শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, বাস আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত, বাস আটক

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল আলিম (৫০) নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করেছে পুলিশ। তবে বাসের চালক পালিয়ে গেছে।

নিহত আব্দুল আলিম দেবহাটা উপজেলার রামনাথপুর মাঠপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুল আলিম গাজীরহাট বাজার থেকে ব্যবসায়িক কাজ শেষে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে দেবীশহর এলাকায় পৌঁছালে কালীগঞ্জ থেকে সাতক্ষীরাগামী কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর সিরাজগঞ্জ-ব-১১-০০৮৬।

সংঘর্ষে আব্দুল আলিম গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা ব্লীজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি মারা যান।

দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি আটক করেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই বাসের চালক পালিয়ে যায়। নিহতের মোটরসাইকেলটিও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
ওসি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে।

Ads small one

লাবণ্যবর্তী-কাটাখালী সংযোগস্থলে জলকপাটের দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
লাবণ্যবর্তী-কাটাখালী সংযোগস্থলে জলকপাটের দাবিতে মানববন্ধন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটার কুলিয়া-শ্রীরামপুর এলাকার লাবণ্যবর্তী নদী ও কাটাখালী খালের সংযোগস্থলে দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ আগস্ট বিকেলে কুলিয়া বাজার চাররাস্তা মোড়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফেয়ার মিশন’ এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

 

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে কুলিয়া-শ্রীরামপুর খালের ওই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্লুইস গেট নির্মাণের দাবিটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফেয়ার মিশনের পরিচালক কাদের মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, উপজেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী, অধ্যাপক রাজু আহমেদ, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা প্রধান: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

যশোর প্রতিনিধি: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে। শিক্ষকেরা যথাসময়ে ক্লাসে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরাও উৎসাহিত হবে।

২৭ আগস্ট যশোর পিটিআই মিলনায়তনে মানসম্মত ও নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ সংস্কার করা হবে। সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, যেখানে শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, বিএএফ শাহীন কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. মেজবাহ উদ্দিনসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। পরে প্রতিমন্ত্রী পিটিআই প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং অপরাহ্ণে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বাইসাইকেল, শিক্ষাবৃত্তি ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করেন।

উপকূলীয় শ্যামনগরের গাবুরায় ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
উপকূলীয় শ্যামনগরের গাবুরায় ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প

রনজিৎ বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ও দুর্যোগপ্রবণ ইউনিয়ন গাবুরায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা। নর্থ আমেরিকান বাংলাদেশী ইসলামিক কমিউনিটি (নাবিক)-এর অর্থসহায়তায় ‘মহিউদ্দিন নূর রাশিদা সেন্টার’ নামে পরিচালিত হচ্ছে একটি ভাসমান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।

শ্যামনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে নদ-নদীবেষ্টিত গাবুরা ইউনিয়ন। কাঁচা রাস্তা, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে এ এলাকার চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। দুর্গম এই এলাকায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব প্রকট।

বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এখানে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি থাকায় গর্ভবতী নারীদের বড় অংশ এখনও ধাত্রীনির্ভর। ব্রতীর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশিক্ষণের অভাব, অনিরাপদ প্রসব পদ্ধতি ও অপচিকিৎসার কারণে নারী ও শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে। এ বাস্তবতায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সংস্থাটি কাজ করছ্ েকার্যক্রমের আওতায় নিয়মিত এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতিতে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প, গাইনি ক্যাম্প, অনলাইন চিকিৎসা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য থেরাপি ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। অসচ্ছল রোগীদের দেওয়া হচ্ছে বিনা মূল্যে ওষুধ। পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, ব্লাড সুগার, হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা, নেবুলাইজার ও অক্সিজেন সেবাও দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসে ৮টি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রতীর শ্যামনগর অফিসের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, চিকিৎসাসেবা ছাড়াও স্থানীয় ধাত্রীদের আধুনিক ও নিরাপদ প্রসবসেবা বিষয়ে এবং স্বাস্থ্যসহায়কদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। জটিল রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
বর্তমানে এ কার্যক্রমের আওতায় ৪ শয্যার একটি স্থল ক্লিনিক এবং ভাসমান চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি ট্রলার রয়েছে। সেবাদানে নিয়োজিত আছেন একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও তিনজন ফ্যাসিলিটেটর।

চিকিৎসার পাশাপাশি গাবুরায় দীর্ঘমেয়াদি শিশু সুরক্ষায় কাজ করছে ব্রতী। এর আওতায় ৪০০ শিশুর পুনর্বাসন, গৃহহীন পরিবারকে গৃহনির্মাণ ও সংস্কার সহায়তা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও দুর্যোগকালীন ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মানবাধিকার সচেতনতা ও বিনামূল্যে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

গাবুরা ইউপির বাসিন্দা শিক্ষক খায়রুল ইসলাম মিলন জানান, ব্রতী জল ও স্থলে ক্যাম্পের মাধ্যমে এখানকার মানুষকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।

গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জি এম মাছুদুল আলম বলেন, ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থা চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষা, অর্থসহায়তা, সুপেয় পানি সংরক্ষণে ড্রাম বিতরণ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে, যা দ্বীপবাসীর জন্য অত্যন্ত সহায়ক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী গাবুরাবাসীর জন্য ব্রতীর এই সমন্বিত উদ্যোগ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।