বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাইকগাছায় শ্বশুরবাড়িতে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে যুবক আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শ্বশুরবাড়িতে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে যুবক আটক

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় হাসপাতাল মোড়ের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে সুমন শেখ (৩২) নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। বুধবার দুপুরে হাসপাতাল মোড়ের মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

আটক সুমন শেখ রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নের ধামরাইল গ্রামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণুপদ বাইন তাঁর অসুস্থ ভাইকে ডাক্তার দেখাতে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সুমন শেখ কৌশলে তাঁর পাশে বসে পকেট থেকে ৪ হাজার টাকা হাতানোর চেষ্টা করেন। টের পেয়ে বিষ্ণুপদ চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে সুমনকে আটক করে।

 

পরে সুমনের দেহ তল্লাশি করে একটি চুরির মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়, যা কিছু সময় আগে হাসপাতাল থেকে চুরি হয়েছিল বলে অন্য এক ভুক্তভোগী শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত যুবককে তাদের হেফাজতে নেয়।

 

 

 

 

 

Ads small one

সরকারি বরাদ্দে কি আসলেই বৈষম্য হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সরকারি বরাদ্দে কি আসলেই বৈষম্য হচ্ছে

নির্বাচনি এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে, সংসদে এমন অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এ নিয়ে দুপক্ষই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। আর রাজনৈতিক মহলেও চলছে নানা আলোচনা।

সর্বশেষ গত ৮ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে এ নিয়ে প্রথম বিতর্কের সূচনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি উল্লেখ করেন, ‘‘গত ৩০ এপ্রিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন চাল-গমের বরাদ্দ ‘শুধু সরকারি দলের’ সংসদ সদস্যদের আসনে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বিরোধী দলের এমপিদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে।’’

তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘‘যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, জেলা প্রশাসকদের কাছে জিআর ক্যাশ এবং জিআর রাইসের বরাদ্দ দেওয়া থাকে। টিআর ও কাবিখা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অচিরেই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

বিরোধীদলীয় সদস্যদের অভিযোগের বিপরীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর এমন সরল ব্যাখ্যার পরও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আসলেই কি বৈষম্য হচ্ছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে বিরোধী দল এমন প্রশ্ন কেন করছে? আর বৈষম্য যদি নাই হয়ে থাকে, তাহলে সরকারি দলের সদস্যরা আগে পাবেন কেন? এ নিয়েও নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতেও বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। এটি অবশ্যই বৈষম্য। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের দাবি অনুযায়ী এখন এ ধরনের আচরণের সুযোগ নেই। তাই নিয়ে একটি নীতিমালা করতে হবে। কারণ একটি এলাকার সংসদ সদস্য যে দলেরই হোক, সেখানের বরাদ্দ তো হবে সাধারণ জনগণের কল্যাণে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা বা থোক বরাদ্দসহ এ ধরনের সুবিধা বরাদ্দে বিরোধী দলের সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে অভাবী ও দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।’’

বিরোধী এমপিদের অভিযোগ, মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন বলেন, ‘‘দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু সরকারি দল, বিরোধী দল দেখে আসে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা দেখলাম, ৩০ এপ্রিলের বরাদ্দ শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে।’’ বিরোধী দলের আসনগুলোর জন্য সমতাভিত্তিক বরাদ্দ নিশ্চিতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা জানতে চান তিনি।

একই ধরনের অভিযোগ আনেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। এর বাইরেও সরকারি দলের কয়েকজন সদস্যও নিজেদের এলাকায় বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান।

এ সময় ত্রাণমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‘কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এ ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়েছে। অচিরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বরাদ্দ পৌঁছে যাবে।’’

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ২৫ লাখ টাকা এবং টিআর (টেস্ট রিলিফ) ৩০ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’’

এছাড়া কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও ২০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অতিরিক্ত বিভিন্ন সংসদীয় আসনে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সংসদ সদস্যদের ডিও এবং স্থানীয় চাহিদার আলোকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়। আশা করি শিগগিরই বিরোধী দলের সদস্যরাও বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’’

সরকারি দল আগে, বিরোধী দল পরে কেন?

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের পরে বরাদ্দ নিয়েও অনেক কথা হয়েছে। বিগত দিনে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ অভিযোগ এনেছেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার পর তাদেরও দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘‘সরকারের অগণতান্ত্রিক অনেক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একমত পোষণ করেন না। তাই তাদের প্রতি এক ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সব সময় ক্ষমতাসীনদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলকে দেওয়া হচ্ছে সবার পরে। অনেক সময় দেওয়া হচ্ছে না, আবার কম দেওয়া হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এখন আবার শোনা যাচ্ছে বিরোধী দলের এমপিদের আসনে ক্ষমতাসীন দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের বরাদ্দ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠা করা। যাতে বিরোধী এমপিরা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে না পারেন। আমরা বলবো, এ ধরনের অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করে সবার জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।’’

একই অভিযোগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের। তিনি বলেন, ‘‘সরকার মুখে গণতন্ত্র ও উদারতার কথা বললেও বাস্তবে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। যেকোনও বরাদ্দ নিজেদের দলের এমপিদের আগে দেওয়া হচ্ছে। যখন গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা হয়, তখন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষকেও অবজ্ঞা করা হচ্ছে। আশা করি সরকারপ্রধান এ বিষয়টিকে বিশেষভাবে দেখবেন।’’

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ‘‘উন্নয়ন বরাদ্দসহ যেকোনও অনুদান বরাদ্দে সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয়। হয়তো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সে অনুযায়ী হয়তো কিছু আসন একটু পরে বরাদ্দ পাচ্ছে। এটা ইচ্ছে করে করা হয় বলে মনে করি না। আশা করি আগামী দিনে এ ধরনের অভিযোগ আসবে না।’

সংকটের মাঝেও ধার-কর্জের মহাবাজেট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
সংকটের মাঝেও ধার-কর্জের মহাবাজেট

রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা এবং মন্থর বিনিয়োগ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটটি উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকার এই বাজেটকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি নির্মাণের বাজেট হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাজেটের আকার যতটা বড়, বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও ততটাই কঠিন। কারণ চলতি অর্থবছরেই সরকার রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাপক হারে ব্যাংকঋণ নিতে হয়েছে। একই সময়ে বেড়েছে সুদ ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ। এমন পরিস্থিতিতে আরও বড় বাজেট এবং আরও উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত—সেই প্রশ্ন এখন অর্থনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

একবছরে বাজেট বাড়ছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ একবছরের ব্যবধানে বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা প্রায় ১৯ শতাংশ।

সাধারণত মূল্যস্ফীতি, উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তৃতির কারণে বাজেটের আকার বাড়ানো হয়। কিন্তু যখন অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ নেই, শিল্প উৎপাদন মন্থর এবং রাজস্ব আহরণ দুর্বল, তখন এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন নিজেই একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা

আগামী অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২৫ হাজার কোটি টাকা আসবে নন-এনবিআর উৎস থেকে এবং ৬৬ হাজার কোটি টাকা আসবে করবহির্ভূত রাজস্ব থেকে।

কাগজে-কলমে এই লক্ষ্য আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। গত কয়েক বছর ধরে এনবিআর ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আমদানি কমে যাওয়া, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি, কর ফাঁকি এবং করভিত্তি সম্প্রসারণে সীমিত অগ্রগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়নি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কার ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। আর লক্ষ্য অর্জিত না হলে সরকারকে আরও বেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

রেকর্ড ঘাটতির বাজেট

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি রাখা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বড় বাজেট ঘাটতি। এই ঘাটতি পূরণে সরকারের পরিকল্পনা হলো—

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ: ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ: ১৫ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা: ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ বাজেট ঘাটতির প্রায় পুরো অংশই ঋণনির্ভর।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করতে পারে। এতে শিল্প বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঋণসেবার চাপ আরও বাড়াবে।

ঋণের চেয়ে বড় উদ্বেগ সুদ পরিশোধ

আগামী অর্থবছরের বাজেটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো সুদ পরিশোধ ব্যয়। অর্থ বিভাগ আগামী অর্থবছরে সুদ ব্যয়ের জন্য ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে। অথচ অর্থ বিভাগের নিজস্ব হিসাবেই সুদ ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা। এর অর্থ হলো বাজেট ঘোষণার সময়ই সম্ভাব্য ব্যয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কম বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের সুদ ব্যয় ছিল ৭৭ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। মাত্র ছয় বছরে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ সুদ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদ ব্যয় এমন একটি বাধ্যতামূলক ব্যয় যা এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি বা সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের যুগ শুরু

গত এক দশকে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হয়েছে। এখন সেই ঋণ পরিশোধের সময় শুরু হয়েছে।

বাজেট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে আগামী বছরগুলোতে ঋণসেবার ব্যয় আরও বাড়বে এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

সরকার আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশীয় জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বাজেটের খসড়ায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম ধাপে ধাপে সমন্বয়ের ইঙ্গিতও রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় ও খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে বাজেটের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য উচ্চ, বাস্তবতা কঠিন

আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস তুলনামূলকভাবে অনেক সতর্ক। তাদের ধারণা, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের আশপাশে থাকতে পারে।

উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগ স্থবিরতা, শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিলে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি

আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, গৃহায়ন, সামাজিক সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এডিপির বড় অংশই অর্থবছরের শেষ দিকে ব্যয় হয় এবং অনেক প্রকল্পে বাস্তবায়ন বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি দেখা যায়।

সামাজিক সুরক্ষায় বাড়তি বরাদ্দ

বিএনপি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অন্যতম অংশ ছিল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ। সে অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হবে।

সরকারের ধারণা, নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এই কর্মসূচিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নজিরবিহীন বরাদ্দ

নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৫৭ হাজার ৩০২ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকায়। মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই এই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

কৃষি খাতে টাকার অঙ্ক বাড়লেও কমছে অংশীদারত্ব

কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। জাতীয় অর্থনীতিতে খাতটির অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা বেশি।

কিন্তু মোট বাজেটের তুলনায় কৃষির অংশীদারিত্ব কমে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ ছিল। আগামী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ০৭ শতাংশে। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে কৃষি খাত আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

কালোটাকা সাদা করার নতুন সুযোগ

আসন্ন বাজেটের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ। প্রস্তাব অনুযায়ী জমি, ফ্ল্যাট বা ভবন কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ স্বেচ্ছায় ঘোষণা করে নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। কর পরিশোধের পর ওই অর্থের উৎস নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না।

সমালোচকদের মতে, এই ধরনের সুবিধা নিয়মিত করদাতাদের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং করনৈতিকতার জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। অন্যদিকে সরকারের যুক্তি হলো, এতে গোপন অর্থ আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে ফিরে আসবে।

‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ নতুন অগ্রাধিকার

প্রথমবারের মতো বাজেটে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, সাংস্কৃতিক শিল্প, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দিতে বিশেষ তহবিল, করসুবিধা ও প্রণোদনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের আশা, তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে প্রথম পরীক্ষা

সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, রাজস্ব প্রশাসনের আধুনিকীকরণ এবং ব্যবসা সহজীকরণ।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একদিকে উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু রেকর্ড ঘাটতি, ক্রমবর্ধমান ঋণনির্ভরতা, সুদ ব্যয়ের চাপ এবং রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অতএব, বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে এর আকারের ওপর নয়, বরং রাজস্ব আহরণ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর। কারণ বাজেট ঘোষণা করা তুলনামূলক সহজ; কঠিন হলো সেই বাজেটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়া।

লিচু টাটকা না রাসায়নিক মেশানো, বুঝবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
লিচু টাটকা না রাসায়নিক মেশানো, বুঝবেন যেভাবে

গরমে রসালো লিচুর চাহিদা বাড়তেই বাজারে দেখা যায় নানা ধরনের লিচু। তবে সব লিচু যে সমান ভালো বা নিরাপদ, তা নয়। অনেক সময় ফলকে বেশি টাটকা ও আকর্ষণীয় দেখাতে কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। তাই লিচু কেনার আগে কিছু সহজ বিষয় খেয়াল করলে ভালো, মিষ্টি ও তুলনামূলক নিরাপদ লিচু বেছে নেওয়া সহজ হয়।

লিচু কেনার সময় প্রথমেই ফলের রঙের দিকে নজর দিন। সাধারণত টাটকা ও পাকা লিচুর রং উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি হয়। তবে অতিরিক্ত চকচকে বা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং থাকলে সতর্ক হওয়া ভালো। খোসার গায়ে বেশি কালো বা বাদামি দাগ থাকলে বুঝতে হবে ফলটি পুরোনো বা নষ্ট হতে শুরু করেছে।

লিচুর খোসা হাত দিয়ে আলতো চাপ দিয়েও এর অবস্থা বোঝা যায়। ভালো লিচু সাধারণত সামান্য শক্ত কিন্তু কিছুটা নমনীয় অনুভূত হয়। খুব বেশি শক্ত হলে সেটি কাঁচা হতে পারে, আবার অতিরিক্ত নরম হলে ভেতরের অংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খোসার গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। লিচুর গায়ে থাকা ছোট ছোট উঁচু অংশগুলো যদি সমান ও কিছুটা ছড়ানো হয়, তাহলে ফলটি পরিপক্ব হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। খোসায় ছোট ছিদ্র বা ফাটল থাকলে সেই লিচু না কেনাই ভালো, কারণ এতে পোকা বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

সবসময় ডালসহ বা গুচ্ছ আকারে থাকা লিচু কেনার চেষ্টা করুন। এতে ফল তুলনামূলক বেশি সময় টাটকা থাকে। যদি ডাল একেবারে শুকিয়ে যায় বা সহজে ভেঙে পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে লিচু অনেক আগে পাড়া হয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কি লিচু খাওয়া নিরাপদ
লিচুর গন্ধ থেকেও এর মান বোঝা যায়। টাটকা লিচুতে সাধারণত হালকা মিষ্টি সুবাস থাকে। কিন্তু টক বা ফারমেন্টেড ধরনের গন্ধ পাওয়া গেলে সেটি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ ফলটি নষ্ট হতে শুরু করেছে।

আকার ও ওজনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গোল বা ডিম্বাকৃতির এবং তুলনামূলক ভারী লিচু সাধারণত বেশি রসালো হয়। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুতে অনেক সময় বীজ বড় এবং শাঁস কম থাকে।

কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও সহজে বোঝা যায়। লিচু হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর যদি হাতে রং লাগে বা সামান্য পানি লাগালে রং উঠে আসে, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। প্রাকৃতিকভাবে পাকা লিচু সাধারণত অতিরিক্ত চকচকে বা একদম নিখুঁত দেখায় না।

লিচু খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ময়লা ও কিছু রাসায়নিক দূর হতে পারে। খোসা ছাড়ানোর পর দ্রুত খেয়ে ফেলা ভালো। অনেকক্ষণ ছিলে রাখা লিচু না খাওয়াই নিরাপদ।