দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকা ও সম্পাদক জিএম নূর ইসলাম
আজহারুল ইসলাম সাদী
“ইসলাম ট্রেডার্স” স্থানীয়, আঞ্চলিক ও সকল প্রকার জাতীয় দৈনিক সাপ্তাহিক পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকা বিক্রয়ের এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম। এক কথায় সাতক্ষীরার পত্রিকাজগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ব্যক্তি জীবনে জিএম নূর ইসলাম ছিলেন একজন সফল মানুষ। তবে তাঁর এই সফলতার পেছনে ছিল নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রামের ইতিহাস। প্রায় ৪০ বছর পূর্বে আব্দুল খালেক, গোলাম মোস্তফা ও ছোট ভাই নূর ইসলামগং পরিবার পরিজন নিয়ে সাতক্ষীরার সুলতানপুরে বসতি গড়েন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত আব্দুল খালেকের সহায়তায় জিএম নূর ইসলাম সঙ্গীতা সিনেমা’র পার্শ্বে একটি মনোহরী দোকান করেন। আলতা, স্নো, পাউডার, রঙ-বেরঙের ভিউকার্ড ও সিনেমার ছোট পোস্টার সম্বলিত ক্যালেন্ডার ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বিক্রির মাধ্যমে তিনি কিছুটা স্বাবলম্বী হলেও একটা সময় মনোহরী ব্যবসাটা মনোপুত না হওয়ায় সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল এর দক্ষিণ প্রান্তে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান “ইসলাম ট্রেডার্স “ স্থানান্তর করেন। এখানে সকল প্রকার পত্রিকার এজেন্সি নেন তিনি। পত্রিকার হকাররাও তাঁর বেঁধে দেওয়া শৃঙ্খলার বাইরে যেতে পারতেননা। পুরো সাতক্ষীরা জেলায় তিনি হয়ে উঠলেন পত্রিকার এজেন্সির ক্ষেত্রে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত কোনো পত্রিকা বের হলে সার্কুলেশন ম্যানেজারদের মনে যে নামটাই প্রথমে আসত, তা হলেন জিএম নূর ইসলাম-এর “ইসলাম ট্রেডার্স”। কিছুদিন পর সাতক্ষীরা বাস টার্মিনাল এর দক্ষিণ পূর্ব প্রান্তে মেন রাস্তার পাশে জমি ক্রয় করে নিজস্ব ভবনে “ইসলাম ট্রেডার্স” পুনরায় স্থানান্তর করেন।
সাংবাদিকতার মনোবাসনা নিয়ে খুলনা থেকে প্রকাশিত হুমায়ূন কবির বালু সম্পাদিত আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তার পর একটা সময় নিজে একটা পত্রিকা বের করার সিদ্ধান্ত নেন। পত্রিকার নাম দিলেন দৃষ্টিপাত। ২০০১ সাল থেকে দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয় প্রথমে দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার কলারোয়া উপজেলা প্রতিনিধি এড আব্দুল হামিদ। পরবর্তীতে প্রকাশক জিএম নূর ইসলাম সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দৈনিক দৃষ্টিপাত কে সুপরিচিত করেন। নিজে সকল পত্রিকার এজেন্ট হওয়া ও পত্রিকা বিক্রয়ের নিজস্ব হকার বাহিনী থাকায় সার্কুলেশন ক্যাপাসিটির কারণে পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা দ্রুত ব্যাপক আকার ধারণ করে। এখানে না বল্লেন নয় ১৯৯৬ সন থেকে আমি নিজে সংবাদকর্মী হিসেবে লেখালেখি শুরু করি।
পত্রিকা পড়া ও লেখালেখির প্রসার বৃদ্ধি করতে ১৯৯৯ সনে জিএম নূর ইসলাম ভাই এর ইসলাম ট্রেডার্স এ চাকুরি শুরু করি এবং ২০০৩ সনে আমি সাতক্ষীরা রেজিস্ট্রি অফিস এ ষ্ট্যাম্প ভেন্ডার ব্যবসায় সম্পৃক্ত হই।
২০০১ সনে দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকা প্রকাশের প্রথম থেকে ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মহা মনিষীদের জীবন ভিত্তিক লেখালেখি করেছি। জিএম নূর ইসলাম দৃষ্টিপাত পত্রিকার নামানুসারে পরবর্তীতে তাঁর কাশেমপুরস্থ (মেহেদীবাগ) বাড়িতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রস্তুতকৃত দৃষ্টি পিউর ড্রিংকিং ওয়াটারও বেশ সফলতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবুর সঞ্চয়কৃত অর্থ দিয়ে মেহেদীবাগে অবস্থিত মসজিদে কূবা ‘র জন্য জায়গা ক্রয় করেন।
ইসলামিক বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিযোগীতা, মেডিকেল ও ডেন্টাল চক্ষু ক্যাম্পসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মসজিদটি। মসজিদটি প্রতিষ্ঠায় যাদের অবদান অনস্বীকার্য জিএম নূর ইসলাম তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি আমৃত্যু মসজিদটির সভাপতি ছিলেন।
এছাড়া জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে তিনি বিশিষ্ট নাগরিকদের একই প্লাটফর্মে এনে সাতক্ষীরার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। সাংবাদিকতার নামে অসদুপায় অবলম্বন-এমন নজির ইসলাম ভাইয়ের মধ্যে কখনো কেউ দেখেনি। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁর মধ্যে খুবই অসহায়ত্ব দেখা যেত। মানষিক ও শারীরিকভাবে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। স্ত্রী সম্পর্কে তিনি প্রায়ই বলতেন-জীবীত থাকাকালে তাঁদের মধ্যে কোনদিন মনোমালিন্য হয়নি। কিছুদিন বেঁচে থাকলে তিনি হয়ত সাতক্ষীরার উন্নয়নে আরও অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটা আর হলোনা। নিজ বাসভবনে পাচিলের পাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর পাশে চিরদিনের জন্য সমাহিত হলেন তিনি। তিনি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব ও পালন করেছেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাংবাদিকরা বিভক্ত হয়ে পড়লে অধিকাংশ স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আবুল কাসেম ও আসাদুজ্জামান কে সভাপতি সম্পাদক করে প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসক্লাবে গিয়ে মিটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেদিন সভাপতি আবুল কাশেম-এর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে যাওয়ার প্রাক্কালে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অভিভাবক হিসেবে জিএম নূর ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন’ “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রেসক্লাবে যাবো সকলেই।
যেয়ে হলরুমে মিটিং করবো এবং মিটিং শেষে আমরা যে যেখানেই থাকি প্রেসক্লাবে থাকবো… কাজকাম করবো। আমরা কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থায় না যাই, সকলেই সহমর্মিতার সাথে যাতে সেখানে আগমন করি। এই বিষয়টি সবাইকে মাথায় রাখতে হবে, কারণ তারাও কিন্তু আমাদের সহকর্মী, আমরা যেনো সকলেই সুন্দর একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারি, সেটা মাথায় রেখে প্রেসক্লাবে যাবো। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট









