শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানে ভূমিধসে মহাসড়ক বন্ধ, আটকা হাজারো যাত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে ভূমিধসে মহাসড়ক বন্ধ, আটকা হাজারো যাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু জেলার রাউন্ডু উপত্যকায় ভূমিধসে বালতিস্তান মহাসড়ক বন্ধ হয়ে পর্যটকসহ কয়েক হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিধসে বিশালাকার পাথর সড়কে পড়ে থাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাথরগুলো সরাতে বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধস অব্যাহত থাকায় সড়কটি অন্তত শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ওই পথে যাতায়াত না করার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অতিক্রমের চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিন্ধু নদের পাশ দিয়ে বিস্তৃত ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বালতিস্তান মহাসড়কটি স্কার্দু, খারমাং, শিগড় ও গানছে জেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ঘন ঘন ভূমিধস ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

Ads small one

আশাশুনিতে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে পৈতৃক জমিতে প্রাচীর নির্মাণে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

oplus_2

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের তুয়ারডাঙ্গা গ্রামে পৈতৃক জমিতে পাকা প্রাচীর নির্মাণে বাধা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ডা. নাহিদ বেদৌরা আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজের পৈতৃক ভিটায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছিলেন ডা. নাহিদ বেদৌরা। এ সময় একই এলাকার ওবায়দুল্লাহ মোল্যা (৪৫) ও তাঁর স্ত্রী আলো মতি (৪০) নির্মাণকাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এ সময় তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল্লাহ মোল্যা বলেন, “এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের পর এক জায়গায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেব। এ নিয়ে ঝামেলা করার দরকার নেই।”

আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীদুর রহমান বলেন, “ডাক্তার ম্যাডামের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তাঁরা ডিসেম্বরের মধ্যেই এক জায়গায় বসে সমস্যার সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেহেতু তাঁরা একই শরিকের লোকজন। তবে প্রতিপক্ষও ট্রিপল নাইনে কল করে অভিযোগ করেছিল।”

কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ আটজনের নামে দুদকের মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ আটজনের নামে দুদকের মামলা

ফারুক রহমান: খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকায় শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) কাজী মো. সাবিরুল আলমসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানায়। এর আগে গত সোমবার কমিশন থেকে মামলা অনুমোদন করা হয়।

সাবিরুল আলম ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন, আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের লিড পার্টনার মো. আতাউর রহমান, ঠিকাদারি কোম্পানি মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্পের পার্টনার শেখ মাহাবুব রহমান এবং কেডিএর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডকে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কটি নির্মাণ না করে সরকারের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা সফরে গিয়ে ওই সড়কের নির্মাণ কাজে দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ না হওয়ায় কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এর সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক আলিফ হত্যা: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কি তবে মৃত্যুফাঁদ?

কাজী মামুনুর রহমান মাহিম

সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ প্রকাশের কাজ নয়; অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরাও এর অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে প্রাণ হারাতে হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ড সেই প্রশ্নকে আরও গভীর করেছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিফ সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান করতেন। তথ্য সংগ্রহে কখনো ছদ্মবেশও ধারণ করতেন তিনি। ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে তথ্য প্রকাশ করতেন। হত্যাকাণ্ডের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলনজিয়া এলাকায় শ্যামগঞ্জ–বিরিশিরি সড়কের পাশে গুলিতে নিহত হন আলিফ। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি।

আগের হামলার পরও একজন সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা জরুরি, আলিফের হত্যাকাণ্ড তা নতুন করে সামনে এনেছে। তাঁর অনুসন্ধানী কাজের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন। অনুমান বা অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনাই জরুরি।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এ মামলায় দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বকে চার দিন এবং আশিকুর রহমান প্রাঙ্গণকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এখন প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে আলিফের ওপর আগের হামলার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এ হত্যাকাণ্ডে তাঁর স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা ও দুই সন্তান অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার থাকা মানবিক ও পেশাগত দায়িত্বের অংশ।

প্রথম আলোর ১৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতান্ত্রিক সমাজে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সাংবাদিকেরা অপরাধ ও অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি হামলা, হুমকি কিংবা হত্যার ঝুঁকিতে থাকেন, তবে তা শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই বিপন্ন করে না; মানুষের জানার অধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় কার্যকর তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত না হলে দায়মুক্তির আশঙ্কা বাড়ে। এতে অপরাধের তথ্য প্রকাশে সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের দ্রুত তদন্ত করা এবং দোষীদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজেরও উচিত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনুসরণ করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকা।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যেন ভয় ও প্রাণহানির আশঙ্কায় থমকে না যায়, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সামগ্রিকভাবে সমাজের। আলিফ হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তাই শুধু একজন সাংবাদিকের জন্য নয়—এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মানুষের জানার অধিকার রক্ষারও দাবি।

সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

কাজী মামুনুর রহমান মাহিম, সাংবাদিক ও আইন-নীতি বিশ্লেষক