বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
নববর্ষের পুনর্জাগরণে সংস্কৃতি ও পর্যটনের নতুন দিগন্ত

মো. মামুন হাসান
বাংলা নববর্ষ শুধু একটি তারিখের পরিবর্তন নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের গভীরতম অনুষঙ্গ, একটি সাংস্কৃতিক পুনর্জন্মের প্রতীক, যেখানে সময় নতুন করে শ্বাস নেয়, আর মানুষ ফিরে যায় তার শিকড়ে। অথচ প্রশ্ন রয়ে যায়, আমরা কি এই ঐতিহ্যকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখছি, নাকি এটিকে অর্থনীতি ও পর্যটনের শক্তিশালী উপাদানে রূপ দিতে পারছি।
একসময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল গ্রামীণ মেলা, হালখাতা, পালাগান, বাউল সুর আর লোকজ উৎসবের সহজ সরল আবহ। নদীর ঘাটে নৌকাবাইচ, গ্রামের মাঠে লাঠিখেলা, কিংবা মাটির খেলনার দোকান, সবকিছু মিলিয়ে নববর্ষ ছিল মানুষের সঙ্গে মাটির সম্পর্কের এক জীবন্ত উদযাপন। কিন্তু নগরায়ন আর ডিজিটাল জীবনের চাপে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। এখনকার উদযাপন অনেক বেশি নগরকেন্দ্রিক, সীমাবদ্ধ এবং আড়ম্বরপূর্ণ।
এই পরিবর্তনের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সম্ভাবনার নতুন দরজা। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে একটি জাতীয় পর্যটন উৎসবে রূপ দেওয়া গেলে এটি হতে পারে অর্থনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বিশেষ করে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠতে পারে নববর্ষভিত্তিক ইকো কালচারাল ট্যুরিজম। সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, উপকূলীয় জীবনের বাস্তবতা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্য মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য তৈরি হতে পারে এক ভিন্নতর অভিজ্ঞতা।
সংস্কৃতির পূর্ণজাগরণের জন্য পর্যটন শিল্পকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা জরুরি। প্রথমত, স্থানীয় লোকসংস্কৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দিতে হবে। বাউল গান, পালাগান, পিঠা উৎসব, হস্তশিল্প মেলা এগুলোকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা যেতে পারে আঞ্চলিক উৎসব, যেখানে পর্যটকরা শুধু দর্শক নয়, অংশগ্রহণকারী হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামীণ হোমস্টে চালু করে পর্যটকদের স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যেতে পারে, যা সংস্কৃতির জীবন্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। তৃতীয়ত, নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক রুট বা কালচারাল সার্কিট তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে পর্যটকরা নির্দিষ্ট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনধারা পর্যায়ক্রমে উপভোগ করতে পারবে।
এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক আয়োজন, স্থানীয় ইতিহাসচর্চা, এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে নববর্ষকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচারণা চালিয়ে বাংলা নববর্ষকে একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বিশ্বের অন্যান্য দেশ তাদের সংস্কৃতিকে উৎসবে রূপ দিয়ে পর্যটন শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশও নববর্ষকে একটি গ্লোবাল কালচারাল ফেস্টিভ্যাল হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি বেসরকারি সমন্বয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সৃজনশীল পরিকল্পনা।
বাংলা নববর্ষ আমাদের শেকড়ের গল্প বলে, আর পর্যটন সেই গল্পকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে পারে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত, যেখানে সংস্কৃতি শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক শক্তি।
সময় এসেছে নববর্ষকে শুধু উদযাপন নয়, বরং বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে দেখার। কারণ প্রতিটি নতুন বছরই শুধু ক্যালেন্ডার বদলায় না, বদলে দিতে পারে একটি দেশের সম্ভাবনার মানচিত্র। লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি প্রেসক্লাবের

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের সময়োপযোগী একটি বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে কথিত গণমাধ্যমকর্মীসহ একটি মহল।

ধর্মান্ধতার আড়ালে ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি পবিত্র ও মহান ধর্ম ইসলামও সমর্থন করেনা। বর্তমান তরুণ সমাজে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডের গুরুত্ব বোঝাতে জেলা প্রশাসকের এ বক্তব্য নিয়ে কোনভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি করার সুযোগ নেই।

মুলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরার স্থিতিশীল পরিবেশকে অস্থিতিশীল তৈরী করা অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর জামান সুমন, সাহিত্য সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদারসহ সকল সদস্য। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করার অভিযোগে ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরাবাসীকে ‘ধর্মান্ধ’ আখ্যায়িত করে জেলা প্রশাসক বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ এনে বুধবার (২৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওলামা মাশায়েখ পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলার উদ্যোগে সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের বক্তব্য সাতক্ষীরার ধর্মপ্রাণ জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং জেলার মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণœ করেছে।

 

অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা ওসমান গণী, মাওলানা মনিরুল ইসলাম বেলালী, মাওলানা রুস্তম আলী তাওহিদী, মাওলানা শাহাদাত হোসেন, মাওলানা ফারুক হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে আসছে।

 

এধরনের মন্তব্য জেলার জনগণের প্রতি অসম্মানজনক এবং অনভিপ্রেত। তারা অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদানের দাবি জানান। সমাবেশে আরও বলা হয়, কোনো সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বক্তারা। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।

এন্টার টিভির তালা উপজেলা প্রতিনিধি হলেন আবু রায়হান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
এন্টার টিভির তালা উপজেলা প্রতিনিধি হলেন আবু রায়হান

জনপ্রিয় স্যাটেলাইট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘এন্টার টিভি নিউজ’-এর তালা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আবু রায়হান।

 

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সাতক্ষীরার তালা অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি