুর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়। ১ নম্বর বর্ণনায় বলা হয়েছে, ১৭ জানুয়ারি সকালে ফাতিমা নিশা প্রথমে জিডি করেন এবং নোবেল পরে আরেকটি জিডি করেন। ২ নম্বর বর্ণনায় আবার বলা হয়েছে, নোবেল আগের রাতেই থানায় জিডি করেছিলেন। ফলে জিডি করার সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে বর্ণনাগুলো এক নয়। তবে উভয় বর্ণনাতেই নোবেলের পক্ষ থেকে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় যাওয়ার তথ্য রয়েছে।

বস্তার ভেতর থেকে তদন্তের মোড়

১৭ জানুয়ারি সকালে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছে একটি বস্তা পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। বস্তা খুলে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ লাশের পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর শিমুর গ্রিন রোডের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশি করা হয় নোবেলের গাড়িতেও।

গাড়িতে পাওয়া কিছু আলামত তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে কর্মকর্তারা জানান। সেই সময় তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘কেরানীগঞ্জে লাশটি উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তার পরিচয় বের করা হয়। এরপর পুলিশ তার গ্রিন রোডের বাসায় আসে। বাসার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি বাসায় তল্লাশি করে। শিমুর স্বামীর গাড়িও তল্লাশি করা হয়। লাশ গুম করতে দুটো বস্তা যে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই সুতারই হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। গাড়িটি ধোয়া ছিল, দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ। এরপর সে হত্যার কথা স্বীকার করে।’

আরেক বর্ণনায় বলা হয়েছে, গাড়িতে ব্লিচিং পাউডারের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায় এবং নাইলনের দড়িও পাওয়া যায়। লাশ রাখা বস্তা সেলাইয়ে ব্যবহৃত দড়ির সঙ্গে গাড়িতে পাওয়া দড়ির মিল ছিল বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।

লাশ গুমের বর্ণনা

পুলিশের তদন্ত বিবরণী অনুযায়ী, ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টার সময় শিমু শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হননি। ওই সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় বলে তদন্তে বলা হয়েছে। পরে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে শিমুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এরপর ফরহাদকে ডেকে আনা হয়। তদন্তের বর্ণনা অনুযায়ী, দুজন মিলে লাশটি বস্তায় ভরে গাড়িতে তোলেন এবং পরে সেটি গুম করার চেষ্টা করেন।

লাশটি গাড়ির ঠিক কোন অংশে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে দেওয়া বর্ণনায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। এক জায়গায় গাড়ির ট্রাঙ্কের কথা বলা হয়েছে, অন্য বর্ণনায় গাড়ির পেছনের সিট বা পেছনের অংশে রাখার কথা বলা হয়েছে। তাই এ প্রতিবেদনে শুধু গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলা হচ্ছে।

প্রথম দফায় তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরেন। দিনের বেলায় লাশ ফেলার সুযোগ না পাওয়ায় ফিরে আসেন বলে তদন্তে বলা হয়েছে। পরে রাতে আবার কেরানীগঞ্জের দিকে যান।

হযরতপুর ব্রিজ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ঝোপের মধ্যে বস্তাটি ফেলে রেখে ঢাকায় ফেরেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে গাড়ি ধুয়ে মুছে ফেলা হয় এবং ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয় বলে তাদের ভাষ্য।

এরপর নোবেল স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন এবং তাকে খোঁজার কার্যক্রমেও অংশ নেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিমুর ছোট ভাই সাইদুল ইসলাম খোকন ও বোন ফাতেমা বেগম নিশার সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় স্ত্রীকে খুঁজতে যান নোবেলও।

তদন্তে চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকজনও

শিমুর লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে চলচ্চিত্র শিল্পের লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যপদ নিয়ে পুরোনো দ্বন্দ্বের সূত্রে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের নাম আসে। জিজ্ঞাসাবাদে জায়েদ খান জানান, প্রায় দুই বছর ধরে শিমুর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ বা কথা হয়নি।

এরপর পুলিশ শিমুর স্বামী ও গৃহপরিচারিকাকে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের বক্তব্যে শিমু সকাল ৭টায় শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। তবে গাড়িতে পাওয়া আলামত ও অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ নোবেল ও তার বন্ধু এস এম আব্দুল্লাহ ফরহাদসহ ছয়জনকে হেফাজতে নেয় এবং রিমান্ডে পাঠায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নোবেল স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার সেই সময় জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় ও দাম্পত্য কলহের জেরে শিমুকে হত্যা করা হয়েছে।

লাশ উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল ও তার বন্ধু এস এম আব্দুল্লাহ ফরহাদকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় নেওয়া হয় বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে দুই ধরনের বক্তব্য

তদন্তে শিমু ও নোবেলের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে যে তথ্য উঠে আসে, তার সবটুকু পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে না। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোবেল শিমুকে নানা বিষয়ে সন্দেহ করতেন এবং তাকে মারধর করতেন। করোনাকালে শিমুর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নোবেলের ব্যবসায় ক্ষতির কারণে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে শিমু কাজ শুরু করলে তিনি সংসারের মূল উপার্জনকারী হয়ে ওঠেন এবং এ নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব বাড়ে বলে তদন্তে উঠে আসে।

মৃত্যুর কয়েক মাস আগেও শিমু স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে শিমুর ভাই শহিদুল ইসলাম খোকন তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছিলেন। তিনি সেইসময় বলেন, ‘তাদের মধ্যে তেমন কোনও কলহ ছিল না। ১৮ বছরের সংসার, তারা লাভ ম্যারেজ করেছিল। তারপরও কেন এই হত্যা বুঝতে পারছি না।’

ফলে শিমুর দাম্পত্য জীবনে কলহের মাত্রা বা তার প্রকৃতি নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের সঙ্গে পরিবারের বক্তব্যের পার্থক্য ছিল। শিমুর গ্রামের বাড়ি বরগুনার তালতলী উপজেলায়। তারা ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় থাকেন।

মায়ের মেসেজের অপেক্ষায় মেয়ে

শিমুর বড় মেয়ে ওজিহা আলিম রিদ তখন ১৬ বছরের। চার বছর পর তার বয়স এখন ২০। মাকে হারানোর পর তার জীবনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে গণমাধ্যমে কথা বলেন শিমুর বোন ফাতেমা বেগম। তিনি জানান, ওজিহার একমাত্র পৃথিবী ছিল তার মা। শিমুকে হারানোর পর সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ও তো এখন বড় হয়েছে, সব বোঝে। ওর মনে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন জাগে, এমন ঘটনা ওর সাথেই কেন হলো? ওজিহা ওর মাকে এতটাই মিস করে যে, আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। ওর দাদা বাড়ি থেকেও কেউ কোনো খোঁজ নেয় না। সব মিলিয়ে ও মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছে।’

মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাসও এখনও কাটেনি বলে জানান তিনি। ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ওজিহা আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে বলে, “আমি আম্মুকে অনেকবার কল ও মেসেজ দিয়েছি, কিন্তু আম্মু রিপ্লাই দিচ্ছে না কেন? তুমি একটু কল করো না, তোমার কল নিশ্চয়ই ধরবে। আম্মু কল ধরলে আমাকে একটু কথা বলতে বলো প্লিজ।’ ও এখনো প্রতিনিয়ত শিমুর ফেসবুক আইডিতে আর মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠায়, কলের পর কল দেয়। মায়ের কোনো উত্তর না পেয়ে হাত-পা কাঁপতে থাকে ওর। আমি চেষ্টা করছি ওকে এই ট্রমা থেকে বের করে আনতে।’

শিমুর ছোট ছেলের প্রসঙ্গেও ফাতেমা বেগম বলেন, ঘটনার সময় সে বাসায় ছিল।

তার ভাষ্য, ‘ঘটনার সময় রায়ান রুমে ছিল। ও ঘুম থেকে জেগে একনজর সব দেখেছিল। ও ওর মাকে বলতে শুনেছিল, “রায়ান আমাকে বাঁচাও।” এই শব্দটা ও এখনও ভুলতে পারেনি। ওর বাবা ওকে ধমক দিয়ে শুইয়ে দিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করছি ওর মন থেকে এসব স্মৃতি মুছে দিতে।’

বিচার দেখার অপেক্ষা

মেয়েকে হারিয়ে শিমুর মা-ও ভেঙে পড়েছেন বলে জানান ফাতেমা বেগম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিমুর প্রিয় খাবারগুলোও তার মা এখন আর খেতে পারেন না। খাবার সামনে এলেই কান্না করেন। মায়ের দ্বিতীয়বার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আপার প্রিয় খাবারগুলো মা এখন আর খেতে পারেন না। খাবার সামনে এলেই কান্না করেন। মায়ের দ্বিতীয়বার ব্রেন স্ট্রোক হয়েছে। আমাদের একটাই চাওয়া, মা যেন মরার আগে তার মেয়ে হত্যার বিচারটা দেখে যেতে পারেন। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়বিচারের আশায় আছি।’

সর্বশেষ ৫ মার্চ ২০২৬ শিমু হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। ওই দিন পর্যন্ত ৩৩ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল। শিমুর স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল ও তার বন্ধু এস এম ফরহাদ বর্তমানে কারাগারে আছেন।

অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

অভিশপ্ত রত্নপাথরের গল্প ইতিহাসে নতুন নয়, তবে ‘হোপ ডায়মন্ড’-এর মতো এত অন্ধকার ও ভয়াল ইতিহাস আর কোনও রত্নের ভাগ্যে জোটেনি। ৪৫ ক্যারেটেরও বেশি ওজনের এই গাঢ় নীল রঙের হীরাটিকে বলা হয় ‘বিশ্বের সবচেয়ে অভিশপ্ত হীরা’। কারণ, এর পেছনে লুকিয়ে আছে একের পর এক দুর্যোগ, দেউলিয়াপনা ও মৃত্যুর দীর্ঘ ইতিহাস। বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সংরক্ষিত থাকলেও, এই অভিশপ্ত হীরার মূল উৎপত্তি ভারতে।

হোপ ডায়মন্ডের লিখিত ইতিহাস শুরু হয় ১৬৬৬ সালে, যখন ফরাসি ভ্রমণকারী ও রত্ন ব্যবসায়ী জাঁ-ব্যাপটিস্ট তাভেরনিয়ে ভারতে এটি ক্রয় করেন। পরে ১৬৬৮ সালে তিনি এটি ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামের তথ্যমতে, সে সময় ভারতই ছিল হীরার একমাত্র বাণিজ্যিক উৎস এবং হীরাটি ভারতের গোলকোণ্ডা অঞ্চলের কোল্লুর খনি থেকে সংগৃহীত হয়েছিল।

তবে এই হীরার প্রকৃত উৎপত্তি ঘিরে ছড়িয়ে আছে এক রোমাঞ্চকর রহস্য। একটি প্রচলিত উপকথা অনুযায়ী, আদিতে ১১১ ক্যারেটের এই নীল হীরাটি ভারতের একটি মন্দির থেকে চুরি করা হয়েছিল, যা হিন্দু দেবী সীতাদেবীর মূর্তির চোখ হিসেবে বসানো ছিল। চুরির ঘটনা জানতে পেরে ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীরা শাপ দেয়, যিনিই এই হীরার মালিক হবেন, তার জীবনে নেমে আসবে ঘোর বিপর্যয়। যদিও এই কাহিনীর পক্ষে কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, তবে রত্নটির ওপর চেপে বসা অভিশাপের তকমাটিকে তা আরও জোরালো করেছে।

অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

পরবর্তীতে চতুর্দশ লুইয়ের জন্য তাভেরনিয়ের মূল ১১১ ক্যারেটের হীরাটি কেটে প্রায় ৬৯ ক্যারেটের ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ তৈরি করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের অরাজকতার সময় ১৭৯২ সালে রাজকীয় সংগ্রহশালা থেকে এটি চুরি হয়ে যায়। প্রায় দুই দশক গায়েব থাকার পর ১৮১২ সালে লন্ডনে হুবহু একই বৈশিষ্ট্যের একটি নীল হীরা দৃশ্যমান হয়। গবেষকদের মতে, চুরি হওয়া ফ্রেঞ্চ ব্লুকে আবার কেটে আধুনিক হোপ ডায়মন্ডে রূপ দেওয়া হয়েছিল। ১৮৩৯ সালে ‘হোপ’ ব্যাংকিং পরিবারের এক রত্ন ক্যাটালগে ৪৫.৫ ক্যারেটের এই নীল হীরার উল্লেখ মেলে এবং সেখান থেকেই এর নাম হয় ‘হোপ ডায়মন্ড’।

অভিশপ্ত রত্ন বললেই অনেক ভারতীয়র মনে কোহিনূরের কথা আসে, কিন্তু মালিকদের ধ্বংস করার ক্ষেত্রে কোহিনূরও হোপ ডায়মন্ডের সমকক্ষ নয়। ১৯১১ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, শতবর্ষ আগে ভারত থেকে খনন করে আনা হোপ ডায়মন্ডের চেয়ে বেশি অশুভ ইতিহাস সম্ভবত আর কোনও রত্নের নেই। এটি এর মালিকদের জন্য বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু, বিপর্যয়, অপমান ও চরম দারিদ্র্য বয়ে এনেছে।

 

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, হোপ ব্যাংকিং পরিবারের লর্ড হেনরি ফ্রান্সিস হোফ ও তার স্ত্রী মে ইয়োহে চরম অর্থকষ্টে পড়ে ১৯০২ সালে বিচ্ছেদ ঘটান। সর্বস্ব হারিয়ে লর্ড হেনরি হীরাটি সাইমন ফ্রাঙ্কেল নামের এক জহুরির কাছে বিক্রি করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কেল থেকে হীরাটি কেনা জাক কোলে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেন। এরপর এটি যায় রুশ যুবরাজ ইভান কানিটোভস্কির হাতে, যিনি হীরাটি কেনার কিছুদিনের মধ্যেই রুশ বিপ্লবীদের হাতে খুন হন। এছাড়া, প্যারিসের নৃত্যশিল্পী লরেন্স লাডু এই হীরাটি পাওয়ার পর ঈর্ষান্বিত প্রেমিকের হাতে নিহত হন। এমনকি হীরাটির মালিক গ্রিক ব্যবসায়ী সাইমন মানচারাইডেস ১৯১০ সালে এটি বিক্রি করার পর সপরিবারে গাড়ি দুর্ঘটনায় পাহাড়ি খাদে পড়ে মারা যান।

হীরাটির এই ভয়ঙ্কর দুর্নামকে বিক্রির কৌশল বানিয়েছিলেন ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী পিয়েরে কার্টিয়ার। আমেরিকার ধনকুবের ঐশ্বর্যময়ী এভলিন ওয়ালশ ম্যাকলিনের কাছে হীরাটি বিক্রির জন্য কার্টিয়ার চুরির গল্প ও অভিশাপের ইতিহাসকে আরও রঙিন ও নাটকীয় করে তোলেন। ১৯১১ সালে এভলিন হীরাটি কিনে নেন। তবে এটি কেনার পর তার নয় বছরের ছেলে দুর্ঘটনায় মারা যায়, স্বামী অন্য নারীর জন্য তাকে ছেড়ে যান, মেয়ে মারা যান অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে এবং চরম দেনায় ডুবে তিনি তার সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বিক্রি করতে বাধ্য হন।

১৯৪৭ সালে এভলিনের মৃত্যুর পর জহুরি হ্যারি উইনস্টন তার রত্ন সংগ্রহ কিনে নেন এবং ১৯৫৮ সালে হীরাটি স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে দান করেন। অবশ্য স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই অশুভ দুর্ঘটনার তালিকাগুলোকে অনেকটাই অতিরঞ্জিত ও ঐতিহাসিক তথ্যের ঘাটতিযুক্ত বলে মনে করে। তথ্যভিত্তিক প্রমাণ যাই থাক না কেন, মৃত্যুর মিছিলে ভরা হোপ ডায়মন্ড আজও বিশ্বের ইতিহাসের এক রহস্যময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতায় জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাহউদ্দীন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
এশিয়ান গেমসের ব্যর্থতায় জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন সালাহউদ্দীন

এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরতে হলো শূন্য হাতে। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে চতুর্থ হয় বাংলাদেশ। দলের এমন ব্যর্থতায় দুঃখ প্রকাশ করে পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

শনিবার নিশিনে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হারের পর সালাহউদ্দীন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা ভীষণ লজ্জিত। কোচ হিসেবে মনে হচ্ছে, আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে পারিনি। এটা খুবই হতাশাজনক। আমি পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা ব্যর্থ হয়েছে, এ জন্য আমরা অবশ্যই লজ্জিত। কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করার চেষ্টা করবো। তবে সত্যি বলতে, দল হিসেবে আমরা ভালো খেলতে পারিনি।’

পদক জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাওয়া বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফেরায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কোচ। তার ভাষায়, ‘এখানে সবাই জিততে এসেছিল। আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল, কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। আমরা ভালো খেলিনি। আশা করি, ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো খেলবে।’

২০১০ সালে জেতা সোনার পদক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণশক্তির দল পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে এবং ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে চতুর্থ হয় টাইগাররা।

সর্বশেষ হারটি ছিল আরও বিব্রতকর। কোরোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দল। জবাবে ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।

এই ফল বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্স নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং অধিনায়ক লিটন দাসের নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সেমিফাইনালেও তিন বলে মাত্র দুই রান করে আউট হয়েছিলেন লিটন। ব্রোঞ্জের ম্যাচে ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক নিয়ে।

তবে খেলোয়াড়দের চেষ্টা বা জয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন মানতে নারাজ সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘না, না, এটা ঠিক নয়। খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আমার মনে হয়, আমরা আমাদের খেলার পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

বোলিং নিয়েও নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন কোচ। তার কথায়, ‘আমাদের সেরা বোলাররা যে জায়গায় বল করার কথা ছিল, সেখানে করতে পারেনি। তবে স্পিনাররা খুব ভালো বল করেছে।’

ব্যাটিং বিপর্যয়কে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন সালাহউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়েও আমার মনে হয়, আমরা খুব বেশি তাড়াহুড়ো করেছি। পাওয়ার প্লের মধ্যেই যখন পাঁচ-ছয়টি উইকেট পড়ে যায়, তখন ম্যাচে ফিরে আসা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, অন্য দলগুলোর মতো আমাদের দলে অত বেশি অলরাউন্ডার নেই।’

তবে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করা সম্ভব ছিল বলেই মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই সম্ভব ছিল। আমার মনে হয়, এই উইকেটে লক্ষ্যটা তাড়া করা যেতো।’